মফস্বলেও হোক বই মেলা

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্লাবন শুভ

মফস্বল এলাকায় বই মেলা! ভাবতেই অবাক লাগে। এতোদিন শুনে এসেছি বড় বড় শহরে বই মেলা। কিন্তু হঠাত্ মফস্বল এলাকায় বই মেলা। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী একটি মফস্বল এলাকা। যেহেতু ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় রয়েছে বহু আলোচিত কয়লাখনি। বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুলবাড়ীতে অনেকেই আসেন কয়লাখনি দেখতে।

মফস্বল এলাকাগুলোতে বই উত্সব কিংবা বই মেলা খুব একটা নজরে পড়ে না। বই পড়াকে উত্সাহিত করার মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ভ্রাম্যমাণ বই মেলার উদ্যোগ গ্রহণ করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। প্রথমে অনেকে অবাক হন এই ধরনের বই মেলার কথা শুনে। বই মেলা তাও ফুলবাড়ীর মতো উপজেলায়? বহু প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ মেলায় সহযোগিতা দেয় সাস্কৃতিক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন। এই বই মেলা উদ্বোধনের পর থেকেই বইপিপাসু বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের সমাগম ঘটে। মেলায় দেশি-বিদেশি লেখকদের দশ হাজার বই ছিল। মফস্বল এলাকায় দশ হাজার বইয়ের আয়োজন!

বই আমাদের মাঝে জ্ঞান সৃষ্টি করে, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে মানুষ্যত্বের রূপ দেয়, বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের আগ্রহী ও কৌতূহলী করে তোলে, নতুন চিন্তা-চেতনার বীজ বপণ করে আলোকিত পথ দেখায়, আমাদের সক্ষম ও যোগ্যতর করে তোলে। বই পড়ার মাধ্যমে মেধা ও মনন শাণিত হয়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায় বই। বই আছে বলেই জ্ঞান-বিজ্ঞান এত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারি মাস আসছে। ঢাকায় শুরু হবে মাসব্যাপী বই মেলা। এই বই মেলার জন্য লেখক-পাঠক-প্রকাশকগণ অপেক্ষা করে থাকেন। এই বই মেলাতে প্রকাশিত হয় সর্বাধিক সংখ্যক বই। একটি বই মেলায় পাঠক যেমন তাঁর পছন্দের বইটি খুঁজে নিতে পারেন, তেমনি একজন লেখকও তাঁর প্রকাশিত বইটি সম্পর্কে সরাসরি পাঠকের প্রতিক্রিয়া জানতে পারেন। ভাষার মাসে বই মেলার আয়োজন ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমি মনে করি, ফেব্রুয়ারি মাসে সরকারিভাবে প্রতিটি মফস্বল এলাকায় এ ধরনের বই মেলার আয়োজন করা প্রয়োজন। এতে করে মফস্বল এলাকার মানুষের মধ্যে বইয়ের প্রতি ভালোবাসাটা দৃঢ় হবে। প্রত্যেককে বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে হলে, নতুন পাঠক সৃষ্টি করতে হলে বই মেলার বিকল্প নেই। আশা করি, প্রতিটি মফস্বল এলাকায় বই মেলার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা হবে। বই মেলা পারে মানুষের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গড়ে তুলতে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমাজ থেকে নির্মূল করতে।

দিনাজপুর