ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


ক্লিন ঢাকা গ্রিন ঢাকা

ক্লিন ঢাকা গ্রিন ঢাকা

শাহজাহান আলী মূসা

রাজধানী শহরে বসবাস করা সকল নাগরিক যদি নিজেদের দায়িত্ব মনে করে শহর পরিষ্কারের দায়িত্ব নেন, তবেই সম্ভব রাজধানীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। আমরা যেমন বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখি তেমনি বাসার আশপাশও পরিষ্কার রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমার অফিস, আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আশপাশ আমাকেই পরিষ্কার করতে হবে। তবেই পরিচ্ছন্ন নগর গড়া সম্ভব হবে। সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন ঢাকা গড়তে বাসাবাড়ির ছাদে, আশপাশে বৃক্ষায়ন করার বিকল্প নেই।

সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি আমরাও যদি পরিচ্ছন্নতায় হাত লাগাই, তবে নগর পরিষ্কার হতে বাধ্য। বাসাবাড়ি এবং অফিস-আদালতের ময়লা-আবর্জনা এখানে সেখানে না ফেলে যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখি এবং প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ে সেটা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করলে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে। অনেক সময় দেখা যায়, বাসা বা প্রতিষ্ঠানের সামনে বা পাশের সড়কে ওপরেই ময়লা ফেলা হয়। আমরা কিন্তু সবাই জানি যে এভাবে ময়লা ফেলা ঠিক নয়। তবু কেন রাস্তায় ময়লা ফেলি আমরা? কারণ এর জন্য আমি কোনো জবাবদিহিতার আওতায় পড়ব না। আমার কোনো শাস্তি হবে না। রাস্তায় ময়লা ফেলার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চলাচলে পোহাতে হয় অসহনীয় দুর্ভোগ। তখন আমরা সরকার, সিটি করপোরেশনকে অবলীলায় দোষারোপ করি।

আমার বাসা, আমার অফিস-আদালত এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আশপাশের ময়লা পরিষ্কার করার দায়িত্ব যদি সিটি করপোরেশন আমাকেই দেয় এবং যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব আমি পালন করছি কি না তা তত্ত্বাবধান করে তবে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে উঠবে। কারো বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের সামনে পিছনে ও পাশের সড়কের অর্ধেকটা তাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। না রাখলে কর্তৃপক্ষ অর্থদণ্ডসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। অর্থ দণ্ডের মাধ্যমে যে অর্থ বা টাকা দায়ীর কাছ থেকে নেওয়া হবে, সঙ্গে সঙ্গেই সেই টাকা দিয়ে পরিচ্ছন্নতা-কর্মী ডেকে পরিষ্কার করাবার ব্যবস্থা করবেন সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের সামনের অর্ধেকটা পরিষ্কার করার জন্য প্রতি স্কয়ার ফুট ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত ধরা যেতে পারে। এভাবে যদি বাসাবাড়ির মালিক ও প্রতিষ্ঠানের মালিককে জরিমানা করা যায় তবে তাঁরাই নিজেরা উদ্যোগী হয়ে তাঁদের অংশ পরিষ্কার রাখবেন। কারণ যে অংশ অপরিষ্কার রাখার জন্য তার দু’তিন হাজার টাকা জরিমানা দিতে হলো, সেই অংশটুকু অনায়াসেই ৫০-১০০ টাকা দিয়ে পরিষ্কার রাখতে পারতেন।

নাগরিকের আইন মানার অভ্যাসে পরিণত করার দায়িত্ব কিন্তু সরকারের কাঁধেই বর্তায়। কারণ আইন না মানার শাস্তি তো সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে। সরকার যদি কঠোর হয় তবে অবশ্যই জনগণ আইন মানতে বাধ্য হবে। যেমন: বর্তমানে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ হওয়ায় হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল আরোহী দেখা যায় না বললেই চলে। এখন একজন মটরবাইকার কল্পনাও করতে পারেন না যে, ঢাকা শহরে হেলমেট ছাড়া বাইক চালাবেন। এটা সম্ভব হয়েছে আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগের ফলে। কেউ হেলমেট ছাড়া, লাইসেন্স ছাড়া, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া রাস্তা বের-ই হন না। কারণ অর্থদণ্ড একজন মানুষকে অনেকখানি ব্যথিত করে। এভাবে যদি রাস্তা পরিষ্কারের দায়িত্ব বাসাবাড়ি ও অফিস-আদালত এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কৃর্তপক্ষকে দেওয়া যায় এবং সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা-কর্মীরা অফিস টাইমের মতো করে নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, তবে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়া সম্ভব।

পরিচ্ছন্ন শহর গড়া সম্ভব না হলে তো আমাদেরই সমস্যা। কেননা অপরিচ্ছন্নতা, র্দুগন্ধ, জলাবদ্ধতার সমস্যা আমাদেরই পোহাতে হয়।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন