ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


আগুনে আহত ও নিহতের ক্ষতিপূরণ

আগুনে আহত ও নিহতের ক্ষতিপূরণ

লায়ন এম এ মজিদ

বনানীর এফ আর টওয়ারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আহত ও নিহতের স্বজনেরা কি কোনো ক্ষতিপূরণ পাবেন—এ প্রশ্ন দেশবাসীর। গত ২৮ মার্চ ঢাকার বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৬ জন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এই ঘটনার পর দু্ সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হলেও সরকার, রাজউক, সিটি করপোরেশন, ভবন মালিক বা চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এমনকি কেউ চিকিত্সাসেবা প্রদানে সহায়তা করেনি বা এ ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতিও দেয়নি।

এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে ঐ ভবনে কর্মরতদের আহাজারি ও আর্তনাদ দেখে কোনো পাষাণও চোখের পানি আটকিয়ে রাখতে পারেনি। এই ভয়াবহ আগুনে যাঁরা নিহত এবং আহত হয়েছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের স্ত স্ত অফিসে কর্মরত ছিলেন। বেশ কয়েকটি তদন্ত দল তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে বলেছেন, ভবনের ত্রুটি, রাজউক ও সংশি­ষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের তদারকির অভাবই এই অগ্নিকাণ্ডের একমাত্র কারণ। আগুনের সূত্রপাত যেখান থেকেই হোক না কেন নিহত বা আহতরা এর জন্য মোটেও দায়ী নন। তাছাড়া এই দুর্ঘটনাকে কেউ দুর্ঘটনা বলেননি। এমনকি গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘এটি মৃত্যু নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।’ এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?

২০১৭ সালের ৭ জানুয়ারি সচিবালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানিয়েছিলেন, ঢাকায় ৭২ হাজার ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১০ সালে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, ঢাকায় ত্রুটিপূর্ণ নকশায় নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আছে ১০ হাজার। ২০১০ সালে একটি খবরে বলা হয়, ঢাকার ২৭ শতাংশ ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এসব খবরের পরে সংশি­ষ্ট দপ্তর এবং সংশি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ কি কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন গত ৯ বছরে? এফ আর টাওয়ারের অনুমোদিত নকশা ছিল ১৮ তলার। সেখানে ২২ তলা ভবন নির্মিত হলো কিভাবে? রাজউক কি নেই, ঐ এলাকায় রাজউকের কোনো পরিদর্শক বা কর্মকর্তা কি ছিলেন না? অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম কি যথাযথ ছিল? জরুরি নির্গমনের পথ কি ছিল? তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, কোনো কিছুই ঠিক ছিল না। তাহলে এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায় কার? আগে দেখেছি এ ধরনের ঘটনা ঘটলে লাশ পরিবহনের জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ প্রদানসহ ঘটনাস্থলেই ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দিতে। কিন্তু এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের মালিক বা সরকারের নীরবতা শুধু আহত বা নিহতের স্বজনদেরই ব্যথিত করেনি— এতে হতাশ হয়েছেন পুরো দেশবাসী।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন