ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


নদনদী ও জলাশয় দূষণমুক্তও করতে হবে

নদনদী ও জলাশয়  দূষণমুক্তও করতে হবে

ভয়াবহ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানযোগ্য পানি দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭০০ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারছে না। অনিয়মিত বৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশ্বব্যাপী পানি সমস্যার ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যে কারণে পানীয় জলের সংকট দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তাই পৃথিবীর অনেক দেশ পানযোগ্য পানি সংরক্ষণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং পানির অপচয় রোধে জনগণকেও সচেতন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশও পানি সংকট থেকে মুক্ত নয়। নদীমাতৃক দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত। নদনদী, পুকুর ও খাল-বিলের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ায় পানীয়জলের জন্য ভূপৃষ্টের পানির পরিবর্তে ভূগর্ভস্থ পানির ওপরই আমাদের নির্ভরতা। কৃষিকাজে সেচের জন্যও ব্যাপক পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়বে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে শুষ্ক মৌসুমে সারা দেশেই চাহিদা অনুযায়ী বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব দেখা দিতে পারে। শুধু খাবার পানি বা ব্যবহারের পানিই নয়, বরং সেচের পানিরও তীব্র সংকট দেখা দেওয়াও বিচিত্র নয়। ইতিমধ্যেই নদ-নদীর অতিমাত্রায় দূষিত পানি দিয়ে উত্পাদিত শাকসবজি ও ফসলে মারাত্মক দূষণ পাওয়া গেছে। এইসব দূষিত খাবার মানবদেহে বিভিন্ন জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির সংকট অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে। এর প্রধান কারণ, অধিক জনসংখ্যার চাপ। কৃষিকাজে অতিমাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য আমাদের খাল-বিল-নদনদীর পানিকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। যে কারণে প্রায় সারা বছরই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এমনকি গ্রামাঞ্চলেও খাবার পানির সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। পরিবেশ ও নদনদী দখলমুক্ত করা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন সোচ্চার হলেও পানিদূষণ নিয়ে বা দূষণ প্রতিরোধে তেমন সোচ্চার হতে দেখা যায় না। সরকারের পক্ষ থেকেও পানি সংরক্ষণের ব্যাপারে বা পানির অপচয় রোধে জনগণকে সচেতন করতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু নদনদী দখলমুক্ত করলেই চলবে না, নদ-নদী ও জলাশয়ের পানি দূষণমুক্ত রাখার ব্যবস্থাও নিতে হবে।

পানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করার আগেই সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিশুদ্ধ পানির অভাবে যদি সাধারণ মানুষ দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হয়, তাহলে মহামারী আকারে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। কাজেই পানি সংরক্ষণের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। সারাদেশেই বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিশুদ্ধ পানির জলাধার নির্মাণ করা যায়। বৃষ্টির পানির পাশাপাশি নদ-নদীর পানি পরিশোধন করে ঐসব জলাধারে সংরক্ষণ করতে হবে। দেশের নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর ইত্যাদি দখলমুক্ত ও ভরাটমুক্ত রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পানি দূষণমুক্ত ও সংরক্ষণ করাও জরুরি। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য শুধু ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত নয়, তৃষ্ণামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।

ফরিদপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১০ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন