ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৬ °সে


ভূমি উন্নয়ন কর ১০ টাকার গুরুত্ব

ভূমি উন্নয়ন কর ১০ টাকার গুরুত্ব

পত্রিকায় দেখলাম ভূমিসেবা সপ্তাহের খবর। শুধু সপ্তাহ কেন? প্রতিদিন ভূমির মালিক যথাযথ সেবা পাবেন—এটাই প্রত্যাশা। স্বাধীনতার পর ভূমির রাজস্ব সকল ভূমি মালিকের ওপর প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু ১৯৯৩ সালে তত্কালীন সরকার ২৫ বিঘা পর্যন্ত ভূমির মালিকদের ভূমি রাজস্ব মওকুফ করেন। কিন্তু হোল্ডিং প্রতি ২ টাকার বিনিময়ে ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফের দাখিলা গ্রহণের বিধান রাখা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার-এর ভূমি মন্ত্রণালয়, আইন অধিশাখা-৩, প্রজ্ঞাপন স্মারক নং—৩১.০০.০০০০.০৪৪.৩৯.০২৫.১৫-৭৭(১২০০) তারিখ: ৩০ জুন ২০১৫-এ বলা হয়—‘ভূমি উন্নয়ন করের হার সময়োপযোগী ও ন্যায়ানুগ করার লক্ষ্যে সরকার ভূমি মন্ত্রণালয়ের ইতঃপূর্বে জারিকৃত ৩০/০৫/১৯৯৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন নং ভূঃমঃ/শা-৩/কর/১০০/৯২-১০৬(১০০০) বাতিলক্রমে এতদ্বারা ভূমি উন্নয়ন কর অধ্যাদেশ ১৯৭৬ (১৯৯৩ সনের ২৯ নং আইন দ্বারা সংশোধিত)-এর ৩(১এ) উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিম্নরূপ শর্তাধীন এলাকা ও ব্যবস্থাভিত্তিক প্রতি শতাংশ ভূমির বার্ষিক ভূমি উন্নয়ন করের পরিবর্তিত হার নির্ধারণ করিল—১। (ক) ব্যক্তি ও পরিবারভিত্তিক কৃষিজমির পরিমাণ ৮.২৫ একর (২৫ বিঘা) পর্যন্ত হইলে কোনো ভূমি উন্নয়ন কর দিতে হইবে না। (গ) উল্লিখিত (ক) দফায় বর্ণিত ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফের আওতাধীন কৃষিজমির সংশ্লিষ্ট প্রতিটি হোল্ডিং-এর ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ বাবদ দাখিলা প্রদানের জন্য আবশ্যিকভাবে বার্ষিক ১০.০০ (দশ) টাকা আদায় করিতে হইবে।’

এই ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ বাবদ বার্ষিক ১০ টাকা দিয়ে দাখিলা গ্রহণে ভূমি মালিকগণ শুধু অসচেতনই নন, তাঁরা জানেনই না, তেমনি ভূমি অফিসের কর্মচারীগণ দাখিলা বাবদ ১০ টাকা আদায়ে আগ্রহী নন বরং ভূমি মালিকদের নিরুত্সাহিত করেন। এর ফলে বছরের পর বছর সরকারের রাজস্ব যেমন বকেয়া থাকছে তেমনি ভূমি মালিকদের দাখিলা বাবদ দায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া ২৫ বিঘার নিচের ভূমির মালিকদের দীর্ঘদিন খাজনার দাখিলা না থাকায় ভূমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে সরকার ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলে কৃষকরা কৃষিঋণ গ্রহণের জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হলে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান কৃষকের কাছ থেকে ভূমির হালনাগাদ খাজনা রশিদ দাবি করেন। কৃষকগণ দ্রুত বিনা হয়রানিতে হাল নাগাদ খাজনার দাখিলা সংগ্রহ করতে পারেন না, ফলে ভর্তুকির হারে কৃষিঋণ কৃষক গ্রহণ করতে পারেন না। তার বদলে ঐ কৃষিঋণ ব্যাংক কর্মচারীদের সঙ্গে মিলে অকৃষককে কৃষিখাতে ঋণ প্রদান করে টার্গেট পূরণ করা হয়। অন্যদিকে কৃষকরা পুঁজির অভাবে কৃষি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে প্রতি বছর লাখ লাখ টন খাদ্যশস্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়।

তাই ভূমিসেবা সপ্তাহ কেন? ভূমিসেবা মাস ঘোষণা করে গ্রামে গ্রামে ভূমি অফিসের কর্মচারীদের নিজ উদ্যোগে ১০ টাকার বিনিময়ে হাল সনের দাখিলা প্রদানের ক্যাম্পেইন করে ভূমি মালিকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে ঝামেলা এড়ানোর জন্য আগের বছরগুলোর দাখিলা বাকিতে বা ফ্রি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন