ঢাকা সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োগ ও প্রভাব

সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োগ ও প্রভাব

মাহমুদুর রহমান খাঁন

পথচারী ও গণপরিবহনের নিরাপত্তা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর কোনো বিকল্প নেই। এই আইনের মাধ্যমে লাখো শিক্ষার্থী ও জনতার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সড়ক আইন কার্যকর করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

বাংলাদেশ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষণামতে, দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ১২,০০০ মানুষ নিহত ও ৩৫,০০০ আহত হন। এসব দুর্ঘটনা ঘটার পিছনে কি শুধুই চালকদের কিংবা পথচারীদের দোষ রয়েছে? কিছু কিছু ক্ষেত্রে চালক বা পথচারী যে কোনো একপক্ষের দোষ থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দু’পক্ষকেই দোষ দিতে হয়। নতুন আইনে আইন ভঙ্গকারী চালক এবং পথচারী উভয়ের জন্যই কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। ফলে পথচারীরাও যেমন সাবধান হবেন, তেমনি চালকদের মধ্যেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই আইন সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। চালকরা যেমন যত্রতত্র প্রতিযোগিতা বা বিশৃঙ্খলা করতে ভয় পাবেন, তেমনি পথচারীরাও আইনকে ভয় করে যত্রতত্র রাস্তার মাঝে দৌড়ে বা হেঁটে পার না হয়ে ফুটওভারব্রিজ বা জেব্রাক্রসিং ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন।

সড়কগুলোতে প্রায়ই মারাত্মক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৫৫ ব্যক্তির প্রাণহানি হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরনো আইনের শিথিলতায় চালকরা দোষী প্রমাণ হওয়া সত্ত্বেও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি তাদের হতে হতো না। নতুন আইনটি দোষী প্রমাণিত হলে চালকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পথচারীরাও ক্ষতিপূরণ পাবেন। নিবন্ধন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় চলাচলে জরিমানার বিধান থাকায় পরিবহন মালিকরাও সচেতন হবেন। তাঁরা নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যানবাহন ত্রুটিমুক্ত রাখবেন। ফলে নিশ্চিত হবে চালক ও যাত্রীদের নিরাপদ পথচলা। যথাযথ স্থানে মোটরযান পার্কিং করলে রাস্তায় অযথা যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে না। ট্রাফিক আইন মেনে চললে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

আমাদের দেশ অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে যুগপোযোগী নানা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে অনেকাংশেই এর পরিবর্তন ঘটছে। তাই চালকদের জন্য অষ্টম শ্রেণি এবং সহকারী চালকদের জন্য পঞ্চম শ্রেণি পাস বাধ্যতামূলক করা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। রাস্তায় বিভিন্ন দিক নির্দেশনা পড়া ও বোঝার জন্যে হলেও প্রাতিষ্ঠানিক এই শিক্ষাটুকুর প্রয়োজন আছে। এছাড়াও গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইলফোনে কথা বললে জরিমানা ও শাস্তির বিধান রাখায় দুর্ঘটনা কমবে এবং গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়বে। লাইসেন্সহীন হেলপার ও অন্যান্য ব্যক্তি গাড়ি চালানোর সাহস পাবে না। চালকরাও আর হেলপারদের হাতে স্টিয়ারিং তুলে দিয়ে আরামে ঘুমিয়ে পড়বেন না। বারবার আইন ভঙ্গ করার ফলে পয়েন্ট কেটে নেওয়ায় চালকরা আইন মানতে আরো বেশি সতর্ক থাকবেন। এমনকি নতুন আইনে যখন-তখন ভাড়া বাড়ার সমস্যা থেকে যাত্রীরা মুক্তি পাবেন।

সকলকে মনে রাখতে হবে সড়ক ও পরিবহন খাতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই এই আইন তৈরির উদ্দেশ্য। পরিবহন ধর্মঘটকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই দক্ষ ও যোগ্য চালক রয়েছেন। আশা করি—তাঁরা গুটিকয়েক অসাধু ব্যক্তি, চালক এবং পরিবহন মালিকের নির্দেশ বা ইশারায় দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে সচেতন নাগরিক হিসেবে বাধার সৃষ্টি করবেন না। আইন সবার জন্য সমান। আপনি যখন পথে হেঁটে যাবেন তখন আপনি একজন পথচারী, আবার আপনি যখন চালকের আসনে বসবেন তখন আপনিই চালক। তাই চলুন সকলে মিলে আইনকে শ্রদ্ধা করি।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন