ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩১ °সে


‘নিরাপদ’ পানি

‘নিরাপদ’ পানি

অমিত বণিক

বাজার থেকে আমরা কী পানি কিনে খাচ্ছি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার বিষাক্ত হয়ে পড়া পানি শোধন করতে মেশানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিন, লাইম (চুন) ও অ্যালাম (ফিটকিরি)। ফলে শোধনের পর অনেক সময় পানিতে ক্লোরিনের গন্ধ পাওয়া যায়। আবার পুরনো পাইপের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করায় অনেক সময় দুর্গন্ধ পাওয়া যায় পানিতে। কিছু এলাকায় পাইপলাইনে ফুটা করে অবৈধভাবে পানির লাইন দেওয়া হয়েছে। সেসব ফুটা দিয়ে ময়লা প্রবেশ করে পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ফুটানোর পরও সেই পানি দূষণমুক্ত হচ্ছে না। তাই অনেকেই নিরাপদ ভেবে ব্যবহার করছে জারের পানি। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে, জারের পানি বিক্রি করে বিভিন্ন পানি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান দুই হাতে টাকা আয় করলেও সে পানিও জনস্বাস্থ্যের জন্য মোটেই নিরাপদ নয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) একদল গবেষক জানিয়েছেন, রাজধানীর বাসাবাড়ি, অফিস-আদালতে সরবরাহ করা ৯৭ ভাগ জারের পানিতে ক্ষতিকর মাত্রায় মানুষ ও প্রাণীর মলের জীবাণু ‘কলিফর্ম’ রয়েছে। যা আমাদের জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য বড় বাধা! বিশুদ্ধ পানির নামে অপরিশোধিত দূষিত পানি সরবরাহের রমরমা ব্যবসা চলছে রাজধানীসহ সারা দেশেই।

সব মরণব্যাধির জন্ম দেয় দূষিত পানি—ডায়রিয়া, কলেরা, ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, টাইফয়েড, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগের মূল কারণ। ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভায় পানি সরবরাহ লাইন বিপজ্জনক। বোতল বা জারজাত পানির ৯০ ভাগই বিশুদ্ধ নয়। কেবল জারের পানিতে প্রাণঘাতী জীবাণুর উপস্থিতিই নয়, বাজারে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত পানিতেও বিএসটিআই নির্ধারিত মান না পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

নিরাপদ পানির গুরুত্ব উপলব্ধি করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টির মধ্যে প্রথমটিই নির্ধারিত হয়েছে পানি-সংশ্লিষ্ট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। কারণ ১৬ কোটি মানুষের দেশটিতে ৯৮ ভাগের জন্য পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হলেও বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে না পারা এবং মৌসুমভেদে পানি সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। জনগণের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণ করার জন্য সরকারের ১৩টি মন্ত্রণালয়ের ৩৫টি সংস্থার নানা উদ্যোগের কথা শুনেছি, কিন্তু বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর অন্যতম কারণ তাদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের বড় অভাব। এর সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। বিশুদ্ধ পানির নামে জারে করে অপরিশোধিত ও দূষিত পানিই তারা বিক্রি করছে চড়া দামে।

সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অপরিহার্য শর্ত হলো নিরাপদ সুপেয় পানি এবং ভেজালমুক্ত খাবার। এটা নিশ্চিত করা মূলত সরকারের দায়িত্ব। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে সরকারের বিভাগ রয়েছে, জনবল রয়েছে। বাজারজাত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী বিশুদ্ধ পানির নামে দূষিত মানহীন পানি বাজারজাত করছে, তাদের অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে, শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পানির ন্যূনতম মান বজায় রাখতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির বিকল্প নেই।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন