ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
২৭ °সে


এগিয়ে নিতে হবে পরিবেশবান্ধব ছোট ছোট উদ্ভাবনকে

এগিয়ে নিতে হবে পরিবেশবান্ধব ছোট ছোট উদ্ভাবনকে

সাধন সরকার

ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে দূষণ বাড়ছে। যে কোনো শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে সে শহরের পরিবেশও ভালো থাকে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বায়ুদূষণসহ বিভিন্ন দূষণের সম্পর্ক রয়েছে। পরিবেশের শত্রু নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার চলছে দেদার। প্লাস্টিক-পলিথিনের কারণে শহরের ড্রেন-নালাগুলো আটকে গিয়ে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

পরিবেশের বিভিন্ন দূষণ রোধে পরিবেশবান্ধব যথাযথ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে পরিবেশদূষণ রোধে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যাবে না, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব ছোট ছোট উদ্ভাবনকেও কাজে লাগাতে হবে। জোর দিতে হবে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বর্জ্য থেকে সার, বিদ্যুত্, বায়োগ্যাস ও আঠা উত্পাদন করা হয়। যদিও বাংলাদেশের কোনো কোনো জেলায় জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ থেকে সীমিত পরিসরে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আবার দেশের কোথাও কোথাও বর্জ্য থেকে জৈবসার ও বায়োগ্যাস উত্পাদন করা হচ্ছে। গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে জৈবসার উত্পাদন খুবই সহজ একটি পদ্ধতি। সরকারিভাবে তথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে গ্রাম-শহর পর্যায়ে কৃষকদের মাঝে এ ধারণা আরো সহজভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে বর্জ্যের দূষণ কমবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।

জনসাধারণ পর্যায়ে যে কোনো ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী সামান্য ত্রুটি দেখা দিলে পুরোপুরি ফেলে না দিয়ে বারবার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা যত বেশি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবহার, পরিশেষে তত বেশি ই-বর্জ্য বৃদ্ধি! ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিগুলো যদি তাদের বিক্রিত সামগ্রী জনসাধারণ পর্যায়ে সর্বোচ্চ ব্যবহারের পর ফিরিয়ে নিয়ে সেইসব ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী রিসাইক্লিং করার ওপর গুরুত্ব দেয়, তবে ই-বর্জ্যের দূষণ কমবে। বড় বড় প্লাস্টিক কোম্পানিগুলোর বিক্রিত সামগ্রী (সব ধরনের পানির বোতলসহ নিত্য ব্যবহূত হাজার রকম প্লাস্টিক পণ্য) ব্যবহারের পর গ্রাহক পর্যায়ে কিছু প্রণোদনার মাধ্যমে ফিরিয়ে নিয়ে রিসাইক্লিং করা হলে প্লাস্টিক দূষণ অনেকটাই কমে আসবে। প্লাস্টিক রিসাইক্লিং প্রক্রিয়া একটি বহুল ব্যবহূত বিশ্বব্যাপী আলোচিত প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের শহরে-গ্রামের বহু স্থানে ক্ষুদ্রভাবে এই রিসাইক্লিং প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। আবার ফেলনা প্লাস্টিক কুচিকুচি করে তা দিয়ে অন্যান্য সামগ্রী বানিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। ফেলনা প্লাস্টিক দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রীও তৈরি করা হয়। প্লাস্টিক কোম্পানিগুলোর রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ার জোর দেওয়ার পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণ রোধে দরকার সরকারের সহযোগিতা।

এক তথ্যে জানা গেছে যে, পাবনার ঈশ্বরদীর এক যুবক কুড়িয়ে পাওয়া পুরনো পলিথিন পুড়িয়ে তৈরি করছেন জ্বালানি তেল-পেট্রোল, ডিজেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ ও উদ্ভাবনে অরক্ষিত বর্জ্যের মাধ্যমে পরিবেশ বিনষ্টকারী পলিথিন যেমন ধ্বংস করা হচ্ছে তেমনি ব্যক্তি নিজেও লাভবান হচ্ছেন। এমন সব ছোট ছোট পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে দরকার শুধু প্রণোদনা। এছাড়া নদ-নদীতে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ ঠেকাতে নদীতে পানি যাওয়ার উত্সমুখে (নালা, ড্রেন মুখে) জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়ার প্রযুক্তিও এখন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ড্রেন-নালা দিয়ে যাওয়া নদ-নদীতে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ ঠেকানো যাচ্ছে। এ ধরনের ছোট ছোট পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে হবে। এ ধরনের উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িতদের দিতে হবে পুরস্কার ও প্রণোদনা। তাহলে অন্যরাও এমনসব পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উত্সাহিত হবেন। পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন যত বেশি কাজে লাগানো যাবে, পরিবেশদূষণ রোধ করা তত সহজ হবে।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন