ঢাকা শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয় কিভাবে?

পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হয় কিভাবে?

উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত মানুষ তাদের চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্য ক্রয় করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, যখন তখন কোনো কারণ ছাড়াই পণ্যের মূল্য বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে পণ্য ক্রয় করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজন হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে গণশুনানি করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করেন। ফলে ক্রেতা পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও মূল্য বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে অবহিত হন এবং তাঁর আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে পণ্য ক্রয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। যেমন আমাদের এই দেশে সম্প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে গণশুনানি হয়। কিন্তু গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ দেখানো হয়নি এবং জনসাধারণ সমর্থন পায়নি। তাই গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়েনি। সম্প্রতি মোহাম্মদপুর এলাকায় কতিপয় চাঁদাবাজের চাঁদার পরিমাণ বাড়ার কারণে টেম্পোর ভাড়া বেড়েছিল, কিন্তু জনসাধারণের চাপের মুখে সেই ভাড়া আবার আগের মতো করা হয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল চকবার আইসক্রিম কিনতে গিয়ে জানতে পারলাম, চকবার আইসক্রিমের দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। কেন, কী কারণে এই মূল্য বৃদ্ধি করা হলো তা ক্রেতা জানতেই পারল না। অথচ ক্রেতার এটা জানার অধিকার আছে। আইসক্রিম কোম্পানি কি মূল্য বৃদ্ধির জন্য কোনো গণশুনানি করেছে বা কোনো মিডিয়ায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে? যদি না দিয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি দেখার কি কেউ আছে? আইসক্রিম কোম্পানির বিরুদ্ধে কি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে? তা আমরা জানি না।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা ভোক্তা অধিকার সংস্থা কি জানেন আইসক্রিম কোম্পানি কেন এই দাম বাড়িয়েছেন? হয়তোবা জানেন হয়তোবা জানেন না। প্রায়ই ওষুধ কিনতে গেলে জানা যায় ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কসমেটিক কিনতে গেলে জানা যায় কসমেটিকের দাম বেড়েছে। আমদানি করা তেল ডালসহ অনেক ভোগ্যপণ্যের দাম এভাবে কখন, কেন, কী কারণে বৃদ্ধি পায় এবং দেশীয় বিভিন্ন কোম্পানি তাদের উত্পাদিত পণ্য কোনো কারণ ছাড়াই তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী দাম বাড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়? যেমন রমজান মাস এলে পেঁয়াজ, ছোলা ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়াজনীয় কিছু পণ্যের দাম কোনো কারণ ছাড়াই বৃদ্ধি পায়। আমদানিকারক ও উত্পাদনকারী এতই প্রভাবশালী যে সরকারের নির্দেশনাও তাঁরা মানতে চান না। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন যে আসন্ন রমজান মাসে কোনো পণ্যের দাম যেন না বাড়ে। সৌদি আরবের মতো বাংলাদেশে যেখানে পবিত্র রমজান মাসে রোজাদারের সুবিধার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম যেখানে কমানো উচিত, সেখানে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অতি লাভের আশায় অন্যায়ভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়!

গণশুনানি না করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে যৌক্তিক কারণ ছাড়া ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা যায় কি? যদি তা অন্যায় হয় তাহলে এ ব্যাপারে কোনো কোম্পানি ইচ্ছামতো পণ্যের মূল্য হঠাত্ করে বৃদ্ধি করলে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? হঠাত্ করে কোনো পণ্যের দাম বাড়ালে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিলে হয়তোবা কোনো কোম্পানি তার ইচ্ছা অনুযায়ী পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করবে না।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন