ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় বন অপরিহার্য

জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় বন অপরিহার্য

পৃথিবীর প্রাণ হলো উদ্ভিদ তথা বনভূমি। বন ছাড়া জীববৈচিত্র্য তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না। পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে পৃথিবীর বনভূমি রক্ষা ছাড়া কোনো উপায় নেই। বন সুরক্ষায় ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন গত ২১ মার্চ পালন করেছে বিশ্ব বন দিবস।

পৃথিবীতে প্রায় ৪ বিলিয়ন হেক্টর বনভূমি আছে। প্রতিদিন পৃথিবী থেকে ৩৫ হাজার ৬০০ হেক্টর বনভূমি উজাড় হচ্ছে। বছরে দাঁড়ায় প্রায় ১৩ মিলিয়ন হেক্টর। বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী মাথাপিছু বনের পরিমাণ ০.৬ হেক্টর। আর বাংলাদেশে ০.০১৭ হেক্টর। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল একটি দেশ। দেশের আয়তন ১৪.৭৫৭ মিলিয়ন হেক্টর। দেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২.৫৩ মিলিয়ন হেক্টর। বন অধিদপ্তরের হিসাবমতে, বাংলাদেশের মোট ভূমির শতকরা ১৭.৫ শতাংশ বনভূমি চিহ্নিত থাকলেও আসলে বনভূমি আচ্ছাদিত বন এলাকার পরিমাণ শতকরা ৮ ভাগের বেশি নয়। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বনভূমির পরিমাণ ৩.৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে বনভূমি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। গ্রাম ও শহর অঞ্চলে ব্যাপক হারে বৃক্ষনিধনের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। দিনের বেলা দুঃসহ গরম আর রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। অসময়ে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে।

১৮৬২ সালে বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। অবিভক্ত ভারতবর্ষে ইম্পেরিয়াল ফরেস্ট সার্ভিস, প্রভিনসিয়াল ফরেস্ট সার্ভিস, সাব অর্ডিনেট ফরেস্ট সার্ভিস ছিল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির আগে বাংলাদেশের বনাঞ্চল, বেঙ্গল ও আসাম বন বিভাগদ্বয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পাকিস্তান হওয়ার পর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইস্ট পাকিস্তান সিনিয়র ফরেস্ট সার্ভিস ও সাব অর্ডিনেট ফরেস্ট সার্ভিস নামকরণ হয়। ১৯৮৯ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সৃষ্টি। এর আগে বনভূমি ছিল কৃষি অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে। দেশে বন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১.৫৩ মিলিয়ন হেক্টর। অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন ০.৭৩ মিলিয়ন হেক্টর এবং গ্রামীণ বনের পরিমাণ ০.২৭ মিলিয়ন হেক্টর। অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বনাঞ্চল জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণাধীন।

বনের বিস্তৃতি, প্রতিবেশ ও অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের বনাঞ্চলকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে—পাহাড়িবন, শালবন ও উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। বাংলাদেশের মোট বনভূমির ৪৪ শতাংশ সুন্দরবন। প্রাকৃতিক বন ছাড়াও সারা দেশে বসতবাড়ির চারিপাশে, নদী ও জলাশয়ের ধারে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা বিদ্যমান। আমরা বৃক্ষ আচ্ছাদিত বনকে গ্রামীণ বন বা বসতবাড়ি সংলগ্ন বন বলে থাকি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বনের ওপর চাপ বাড়ছে। প্রতিনিয়ত বন উজাড় হচ্ছে। তবে সরকার দেশের বিভিন্ন স্থানে সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ১৫টি এলাকাকে ৩ ভাগে ভাগ করে উডলট, কৃষি ও স্ট্রিপ বন পরিচালনা করা হচ্ছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক তথ্যে জানা যায়, এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩১ হেক্টর বনভূমি সরকারি-বেসরকারি সংস্থার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে জবর দখল হয়ে গেছে প্রায় ২ লাখ ৬৮ হাজার ২৬৫ একর বনভূমি। সব মিলিয়ে বনভূমি ধ্বংসের পরিমাণ ৪ লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ একর। ফলে হুমকিতে পড়েছে দেশের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। পরিবর্তনশীল জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বনের ভূমিকা অপরিসীম।

খুলনা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন