ঢাকা সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ

শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশ

স্বাধীনতার অবিনাশী এবং অবিস্মরণীয় চেতনাবোধ মানবচিত্তে দেশপ্রেম জাগায়। ৯ মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম জাতির সর্বোচ্চ অর্জন। তাই মুক্তিযুদ্ধের মহান মূল্যবোধ ও চেতনা মন-মানসে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে জাতীয় জীবনে সুনাগরিক ও দেশপ্রেমিক জনশক্তির প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল চেতনার বিকাশ ঘটাতে প্রয়োজন পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও নিবিড় পরিচর্যা। সর্বোপরি সৃষ্টিশীল এবং ফলপ্রসূ কর্মসূচির মাধ্যমে কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মাঝে বিস্তার ঘটাতে হবে স্বাধীনতার গৌরবগাথা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সুনাগরিক গড়ার লক্ষ্যে শিশু-কিশোরদেরকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানানোর বিকল্প নেই। অবিকৃত ইতিহাসের পরিপূর্ণ শিক্ষাই হতে পারে মক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগানোর প্রথম পদক্ষেপ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিপূর্ণভাবে জানার জন্য অবশ্য পাঠ্য ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থ দুটি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়মিতভাবে গ্রন্থ দুটির ধারাবাহিক পাঠ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতার চেতনাবোধের বাস্তবধর্মী, জীবনঘনিষ্ঠ অনুভূতির উদ্বোধন ঘটাবে। গ্রন্থ দুটির তাত্পর্য শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া আবশ্যক। শিশুদের কাছে কার্টুন বিনোদনের একটি জনপ্রিয় উপকরণ। তাই শিশুদের মন-মানসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ প্রোথিত করতে একটি কার্টুন সিরিজ নির্মাণ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অ্যানিমেশন ভিডিও, ভিডিও গেমস তৈরি করেও শিশুদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়গাথার প্রচার সম্ভব।

এছাড়া শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গল্পচ্ছলে বললে শিক্ষার্থীরা এ বিষয় আয়ত্ত করতে পারবে। অ্যাসেম্বলির সময় মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসসমূহ (২১ ফেব্রুয়ারি, ৭ মার্চ, ২৫ মার্চ, ২৬ মার্চ, ১৫ আগস্ট, ১৪ ডিসেম্বর, ১৬ ডিসেম্বর ইত্যাদি) সম্পর্কে ধারণা দেওয়া যেতে পারে। গল্পচ্ছলে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলির ওপর লিফলেট প্রচার করা যায়। মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সংগ্রামী সূর্যসন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী। তাই জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান ও আলোচনা শিশুদের নবচেতনায় অনুপ্রাণিত করবে, উদ্ভাসিত করবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শিশুদের তাই নিয়মিত সেশন স্বাধীনতার চেতনার স্ফুরণ ঘটাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অবদানকে সম্মান জানাতে শিখবে। মুক্তিযুদ্ধের ওপর আসাইনমেন্ট লিখতে দেওয়া বা রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বরচিত কবিতা ও গল্পের সমন্বয়ে স্মারক ম্যাগাজিন বা দেয়াল পত্রিকা প্রকাশ, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবসসমূহ উদ্যাপন প্রভৃতি কার্যক্রমে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেও মুক্তিযুদ্ধের সুমহান আদর্শের বিস্তরণ সম্ভব। অভিভাবকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। সরকারের নির্দেশনায় বিদ্যালয়গুলিতে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্নার থেকে শিশুরা মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও মর্মবাণী আত্মস্থ ও উপলব্ধির সুযোগ পাবে।

মুক্তিযুদ্ধের শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকমণ্ডলীকে আন্তরিক হতে হবে। পরিবার থেকে সচেতনভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে। এভাবে সকলের প্রচেষ্টায় একটি শিশুর মধ্যে নতুন সত্তা, নতুন মনোজাগতিক বাস্তবতার উদ্বোধনের মাধ্যমে সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকৃত দেশপ্রেমিক সুনাগরিক তৈরি করতে হবে।

বগুড়া

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন