ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


এইচএসসি পরীক্ষার:ফিন্যান্স,ব্যাংকিং ও বিমা

এইচএসসি পরীক্ষার:ফিন্যান্স,ব্যাংকিং ও বিমা

অর্থায়নের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট সমাজের সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বকে বোঝায়

১. মি. রাকিব একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বিভিন্ন খাতে যেমন : টেক্সটাইল, ভোগ্যপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টিল ইত্যাদিতে বিনিয়োগ করেন। গত বছর তিনি একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চিন্তা করেছিলেন। ব্যবসার শুরু করার জন্য তার ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিলো। তার নিয়োগকৃত আর্থিক ব্যবস্থাপক তাকে দ্রুত বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া এবং মুনাফা সর্বোচ্চকরণের ব্যাপারে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু মি. রাকিব আর্থিক ব্যবস্থাপকের পরামর্শ নেননি। তার মূল লক্ষ্য ছিলো সম্পদ সর্বোচ্চকরণ, মুনাফা সর্বোচ্চকরণ নয়। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনে কিছু মুনাফা ত্যাগ করতেও তৈরি ছিলেন।

ক. ব্যবসার অর্থায়ন কী ?

খ. অর্থায়নের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে কী বোঝায় ?

গ. কোন নীতি অনুযায়ী মি.রাকিব নতুন ব্যবসায় শুরু করতে চেয়েছিলেন ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. মি.রাকিবের গৃহীত সম্পদ সর্বোচ্চকরণ সিদ্ধান্তটির সাথে তুমি কি একমত? উক্তির পক্ষে যুক্তি দেখাও।

উত্তর

ক. সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করতে প্রয়োজনীয় অর্থ কোন উত্স থেকে সংগ্রহ করা হবে এবং কোন খাতে বিনিয়োগ করা হবে তার সিদ্ধান্তকে ব্যবসায় অর্থায়ন বলে।

খ. অর্থায়নের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট সমাজের সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বকে বোঝায়। সমাজের দিকে দৃষ্টি রেখে প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় দ্রব্য বা সেবার উত্পাদন এবং তা সঠিক মূল্যে বিতরণ করা উচিত। বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়ার সময় সম্পদ সর্বাধিকরণের পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। এরূপ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বাড়ে।

গ.সম্পদ সর্বাধীকরণ নীতি অনুযায়ী মি. রাকিব ব্যবসায় শুরু করতে চেয়েছিল। সম্পদ সর্বাধীকরণ নীতি অনুযায়ী ব্যবসায়ের মুনাফার দিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দিয়ে শেয়ার হোল্ডারদের শেয়ার মূল্য বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ হয় সম্পদ সর্বাধীকরণ করা। এর ফলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যেমন প্রয়োজনীয় মুনাফা অর্জন করতে পারে তেমনিই দীর্ঘমেয়াদে সুনামের সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারে এবং ব্যবসায় ও দীর্ঘমেয়াদি হয়। উদ্দীপকে মি, রাকিব আর্থিক ব্যবস্থাপকের পরামর্শ নেয় নি। তার মূল লক্ষ্য ছিল সম্পদ সর্বোচ্চকরণ করা, মুনাফা সর্বোচ্চকরণ নয়। তিনি এ লক্ষ্যে কিছু মুনাফা ও ত্যাগ করেন। তাই বলা যায় মি. রাকিবের নতুন ব্যবসায় শুরু করার সিদ্ধান্তটি ছিল সম্পদ সর্বাধীকরণ নীতির সাথে সম্পর্কিত।

ঘ. মি. রাকিবের গৃহীত সম্পদ সর্বোচ্চকরণ সিদ্ধান্তের সাথে আমি একমত। সম্পদ সর্বোচ্চকরণ সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি মুনাফাকে গুরুত্ব না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা লাভকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে সম্পদ সর্বোচ্চকরণ নিশ্চিত হয়। এক্ষেত্রে অর্থের সময়মূল্য বিবেচনা করা হয়। উদ্দীপকে সফল ব্যবসায়ী মি. রাকিব টেক্সটাইল, ভোগ্যপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল ও স্টিল ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। তিনি একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করছিলেন। ব্যবসায় শুরু করতে তার ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন। তার নিয়োগকৃত আর্থিক ব্যবস্থাপক তাকে দ্রুত বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া ও মুনাফা সর্বোচ্চকরণের পরামর্শ দিলেন। তিনি ঐ পরামর্শ বর্জন করে সম্পদ সর্বোচ্চকরণের সিদ্ধান্ত নেন। মুনাফা সর্বোচ্চকরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ের স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য অর্জিত হলেও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্থ হয়। অন্যদিকে সম্পদ সর্বোচ্চকরণের ফলে ব্যবসায়ের দীঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়। একই সাথে ব্যবসায়িক ও আর্থিক ঝুঁকি কমে। কারণ এটি অর্থের সময়মূল্যে বিনিয়োগ ঝুঁকি ও নগদ প্রবাহকে বিবেচনা করে, যা মুনাফা সর্বোচ্চকরণে গণ্য করা হয় না। এজন্যই উদ্দীপকে মি. রাকিব সম্পদ সর্বোচ্চকরণের সিদ্ধান্তটি বেছে নিয়েছেন।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন