ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩২ °সে


পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলা হয়

পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলা হয়

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

মিজানুর রহমান, সহকারি শিক্ষক

পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়

রহিম মিয়া পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে একটি মাটির ঘরে বসবাস করে। তিনি রান্না ঘর তৈরির জন্য মাটি এনেছেন তার ঘর সংলগ্ন পাহাড় থেকে। একদিন হঠাত্ করে বাইরে মানুষের শোরগোল শুনতে পেয়ে বাইরে যান। গিয়ে দেখেন পাহাড়ী এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিবাদ চলছে । আকাশের অবস্থা খারাপ থাকায় তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে আসেন। ঘরে ফিরে আসতেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো । স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই ঘরে ফিরে খাওয়া -দাওয়া শেষ করে শোবার ঘরে যান। ইতোমধ্যে তাদের বাচ্চা যে ঘরে শোয়া ছিলো ঘরটি মাটি চাপা পড়লো। তাদের পুরো ঘরটি ভেঙ্গে গেল। তারা দু’জন জীবিত থাকলেও তাদের বাচ্চাটি মারা গেল।

প্রশ্ন: ক. ভূমিধস কী ?

প্রশ্ন: খ. কোন ধরনের পাহাড়ে ভূমিধসের আশংকা বেশি থাকে ?

প্রশ্ন:গ. উদ্দীপকে যে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে এর জন্য কে দায়ী ? বুঝিয়ে বলো।

প্রশ্ন: ঘ.উদ্দীপকে রহিম মিয়ার পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনাটি কী ? এর ভয়াবহতা তুলে ধরো।

উত্তর:ক. পাহাড়ের মাটি ধসে পড়াকেই ভূমিধস বলা হয়।

উত্তর:খ যেসব পাহাড় বেলে পাথর বা শেল কাদা দিয়ে গঠিত, ভারি বৃষ্টিপাত হলে সেসব পাহাড়ে ভূমিধস ঘটতে পারে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি ও ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই ভূমিধস ঘটে থাকে ।

উত্তর: গ. উদ্দীপকে যে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে এর জন্য দায়ী রহিম মিয়া। তার সৃষ্ট কর্মকাণ্ডের ফলেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ভূমিধস দুটি কারণে সংঘটিত হয় । মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণ। এখানে কিন্তু রহিম মিয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। যা মানব সৃষ্ট। কারণ রহিম মিয়া রান্না ঘর তৈরি করতে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মাটি কেটে নিয়ে এসেছে। আর প্রবল বর্ষণের কারণেই ভূমিধস ঘটেছে। এই ভূমিধস রহিম মিয়ার ছেলের বাচ্চার জীবন কেড়ে নিয়েছে। রহিম মিয়া যদি মাটি কাটার আগে সাবধান হতো তাহলে তার পরিবারকে এ মারাত্মক দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হতো না। আর তার বাচ্চাকে প্রাণ দিতে হতো না। তার বাড়ি- ঘর ধ্বংস হতো না। অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো না। সুতরাং রহিম মিয়া কারণেই মানব সৃষ্ট এই মারাত্মক ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।

উত্তর:ঘ. উদ্দীপকে রহিম মিয়ার পরিবারের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনাটি হলো ভূমিধস। মানুষ ব্যাপকহারে গাছপালা ও পাহাড় কেটে ভূমিধসের ঘটনা ঘটায়। ভারীবর্ষণে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক কারণেও ভূমিধস হতে পারে। ভূমিধসের ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ভয়াবহ বিপদের কবলে পড়তে পারে। ভূমিধস হলে পাহাড়ের পাদদেশে যারা বসবাস করে তাদের ঘরবাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়তে পারে। পাহাড়ী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের অবিবেচক কার্যকলাপ তথা নির্বিচারে পাহাড় কাটা , গাছ কাটার ফলে বিভিন্ন সময় আমাদের দেশে ভূমিধসের কারণে অনেক মানুষকে প্রাণ দিতে হয়। আমাদের দেশের চট্টগ্রাম,কক্সবাজার,বান্দরবন,সিলেট,নেত্রকোণা প্রভৃতি জেলায় প্রায়ই ভূমিধস হয়ে মানুষের প্রাণহানি ও বাড়িঘর নষ্ট হয়। তাদের এই অসাবধানতা জান-মালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। উদ্দীপকে রহিম মিয়ার অসাবধানতা তার বাচ্চার জীবন কেড়ে নিয়েছে। তার বাড়িঘর , আসবাপত্র সবই ধ্বংস করে দিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে তাকে করেছে পঙ্গু।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন