ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

মোবাইল ফোনে গেম

মোবাইল ফোনে গেম

মোবাইলফোনে একটা সময় বেশ গেম খেলতাম। এখনকার মতো তখনকার গেমগুলো এত জীবন্ত ছিল না। একটা ছিল ঘোড়ার গেম। প্রতিদিন তাদের খেতে দিতে হবে, গোসল করাতে হবে, খেলতে পাঠাতে হবে। এমনকি হাটে বিক্রিও করতে হবে ইত্যাদি আরো অনেক কিছু। আমি আমার একটা বড় সময় এই খেলার পেছনে কাটিয়েছি এবং ভেবেছি কিভাবে আমি ভালো ঘোড়া ব্যবসায়ী হয়ে উঠব। খেলতে খেলতে এক সময় আমি ভালো ঘোড়া ব্যবসায়ী হয়ে উঠলাম এবং আমার গেমে বেশ টাকা জমল। পারতপক্ষে এই টাকা তো আসলে কোনো টাকা না। একদিন মোবাইলফোন হারিয়ে গেল এবং গেমটা আর অন্য কোনো ডিভাইসে নামানো হয়নি; ফলে গেমটা আর কখনোই খেলা হয়নি।

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন শারীরিক খেলা বেশি হতো। বড়রা আমাদের খেলতে দিতে চাইত না। শুধু কান্নাকাটি শোনার ভয়ে আর আম্মুর কাছে নালিশ খাওয়ার ভয়ে তারা আমাদের ‘দুধভাত’ করে খেলতে নিত। আর এখন এমন যুগ যে বড় ছোট এক হয়ে গেছে। তবে এ বয়সের বাচ্চাদের শারীরিক খেলা করার কথা, অথচ তারা খেলার মাঠ ছেড়ে ছোট্ট মোবাইলের স্ক্রিনে নিজেদের সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে।

আমার বাচ্চারাও মোবাইলফোনে গেম খেলে, তবে তা খুবই কম। এই তো কিছুদিন আগে মনোযোগ বদলাতে গেম নামালাম। সম্ভবত হোম এস্কেপ গেমটার নাম। আমি গেম খেলছিলাম। এটা ঘর সাজানো ধরনের খেলা। আমার ছেলে এসে বলল, আম্মু আমার ঘর তো আরো বেশি সাজানো। কী রকম। তারপর দেখলাম সে সুন্দর করে মোবাইলফোনে সাজিয়েছে।

সেদিন বিকালে বাচ্চাদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, তোমরা কী গেম এত মনোযোগ দিয়ে খেলছ? ওরা জানাল একটা শুটিং গেম, যা হট স্পট চালু করে পরিচিত সবাই একসঙ্গে খেলতে পারে! বর্তমান সময়ে শুটিং গেমগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং শুধু নেট চালু করেই কথা বলে বলে এই গেমগুলো খেলা যায়। একদিন আমার বাসাতে এক আত্মীয় এসেছেন। তিনি হঠাত্ হঠাত্ কথা বলছেন, আমি একটু পর পর ভাবছি মনে হয় আমাকে কিছু বলছেন; কিন্তু জিজ্ঞেস করলে বলেন, না তোমাকে বলছি না। তিনি বলছিলেন, ডানে যাও তারপর অ্যাটাক দাও। আমি পরে দেখলাম সেটা ছিল একটা শুটিং গেম!

যাই হোক, অনেক অনেক কথা বলা হয়ে গেল। একটা অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে আমাদের জীবনের প্রতিটা দিন কেটে যাচ্ছে। সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে, অন্যকে নিয়ে ভাবার সময় হয়ে উঠছে না। তবে যেটাই হোক সন্তান কিংবা কাছের মানুষকে নিয়ে ভাবনার দায়িত্ব আমাদের। আপনি আমি মিলে কিন্তু আমাদের সমাজ।

একটা গেম স্বাভাবিক দৃষ্টিতে ক্ষতিকর কিছু না হলেও এটা অনেক ক্ষতির কারণ বলে মনে করি এবং একইসঙ্গে শুটিং সংক্রান্ত সকল ধরনের গেম নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন মনে করি।

(নিউজিল্যান্ডে ঘটে যাওয়া সেই ভিডিওটা দেখলাম এবং আমার কাছে মনে হলো এই লোকটা (মানুষ বলতে ইচ্ছে হলো না) একটা শুটিং গেম খেলছে। আল্লাহ সবাইকে নিরাপদে রাখুন—আমিন)

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন