ঢাকা সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন

বাংলা বানানের নিয়ম-কানুন

সেলিনা আক্তার, সহকারী শিক্ষক ( বাংলা )

কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

গাজীপুর।

শিক্ষার্থী বন্ধুরা, ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের পর বাংলা ভাষা বিশ্ব সাহিত্যে সম্মানজনক স্থান অধিকার করে নেয়। একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় বিশ্বে বাংলা ভাষার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবুও যেন এই বাংলা বানান নিয়ে আমাদের বিভ্রান্তির অন্ত নেই, অনবরত বিপাকেও পড়ছি। তাই চলো, এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত থাকার জন্য আমরা আজও কিছু বাংলা বানান অনুশীলন করি।

১। সংস্কৃত ইন- প্রত্যয়ান্ত শব্দের দীর্ঘ ঈ-কারান্ত রূপ সমাসবদ্ধ হলে সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়ম- অনুযায়ী সেগুলোতে হ্রস্ব ই-কার হয়। যেমন: প্রাণী-প্রাণিবিদ্যা, প্রাণিসম্পদ, মন্ত্রী-মন্ত্রিপরিষদ, গুণী-গুণিজন।

তবে এগুলোর সমাসবদ্ধ রুপে ঈ-কারের ব্যবহার ও চলতে পারে।যেমন: প্রাণী-প্রাণীবিদ্যা,গুণী-গুণীজন।

২। শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকবে না। যেমন: ইতস্তত,কার্যত,ক্রমশ,পুনঃপুন, প্রথমত, প্রধানত, প্রায়শ, বস্তুত, ফলত, প্রয়াত।

৩। অতত্সম শব্দে বাংলায় ‘এ’ বর্ণ দিয়ে এ এবং অ্যা এই উভয় ধ্বনি নির্দেশিত হয়। যেমন: কেন, খেলা , খেলি, গেলে, গেছ, যেন, জেনো।

তবে, কিছু তদ্ভব এবং বিশেষভাবে দেশি শব্দ রয়েছে যেগুলোর য-ফলা-আ -কার যুক্ত রূপ বহুল পরিচিত। যেমন: ব্যাঙ,ল্যাঠা।

এ সব শব্দে য-ফলা অপরিবর্তিত থাকবে।

বিদেশি শব্দের ক্ষেত্র-অনুযায়ী অ্যা বা য-ফলা-আকার ব্যবহূত হবে। যেমন অ্যাম্বাসেডর, অ্যাম্বুলেন্স, অ্যাকাউন্ট,অ্যাসিড, ক্যাসেট,ব্যাংক, ভ্যাট, ম্যানেজার, হ্যাট, শ্যাডো।

৪। বাংলা অ-ধ্বনির উচ্চারণ বহু ক্ষেত্রে ও -এর মতো হয়। শব্দ শেষের এসব অ-ধ্বনি ও-কার দিয়ে লেখা যেতে পারে। যেমন কালো, খাটো, ছোটো, ভালো;

এগারো, তেরো,পনেরো, ষোলো,সতেরো,আঠারো;

করানো,খাওয়ানো,চড়ানো,চরানো,দেখানো,নামানো,

পাঠানো,বসানো, শেখানো,শোনানো,হাসানো;

কুড়ানো,নিকানো,বাঁকানো,বাঁধানো , প্যাঁচানো ;

কারো, চড়ো, জেনো, ধরো, পড়ো, বলো, বসো ,শেখো;

করানো, কোনো, দেবো, হতো, হবো;

ভবিষ্যত অনুজ্ঞায় শব্দের আদিতেও ও-কার লেখা যেতে পারে। যেমন- কোরো, বোলো, বোসো।

৫। অতত্সম শব্দে ‘ক্ষ’-এর স্থলে ‘খ’ ব্যবহূত হয়। যেমন-খিদে, খুদ, খুদে, খেত, খ্যাপা ইত্যাদি লেখা হবে।

৬। অতত্সম শব্দের শেষে প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অনুস্বার (ং) হবে। যেমন- গাং,ঢং,পালং, রং, সং ।

তবে অনুস্বারের সংগে স্বর যুক্ত হলে ঙ হবে। যেমন-বাঙালি , ভাঙা , রঙিন ,রঙের।

যেহেতু বর্তমান ও ভবিষ্যত্ কালে মধ্যম পুরুষ বা সাধারণ মধ্যম পুরুষে বাংলা অনুজ্ঞা হয় , তাই অনুজ্ঞায় ক্রিয়া পদান্তে ও-কার হয় । যেমন: দয়া করে তুমি বসো। একটা গান গাও না ভাই! তুমিও খাও। কাল একবার এসো।

অন্যদিকে, উত্তম পুরুষে ক্রিয়া পদান্তে ও-কার বাধ্যতামূলক না। যেমন: আমি কাল যাব। আমি হব সকাল বেলার পাখি। আমি ভাত খাব। আমি পড়ব।

(সূত্র:প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াত্ মামুদ ও ড. মুহম্মদ আমীন , বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৮ম শ্রেণি ) আরও জানতে চোখ রাখো ফেসবুক পেইজে ‘বাংলা বানানের নিয়ম কানুন’ গ্রুপে। দৈনিক ইত্তেফাক-এর অনুশীলন পাতায়। আমরা আছি তোমাদের সাথে নতুন নতুন বানান নিয়ে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন