ঢাকা সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

গরুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, পেঁয়াজে কেন নয়?

গরুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, পেঁয়াজে কেন নয়?

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ

ভারত গরু রপ্তানি বন্ধ করায় আমরা কোরবানিসহ সারা বছরের পশু চাহিদা পূরণে সফলতা লাভ করেছি। চাল রপ্তানি বন্ধ করায় আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। তাহলে পেঁয়াজে পারব না কেন? ভারতের সঙ্গে আমাদের খেলোয়াড়রা ডাবল সেঞ্চুরি করতে না পারলেও পেঁয়াজ ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছে! পেঁয়াজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে রসিকতা-সমালোচনার শেষ নেই। তার ওপর মানুষের হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির দেওয়া বক্তব্য। গত ৮ নভেম্বর তিনি বলেছেন, ‘আপাতত ১০০ টাকার কমে পেঁয়াজ পাওয়ার সম্ভবনা নেই।’ মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর এ মন্তব্য ব্যবসায়ীদের জন্য এমনি তো নাচুনি বুড়ি তারপর আবার ঢোলে বাড়ি পড়ার মতোই। সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সবই যদি প্রধানমন্ত্রী নিয়ন্ত্রণ করবেন, তাহলে অন্যান্য মন্ত্রীর থাকার কী প্রয়োজন?

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছে ২৯ সেপ্টেম্বর। তখন সরকারি হিসাব অনুযায়ী চাহিদা ছিল প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার টন। স্বাভাবিক সময় প্রতিদিন ৬ হাজার টন করে চাহিদা থাকে। সেই হিসাবে আরো দেড় মাস পেঁয়াজের অভাব হওয়ার কথা নয়। তাই সহজেই অনুমান করা যায়, কিছু মুনাফালোভী ইচ্ছা করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। পেঁয়াজের সংকট কাটাতে টিসিবি ৩৫টি ট্রাক দিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করলেও তা যথেষ্ট নয়। পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ থাকলেও দাম লাগামহীন। এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে অসাধু সিন্ডিকেট কাজ করছে। ভাবতে অবাক লাগে—অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে সরকার অসহায়!

দাম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা। মজুদকারী ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিলসহ মজুদ করা পণ্য সরকারি আওতায় বিক্রি এবং আর্থিক জরিমানাসহ কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। ব্যবসায়ীদের ওপর টাকা জরিমানা কোনো প্রভাব ফেলে না; কারণ প্রায় সবাই অঢেল টাকার মালিক। তাই আইন সংশোধন করে টাকার জরিমানা বাড়ানো প্রয়োজন এবং কারাদণ্ডসহ সামাজিকভাবে অপমানিত হয় তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত নয়—ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ, দুর্নীতি দমন কমিশন, সরকারি কৃষিপণ্য বিপণন সংস্থাসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সদস্যদের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। উত্পাদন হয় ২৩ লাখ ৭৬ হাজার টন। উত্পাদন ও মজুদ পর্যায়ে ২৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়। সব বাদ দিলে দেশীয় সরবরাহ দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৮২ হাজার টন। অবশিষ্ট চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। দেশীয় উত্পাদনে প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ হয়, বাকি থাকে ৩০ শতাংশ—যা উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নানাবিধি কার্যক্রম নিয়ে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি কৃষকদের পেঁয়াজ উত্পাদনে উত্সাহিত করতে নানামুখি কার্যক্রম গ্রহণ অত্যাবশ্যক। আমরা জানি পেঁয়াজ শীতকালীন ফসল। আমাদের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বারি পেঁয়াজ-২, ৩ এবং বারি ৫ জাতের তিনটি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবন করছেন। সরকার পেঁয়াজের স্থায়ী সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।

পরিশেষে, ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সরকার সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে জনসাধারণকে লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির হাত থেকে রক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখবে—এটাই প্রত্যাশা।

মুন্সীগঞ্জ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন