ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


হারিয়ে যাচ্ছে পাখি

হারিয়ে যাচ্ছে পাখি

প্রকৃতি, পরিবেশ, বন তৈরি ও সম্প্রসারণের জন্য পাখি অপরিহার্য। পাখির কোনো বিকল্প নেই। পাখির অনুপস্থিতি যেখানে বেশি, সেখানে প্রকৃতি মৃতপ্রায়। বাংলাদেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। সে কারণে এক সময় এ দেশে প্রচুর পাখি ছিল। এই রকম আবহাওয়া পাখির বংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক। দুঃখজনক তো বটেই, একইসঙ্গে বিপদের আগামবার্তা হলো, প্রকৃতিকে আগের মতো পাখি নেই। অসংখ্য পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক পাখি হারিয়ে যেতে বসেছে। গত ১৫ বছরে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির হার সবচেয়ে বেশি। ৫৬৬ প্রজাতির পাখি ছিল। এর মধ্যে ১৯ প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পাখির মধ্যে আছে দাগিডানা, সারল, ধূসর মেটে তিতির, বালি হাঁস, গোলাপি হাঁস, বড় হাড়গিলা, ধলাপেট বগ, সাদাফোটা গগন রেড, রাজ শকুন, দাগি বুক টিয়াঠুটি, লাল মাথা টিয়াটুটি, গাছ আচড়া, সবুজ ময়ূর ইত্যাদি। যে পাখিগুলো আগে খুব দেখা যেত, এখন কম দেখা যায়—সেগুলো হলো দোয়েল, টিয়া, ময়না, বুলবুলি, চড়ুই, শ্যামা, শালিক, টুনটুনি, ঘুঘু, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা, কোকিল, চন্দনা, সাদা বক, কালিম, ডানা ঘুরানি, বউকথাকও, বাবুই ইত্যাদি। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন এবং জমিতে ব্যাপক কীটনাশক প্রয়োগ—মূলত এ দুটি কারণেই পাখি হারিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিকূলতার মাঝেও সামান্য সংখ্যক বন্যপাখি টিকে আছে। তবে তাও কতদিন থাকবে বলা মুশকিল। একদল অসাধু মানুষ বন্যপাখি ধরছে। হাটে-বাজারে বন্যপাখি প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার মিরপুর ১, কাফরুল ও টঙ্গী হাটে প্রকাশ্যে বন্যপাখি বিক্রি হয়। স্থানীয় প্রশাসন নীরব। অভিযোগ আছে—একশ্রেণির রাজনীতিকের ছত্রছায়ায় আর প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বন্যপাখি বিক্রি হচ্ছে। অথচ বন্যপ্রাণী ধরা এবং বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ—জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।

বন্যপাখি কখনোই পোষ মানে না। ডিম বাচ্চা দেয় না। পুঁষতে হলে বাজেরিগার, লাভ বার্ড, ফিঞ্চ ইত্যাদি বিদেশি পাখি খাঁচায় পোষা যেতে পারে। এসব পাখি খাঁচায় পোষা অপরাধ নয়। খাঁচায় থাকতে এরা পছন্দ করে। খাঁচায়ই এরা ডিম বাচ্চা দেয়।

পাখি বন তৈরি করে। বনের ক্ষতিপূরণ করে। পাখির কল্যাণেই বন গড়ে ওঠে। পাখি না থাকলে বন থাকবে না বলে জানান প্রখ্যাত পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। গাছের বীজ নিয়ে পাখি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে। যেটা পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ পারে না। পাখির ফেলে দেওয়া বীজ থেকে হয় গাছ। গাছের পাতা খেয়ে থাকে পোকামাকড়। আবার পোকামাকড় খেয়ে গাছের পাতাকে রক্ষা করে পাখি। গাছের পাতায় গাছ খাবার তৈরি করে থাকে। পৃথিবীর ৭০/৭৫ পাখিই পোকামাকড় খায়। এভাবে পাখি বন ও পরিবেশকে রক্ষা করে। ইনাম আল হক জানান, যদি পাখি না থাকে তবে ১০০ বছর কোনো বনই বেঁচে থাকবে না। পোকারা গাছের সব পাতা খেয়ে ফেলবে। তখন গাছ মরে গিয়ে বন ধ্বংস হবে। তাই প্রতি উপজেলায় একটি করে অভয়ারণ্য করা যেতে পারে। যেখানে পাখিরা নিরাপদে থাকবে। বংশ বৃদ্ধি করবে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অভয়ারণ্য আছে বটে। তবে সেগুলোর সঠিক দেখাশোনা নেই। সৈয়দপুরের সেতুবন্ধনসহ কিছু সংগঠন রয়েছে। যারা গাছে কলস বা হাঁড়ি বেঁধে দেওয়ার কাজ করছে। যাতে পাখি নিরাপদে ডিম, বাচ্চা করতে পারে। এটা মহত্ উদ্যোগ।

অস্ট্রেলিয়ার বনের পাখি গোল্ডিয়ান ফিঞ্চ এক সময় হারিয়ে যাচ্ছিল। সংখ্যা কমে গিয়েছিল খুব। তখন তারা দুটি পদ্ধতিতে পাখিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচায়। এক. অভয়ারণ্য সৃষ্টি। পাখির জন্য বাসা গাছে বেঁধে দেওয়া। দুই. বনের পাখিকে খাঁচার পাখিতে নিয়ে আসা। এজন্য ধাপে ধাপে তারা কাজ করে। বাংলাদেশে এই দুটি পদ্ধতিই করা সম্ভব। এ দেশে খাঁচা-পাখির অনেক বড় বড় ব্রিডার আছেন। তাঁদেরকে সরকার দায়িত্ব দিতে পারে বিলুপ্তপ্রায় পাখিকে খাঁচায় ব্রিড (ডিম, বাচ্চা) করানোর। অন্যদিকে অভয়ারণ্য সৃষ্টি করতে হবে। গাছ লাগানোর কথা যুগ যুগ ধরে বলা হচ্ছে। হাজারো উদ্যোগ। কিন্তু বনভূমির সংখ্যা বাড়ছে না। গাছের সংখ্যা দিন দিন কমছেই। অন্ধ আবেগ নয়। বাস্তবতা মাথায় রেখে বনের পাখি বাঁচাতে হবে। যুগোপযোগী আধুনিক বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন