ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
৩০ °সে


সড়ক পরিবহন আইনটি কার্যকর হোক

সড়ক পরিবহন আইনটি কার্যকর হোক

রাজধানীতে বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে অধিকাংশ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিনিবাস দায়ী। তাছাড়া বেশিরভাগ ড্রাইভার মদ্যপায়ী হওয়ায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনার হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) এক গবেষণায় রাজধানীতে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্য মিনিবাসকেই দায়ী করা হয়। সাম্প্রতিক আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর সবকটিকেই বাস ও মিনিবাসের বেপরোয়া চালনাকে দায়ী করেছে এআরআই। সংস্থাটির গবেষণা থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৬৬৬টি দুর্ঘটনায় ৬৯৯ জন নিহত এবং ১২২৭ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫৪টি দুর্ঘটনাই মিনিবাসের কারণে ঘটেছে। ২০১৭ সালে রাজধানীতে ঘটিত ২৬৩টি দুর্ঘটনায় ২৭৬ জন নিহত ও ৩৫৮ জন আহত হয়েছিল। এ বছর ১৪৫টি দুর্ঘটনায় মিনিবাসের সম্পৃক্ততা ছিল। ২০১৮ সালে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮৬ জন নিহত এবং এর মধ্যে ১৩৪টি দুর্ঘটনার কারণ মিনিবাস। মিনিবাসের চালকরা অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া হওয়ায় বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য মিনিবাসই বেশি দায়ী। ১১৬ বর্গমাইলের ঢাকা মহানগরীর ১২২টি রুটে ৬ হাজার বাস ও মিনিবাস চলাচল করলেও এর অর্ধেকই মিনিবাস। ‘ব’ সিরিজে বড় বাস ও ‘জ’ সিরিজে মিনিবাস চলাচল করছে। তার মধ্যে বড় বাস ঘন ঘন লেন পরিবর্তন করতে পারে না । তবে মিনিবাস এতোটাই বেপরোয়া যে সুযোগ পেলেই লেন পরিবর্তন করে এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার ফলে বড় বাসের তুলনায় মিনিবাস বেশি দুর্ঘটনায় ঘটায়।

মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও বাস ড্রাইভারদের গাফিলতি ও বেপরোয়া স্বভাবের কারণে দেশে প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে কত তাজা প্রাণ। এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য আরো একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। সেটি হচ্ছে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর অকার্যকারিতা। এখনো তৈরি হয়নি এর বিধিমালা। এই আইনের একাদশ অধ্যায়ে বলা হয়েছে অপরাধ, বিচার ও দণ্ড সম্পর্কে। ১০৫ নম্বরে দুর্ঘটনাসংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে—‘এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে কোনো ব্যক্তি আহত হইলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটিলে, তত্সংক্রান্ত অপরাধসমূহ পেনাল কোড, ১৮৬০ (অ্যাক্ট নং—এক্স এলভি অব ১৮৬০)—এর এতদসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে। তবে শর্ত থাকে যে পেনাল কোড, ১৮৬০ (অ্যাক্ট নং—এক্স এলভি অব ১৮৬০)—এর সেকশন ৩০৪ বি-এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হইলে বা তাহার প্রাণহানি ঘটলে, উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ বত্সর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।’

এখন প্রশ্ন—ড্রাইভারদের বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটার শাস্তি যদি পাঁচ বছর জেল বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হয় তাহলে সড়কে দুর্ঘটনা কি বন্ধ হবে? তাছাড়া জেলখানার বছর ৯ মাসে হয়। সে অনুযায়ী ৫ বছরে মূলত জেল হবে ৩ বছর ৯ মাস। এর অর্থ হচ্ছে একজন ব্যক্তিকে সড়কে হত্যার দায়ে দোষীর সাজা হবে ৩ বছর ৯ মাস। তাছাড়া জেলের পরিবর্তে ৫ লাখ টাকার সাজার বিধান থাকায় মদ্যপায়ী ড্রাইভাররা আরো বেপরোয়া হচ্ছে। সড়কে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনার হার দিন দিন বাড়ছে। এ অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনা আইন—২০১৮ সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। আইনটি আরো যুগোপযোগী এবং কঠোর হওয়া এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হচ্ছে।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন