ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৩ °সে


ওদের যেন বিচার হয়

ওদের যেন বিচার হয়

বোরহান বিশ্বাস

লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার আগে দগ্ধ নুসরাতের আকুতি ছিল, ‘ওদের যেন বিচার হয়’। হ্যাঁ, বার্ন ইউনিটের বিছানায় শুয়ে মুমূর্ষু নুসরাত এভাবেই তাঁর শিক্ষক সিরাজ উদ দৌলা এবং তার সহযোগীদের ভর্ত্সনা জানিয়ে বিচার কামনা করেছিলেন।

কথিত ঐ অধ্যক্ষের কুকর্মের বিচার চেয়ে নুসরাতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছিল। পরে সেই মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে আটক করে পুলিশ। মামলা তুলে নেওয়ার হুমকিতে যখন ভীত হয়নি সোনাগাজীর সোনার মেয়ে নুসরাত, তখনই গায়ে কেরোসিন ঢেলে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। আর এ ঘটনার নাটের গুরু নুসরাতেরই ঐ শিক্ষাগুরু। যেখানে সম্পর্কটা বাবা-মেয়ে হওয়ার কথা ছিল, উল্টো ছাত্রীকেই বাজে মন্তব্য করে তার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয় নামধারী ঐ শিক্ষক। নুসরাতের খাতায় পাওয়া লেখা থেকে এমনই আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

সিরাজ উদ দৌলা ও তার লোকজন চেয়েছিলেন মামলার নিষ্পত্তি করতে। তাই কুকীর্তি ঢাকতে প্রথমে হুমকি ও পরে হত্যাচেষ্টায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। একেবারে ফিল্মি কায়দায় পরিকল্পিত উপায়ে বোরকা পরে দুর্বৃত্তরা আগুন দেওয়ার ঘটনাটি ঘটায়। মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি টলাতে পারেনি নুসরাতকে। তাই হাত বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় তাকে। কতটা হিংস্র হলে মানুষ এমন পৈশাচিক কাজ করতে পারে! এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানোর আগে নাকি রেকিও করা হয়েছে। কী অদ্ভুত সব ব্যাপার! মাদ্রাসার একজন শিক্ষক এতোটা ক্ষমতাধর, প্রভাবশালী কী করে হয়? তার ক্ষমতার উত্স কোথায়? এর আগেও এই শিক্ষক কুকীর্তি করে জেলে গেছে। আবার বেরিয়েও এসেছে। কোথা থেকে কী হয় সবকিছুর উদঘাটন করতে হবে। মানসিক বিকারগ্রস্ত শিক্ষকই শুধু পারে তার মেয়েতুল্য ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দিতে, তার শরীরে হাত দিতে। সর্বোপরি নিজ স্বার্থে পারে নৃশংসভাবে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতে।

পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন নুসরাত। ডাক্তারদের প্রাণান্তকর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সবকিছুর ঊর্ধ্বে চলে গেছেন তিনি।

নুসরাত নেই। তাঁর বাবা-মা, ভাই বেঁচে আছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁরা নুসরাত হত্যার বিচার চেয়েছেন। নুসরাতের সেই আকুতির সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে চাই ‘ওদের যেন বিচার হয়’।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন