ঢাকা সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
২৭ °সে


মেয়েদেরকে আত্মরক্ষায় প্রশিক্ষণ দিন

মেয়েদেরকে আত্মরক্ষায়  প্রশিক্ষণ দিন

নারী নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যাসহ নানা ধরনের সামাজিক অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের কারণে বাঙালি জাতির হাজার বছরের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সমাজব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন। একের পর এক ভয়ঙ্কর নারী নির্যাতনের ঘটনায় দেশের মানুষ ভীতসন্ত্রস্ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, কর্মক্ষেত্র এমনকি নিজ এলাকায়ও নারীরা নিরাপদ নয়। প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমে একাধিক নারী নির্যাতন সংক্রান্ত অপরাধের খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ঘটনাই প্রকাশ পাচ্ছে না—কারণ পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে অনেক নির্যাতিত নারী নীরবে সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা পড়ছে, অপরাধ স্বীকারও করছে; কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারের প্রভাব সমাজে তেমন পড়তে পারছে না।

যদিও এগুলো সামাজিক অপরাধ কিন্তু অপরাজনীতি এইসব অপরাধ সংঘটনে নানাভাবে প্রভাব ফেলছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অপরাধীরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবেও যথেষ্ট প্রভাবশালী। ফলে নারী নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েও তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বরং অভিযোগ করতে গিয়েও নির্যাতিতরা নানাভাবে নির্যাতিত ও হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে। সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আমাদের মূল্যবোধহীন সমাজব্যবস্থা, অনিরাপদ শিক্ষাব্যবস্থা, আইন-শৃঙ্খলার দুর্বলতা, অপরাজনীতির প্রভাব ইত্যাদির বড় প্রমাণ। এ অবস্থা চলতে থাকলে নারীরা এবং বিশেষ করে মেয়েশিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া, নারীদের কর্মক্ষেত্রে যাওয়া বা বাইরে কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যা দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক ও বিপজ্জনক।

বর্তমানে নারী নির্যাতন ও যৌন নিপীড়ন এক জাতীয় সমস্যা হিসেবেই দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে দলমত নির্বিশেষে সমগ্র জাতিকেই এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের মা, বোন ও মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। শহরে, গ্রামে, গঞ্জে, পাড়ায়, মহল্লায় সর্বত্র নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবেই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জঙ্গি ও মাদক দমনের মতোই নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করতে হবে। নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ দিতে হবে প্রতিবাদী ও সাহসী হতে। প্রতিটি এলাকায় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠন করতে হবে নারী নির্যাতনবিরোধী কমিটি এবং বিশেষ ক্ষেত্রে নিজের পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ জানাবার ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে যেসব অপরাধী ধরা পড়ছে, তাদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হলে জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে। সেইসঙ্গে অপরাধীদের মধ্যেও আতঙ্ক সৃষ্টি হবে।

ফরিদপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন