ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

আর কত তাজা প্রাণ ঝরলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে?

আর কত তাজা প্রাণ ঝরলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে?

মো. সোয়েব মেজবাহউদ্দিন

প্রতিদিন সারা দেশে ঘটে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ। সন্তান হারাচ্ছে বাবা-মা, বাবা-মা হারাচ্ছেন সন্তান, পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার টক শোতে আলোচনা হচ্ছে। জ্ঞানী লোকজনেরা বড় বড় কথা বলছেন, বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন সড়ক দুর্ঘটনা রোধে। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা কমছে না। কারণ এই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাত্ক্ষণিক তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বা নেওয়া যাচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশ চালকের লাইসেন্স আছে কি না চেক করেন, গাড়ির কাগজপত্র আছে কি না চেক করেন। তারপর মামলার পদক্ষেপ নেওয়ায় চেষ্টা করেন। আর যদি অবৈধ লেনদেন হয় তাহলে কোনো মামলা হয় না, হয় মীমাংসা। সেই চালকই আবার গাড়ি চালায়, আবার ঘটে দুর্ঘটনা, ঝরে যায় কিছু তাজা প্রাণ—এভাবেই চলছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার পর আপিলের সুযোগ না দিয়ে সরকারি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রততার সঙ্গে বিচারের ব্যবস্থা করে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এতে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কারণ কঠিন শাস্তির ভয়ে চালকরা সচেতনভাবে গাড়ি চালাবে। সড়ক দুর্ঘটনার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

আবার প্রতিটি গাড়ির চালকের ঠিকমতো লাইসেন্স আছে কি না তা ঘন ঘন পরীক্ষা করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে। তবে দেশের সড়ক, রেল, নৌ পথে প্রতিদিন মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে স্পটে যাত্রীরা মারা যাচ্ছে, আহত হয়ে বিনা চিকিত্সায় কষ্ট পেয়ে ভুগছে। পরিবারের হয়তো একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তির এভাবে অকাল প্রয়াণে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে অনেকে। কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছে না। কেউ সাহায্যের হাতও বাড়িয়ে দিচ্ছে না। ইলেকট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়ার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে—এ পর্যন্তই। অনেকে পঙ্গু হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। তাই প্রতিটি বাস এবং বাসের প্রত্যেক যাত্রীর বীমা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তি ও আহত ব্যক্তির স্বজনরা আর্থিক সহযাগিতা পেলে তাদের অনেক উপকার হবে। এবং গাড়ি বীমা করা হলে গাড়িকে বীমা কোম্পানির নিয়ম মেনে চলতে হবে। তখন চালকরা সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে বাধ্য হবে।

পরিশেষে, আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক হবে—এটাই কামনা করি।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন