ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


আসুন দেশীয় পণ্য কিনি

আসুন দেশীয়  পণ্য কিনি

ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। কিন্তু ভারতীয় ও চায়না পণ্যে বাজার সয়লাব। একটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, এই ঈদের বাজারেও ভৈরবে জুতার কারখানার শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছে না। পত্রিকাটি পরামর্শ দিয়েছে তাদেরকে সরকার থেকে সাহায্য ঋণ বা প্রণোদনা দেওয়ার জন্য। এটা কি সামধান? আমি মনে করি, কোনো জিনিস বা পণ্য যদি বাজারে না চলে বা বিক্রি না হয় তাহলে প্রণোদনা দিয়ে সেই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা যায় না। আমাদের দেশপ্রেমের অনেক অনেক ঘাটতি রয়েছে। আমরা যদি একটা দেশীয় পণ্য কিনি তাহলে টাকাটা কোথায় যাবে? বাংলাদেশের মালিক পাবে, শ্রমিক পাবে। সেইসঙ্গে সমৃদ্ধি হবে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ব্যবসা। আর যদি বিদেশি পণ্য কিনি—জামা, জুতা, কসমেটিকস্ যাই কিনি, টাকা কোথায় যাবে? এটা কি কেউ ভাবেন? আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা মাথায় ঘাম পায়ে ফেলে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান, সে বৈদেশিক রেমিটেন্স দিয়ে আমরা বিদেশি পণ্য কিনছি। আমরা যেসব দেশের পণ্য কিনছি, সমৃদ্ধ হচ্ছে সে সব দেশ। সেসব দেশের মালিক ও শ্রমিকরা। আমরা দেশের জন্য অনেক বড় বড় কথা বলি, কিন্তু বাজারে গিয়ে যদি বিদেশি পণ্য কিনি তাহলে দেশ কিভাবে সমৃদ্ধ হবে?

বিদেশি পণ্য কেনা দেশের জন্য ক্ষতিকর ব্যাপার। যদি মেরুদণ্ড ভাঙা থাকে তাহলে সোজা হয়ে দাঁড়ানো যায় না। আর দাঁড়ানো না গেলে হুইল চেয়ারে করে অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হবে। অর্থনীতি হচ্ছে আমাদের দেশের মেরুদণ্ড সোজা করে চলতে চাই নাকি অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে চাই। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমরা আমদানি করেছিলাম ৩৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে অর্থাত্ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আমদানি করেছি প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এক বছরেই আমাদের আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার। এক বিলিয়ন অর্থাত্ ১০০ কোটি ডলারে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৫০০ কোটি টাকা। ১০ বিলিয়ন ডলারে প্রায় ৮৪/৮৫ হাজার কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মোট উন্নয়ন বাজেটের অর্ধেক। আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্স থেকে এই আমদানি ব্যয় মেটানো হয়ে থাকে।

যে টাকা দিয়ে বিদেশি জামা, জুতা বা কসমেটিকস কিনছি, সেই টাকার অর্ধেক এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন ভাগের এক ভাগ টাকা দিয়ে একই জিনিস কেনা যায়। দেশের জিনিসটা হয়তো কম চকচকে হতে পারে। যদি দেশের জন্য একটু ছাড় দেই তাহলে দেশ বিশাল লাভবান হবে। দেশের জন্য আমরা কি একটু ছাড় দিতে পারি না? আসলে দেশের জন্য বলি কেন, এখানে বলা উচিত নিজের জন্য। দেশের উন্নতি মানে নিজের উন্নতি। দেশীয় পণ্য কিনলে টাকা দেশে থাকবে। ঋণী হবে আমাদের দেশের মহাজন। সুখে থাকবে আমাদের দেশের শ্রমিকরা। তাদের জীবনযাত্রার মান হবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য অথবা জাপানি শ্রমিকদের মতো। দেশে কর্মসংস্থান হবে কোটি কোটি লোকের। আমদানি ব্যয় কমে আসবে। সেইসঙ্গে একটি কথা—আমাদের আমদানি ব্যয়ের অধিকাংশ ব্যয় হয় বিলাসদ্রব্য সামগ্রী আমদানিতে। অথচ আমাদের দেশের শতকরা ২৪ ভাগ লোক এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। আমরা যখন দেশীয় পণ্য ব্যবহার করব তখন আমদানি ব্যয় অনেক কমে আসবে। সেই টাকা দিয়ে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। দেশ উন্নত হতে বেশিদিন লাগবে না, ২০৪১ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। ব্যাপক আকারে দেশীয় পণ্য ব্যবহার করতে পারলে ২০৩০/৩৫ সালের মধ্যেই আমরা উন্নত দেশে পরিণত হতে পারব। আমরা যদি সবাই দেশীয় পণ্য ব্যবহার করি, ব্যবসা মন্দা কী জিনিস সেটা দেশে থাকবে না, ঋণখেলাপি অনেক কমে আসবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এমনকি আমাদের দেশের ব্যবসায়িরা বিদেশে বিনিয়োগ করতে পারবেন। অর্থনীতি হবে পৃথিবীর অন্যতম সেরা অর্থনীতি। তাই আসুন দেশীয় পণ্য কিনি। আমদানি কমিয়ে আনতে অবদান রাখি। দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করি। দেশ সমৃদ্ধ হলে ব্যক্তিগত সচ্ছলতাও বাড়বে। আর দেশের উন্নতি মানে নিজের উন্নতি।

নরসিংদী

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন