ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
৩০ °সে


এগিয়ে চলাকে থামিয়ে রাখা যাবে না

এগিয়ে চলাকে থামিয়ে রাখা যাবে না

এগিয়ে যাওয়ার প্রহর এখন বাংলাদেশের। সব দিক দিয়ে। এই উন্নয়নযাত্রার দৃঢ় পদাতিকেরা স্বল্প সঙ্গতিতে, নিজস্ব সীমাবদ্ধতা উতরে, বৈরী পরিবেশকে পাশ কাটিয়ে, প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু এড়িয়ে, অপরাজনীতির কূটচালকে অবজ্ঞা করে নিজেদের লক্ষ্যযাত্রায় অবিচল। বলার অপেক্ষা রাখে না, তাদের ভয়হীন পায়ে ভর করেই জোরকদমে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু তাদের এই সমৃদ্ধিমুখী সদিচ্ছাকে কারা যেন দানবীয় নখরে খামচে ধরে পিছে টেনে রাখছে। শাসনযন্ত্রে ঘাপটি মেরে থাকারা মূলত কাদের সেবা করছে—সে প্রশ্নটা মনে জাগা মোটেও অযৌক্তিক নয়।

আমেরিকায় পিএইচডি করার সময়েই পাট দিয়ে টিন তৈরির সম্ভাবনাটা মাথায় উঁকি দিয়েছিল বাংলাদেশের নির্ভীক বিজ্ঞানী মুবারক আহমাদ খানের। যে অধ্যাপকের অধীনে পিএইচডি করছিলেন তাঁকে কিছুটা বলেছিলেনও। শুনে তিনি চমত্কৃত হয়েছিলেন এবং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন নাসার মহাকাশযানে এটি কাজে লাগানো যায় কি না ভেবে দেখা যেতে পারে। নিজের ধারণাটা বেহাত হওয়ার আশঙ্কাটা তিনি ঠিকই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই সে দেশে থাকতে এ ব্যাপারে আর টুঁ শব্দটিও করেননি। দেশে ফিরে আণবিক শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাট দিয়ে একে একে তৈরি করেছিলেন ঢেউটিন, চেয়ার, হেলমেট, কমোড ইত্যাদি। পরে পাটের পলিথিন আবিষ্কার করে চমকে দিয়েছিলেন গোটা বিশ্বকে। কিন্তু খবরের কাগজে এ খবর পড়ার পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও আর কোনো খবর নেই সে প্রকল্পের। সরষের ভূতে ধরেছে কি?

রাজশাহীর পুঠিয়ায় নিজস্ব গাভীর খামারে ইন্টারনেট ঘেঁটে ঘেঁটে বায়োগ্যাস থেকে গাড়ির জ্বালানি গ্যাস তৈরি করেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী আবদুস সালাম। প্রাথমিক পর্যায়ে দৈনিক ৪ টন গোবর দিয়ে ২০০ ঘনমিটার বায়োগ্যাস এবং তা থেকে গাড়িতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার উপযোগী সঙ্কুচিত গ্যাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন সেই ২০১৫ সালেই। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও উত্সাহ দিয়েছিলেন তাঁকে। কিন্তু তাঁর সেই নিরলস প্রয়াসকে থামিয়ে দিয়েছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর! অবৈধভাবে রাখা বিস্ফোরক গ্যাসের আগুনে চুড়িহাট্টায় প্রাণ দিতে হয় ৭০ জনকে, বিস্ফোরক অধিদপ্তর তখন নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমায়। অথচ ভারত ও চীনে বায়োগ্যাস থেকে গাড়ির জ্বালানি গ্যাস তৈরির এমন ভূরি ভূরি উদাহরণ থাকলেও এইসব সরষের ভূত সেসব আমলেই নেয় না।

পাট দিয়ে সাইকেল তৈরি করেছিলেন মোহাম্মদপুরের আবু নোমান সৈকত। এ সম্ভাবনাটাও টিকিয়ে রাখা যায়নি। দেশের খেয়ে বিদেশের সেবা করা এইসব সরষের ভূত কি থামিয়ে রাখতে পারবে আমার সোনার বাংলাদেশকে?

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন