ঢাকা সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

অতিথি পাখি মানবিক পরিবেশের বন্ধ

অতিথি পাখি মানবিক পরিবেশের বন্ধ

প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অতিথি বা পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। বাংলাদেশের নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়, বিল-ঝিল, মোহনা-চরাঞ্চল-দ্বীপ, পুকুর-জলাশয় ধীরে ধীরে এখন অতিথি পাখির আগমনে মুখর হয়ে উঠছে। শীতপ্রধান দেশের তুষারপাত থেকে বাঁচতে, খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের মতো কম শীতপ্রধান দেশে তারা আসে। পৃথিবীতে ১০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার প্রজাতির পাখি পরিযায়ী। এরা সািইবেরিয়া অঞ্চল, ইউরোপ, এশিয়া, হিমালয় থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আমাদের দেশে আসে। শীত শেষে আবার পাড়ি জমায় নিজ দেশে। এই অতিথি পাখিদের মধ্যে রয়েছে লালবুবা, বক, পানকৌড়ি, শামুককনা, গাঙ, কবুতর, থাম, পাইজ, জলপিপি, পেরিহাঁস, পাতিবাটান, পাতিকুট, গিরিয়া, পাতারি ইত্যাদি।

শীত আর অতিথি পাখি যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশে অতিথি পাখির বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত বহু স্থান রয়েছে। যেমন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সোনাদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপ, টাঙ্গুয়ার হাওর, বাইক্কা বিল, হাকালুকি হাওর, হাইল হাওর, আশুড়ার বিল, নিঝুম দ্বীপ, ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন জলাশয়, বিভিন্ন চর-দ্বীপ ইত্যাদি। বছরের পর বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশে অতিথি পাখি এলেও বিভিন্ন কারণে তাদের আসাটা কমে যাচ্ছে! অনাবাসিক অতিথি পাখির নিরাপদ জীবনযাপন ও পরিবেশ দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। অনেকে শখ মেটাতে শীত মৌসুমে অতিথি পাখি শিকারে বের হন। অনেকে আবার এ মৌসুমটাতে পাখি শিকারকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন! পাখিশিকারিরা গুলি করে (বিশেষ করে এয়ারগান দিয়ে), বিষটোপ ব্যবহার করে, জাল পেতে অতিথি পাখি হত্যায় মেতে ওঠেন। শীত মৌসুমে বাজারে সবার সামনে অতিথি পাখি বিক্রিও করতে দেখা যায়! অনেকে আবার রসনা তৃপ্তিতে বাড়িতে পরিযায়ী তথা অতিথি পাখি কিনে আনেন! যে পাখিরা শুধু জীবন ও খাবারের সন্ধানে আমাদের মতো দেশে আসে; অসচেতনতা ও লোভের বশবর্তী হয়ে কিছু লোক সেই অতিথি পাখিরই জীবন হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। মানুষের এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অতিথি পাখি প্রকৃতি-পরিবেশের বন্ধু। এরা শুধু জলাশয়ের সৌন্দর্য বাড়ায় না, উপকারও করে। ফসলের জন্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে কৃষককে সহায়তা করে থাকে। মানুষের মনের খোরাক বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অতিথি পাখির অবদান রয়েছে। যে দেশে পাখি বেশি, সে দেশে পর্যটকের সংখ্যাও বেশি। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগের ফলে পাখিরা বিষে আক্রান্ত মৃত কীটপতঙ্গ খেয়ে মারা যাচ্ছে। জলাশয়ের দূষণ বাড়ছে। তাই প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষা, মানবিকতা ও সচেতনতাই অতিথি পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য যথেষ্ট। অতিথি পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। বন্যপ্রাণী আইন-২০১২ অনুযায়ী অতিথি পাখি হত্যার দায়ে একজন অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এছাড়া পরিযায়ী পাখির মাংস, দেহের কোনো অংশ ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দুঃখের বিষয়, আইন থাকলেও আইনের প্রয়োগ নেই! মনে রাখতে অতিথিসহ সব পাখি প্রকৃতির অলংকার, সম্পদ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই প্রকৃতি-পরিবেশ পরিবর্তন হচ্ছে। যা পাখি প্রজাতির প্রতি হুমকিস্বরূপ। তাই পাখি রক্ষায় সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। অতিথি পাখিরা আমাদের দেশে আসুক, কলকাকলিতে ভরে উঠুক জলাশয়ের চারপাশ। বাড়ুক সৌন্দর্য, ভালো থাকুক পরিবেশ। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই অতিথি পাখির প্রতি মানবিক হওয়া জরুরি।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন