ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


ট্রেন দুর্ঘটনা ও ভ্রমণের নিরাপত্তা

ট্রেন দুর্ঘটনা ও ভ্রমণের নিরাপত্তা

যোগাযোগব্যবস্থায় সড়কপথের তুলনায় রেলপথে ভ্রমণ করা নিরাপদ এবং আরামদায়ক। অথচ রেল যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হতে পারেনি। বর্তমানে ট্রেন দুর্ঘটনার হার বাড়ছে। কোনোভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে রেলপথের সিলেট রুট হয়ে উঠেছে মরণফাঁদ। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কসবা উপজেলায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। গত ১২ নভেম্বর ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী তূর্ণা-নিশীথা সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে কয়েকটি বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখে কারো কোনো অবহেলা থাকলে সে অনুযায়ী যথার্থ ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। বাস্তবে রেল কর্তৃপক্ষের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে ট্রেন দুর্ঘটনা!

পরিসংখ্যান বলছে, বিগত নয় মাসে রেলের সিলেট রুটে অন্তত ১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কসবা উপজেলায় রেল দুর্ঘটনায়ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় রেল দুর্ঘটনার পরও তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। বিভিন্ন সময়ে ঘটা দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে রেল কর্তৃপক্ষ তাত্ক্ষণিক তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দুর্ঘটনার কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়ার কাজটি যথাযথভাবে পালন করা হলে চার মাস পরই পুনরায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার সংবাদ শুনতে হলো কেন দেশবাসীকে? প্রতিটি দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হিমঘরেই পড়ে থাকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত আড়াই বছরে রেল দুর্ঘটনায় (নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-গাজীপুর) নিহত আট শতাধিক। আহত ও পংগুত্ব বরণ করেছেন ছয় শতাধিক। শুধু রেলওয়ে পুলিশের হিসাব মতে, মৃত্যুর সংখ্যা ৭০০।

অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং, অপরিকল্পিত সংযোগ সড়ক, দায়িত্বরতদের অবহেলা, নানা যান্ত্রিক ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং সচেতনতার অভাবের পাশাপাশি রেলে দুর্ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর অব্যবস্থাপনাও কম দায়ী নয়।

ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কসবা উপজেলায় ট্রেনের দুর্ঘটনায় শোক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রেনচালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং রেল সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনাটি দ্রুতই বাস্তবায়ন হোক। অনেক সময় চালকের অসতর্কতায় সিগন্যাল জটিলতায় দুর্ঘটনায় পড়ে প্রাণ হারাচ্ছন ট্রেনযাত্রীরা। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কর্মীদের দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি সব লাইনে ডিজিটাল সিগন্যাল চালু করা অতীব জরুরি। রেলপথ নিরাপদ করার জন্য ট্রেনচালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবলসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। পাশাপাশি রেল দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে, দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করার দায়িত্বও পালন করতে হবে সরকারকে।

মৌলভীবাজার

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন