ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যা প্রয়োজন

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে যা প্রয়োজন

উন্নয়নের ধারা শুধু অব্যাহত রাখাই নয়, একে আরো ত্বরান্বিত করতে সবচেয়ে বড় বাধা দুর্নীতি। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা খুব কঠিন কাজ হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আমাদের মনে রাখতে হবে, ষোলো কোটি মানুষের দেশে পাঁচ শতাংশের বেশি মানুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নয়। কাজেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে কোনো মহাপরিকল্পনা বা বড় কোনো বাজেটেরও প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র সকল ক্ষেত্রে সুষ্ঠু তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই এই সমস্যা অনেকাংশে প্রতিকার করা সম্ভব। তবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হতে হবে। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক ভাবে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, দুর্নীতিবাজদের ছাড় দেওয়া যাবে না। সারা দেশের সকল হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-আধাসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে দুদকের বর্তমান জনবল দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ করে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের এই কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। তবে তাঁদেরকে নিজ নিজ এলাকার পরিবর্তে অন্য এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিনই এই অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং কিছুদিন অব্যাহত রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে মাঝেমধ্যে পরিচালনা করতে হবে ঝটিকা অভিযান। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দুদকে সুপারিশ পাঠাতে হবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। দুর্নীতিবাজদের ধরিয়ে দিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে হবে গণমাধ্যমকে।

সবার আগে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম যাতে দুর্নীতিকে ঘৃণা করে, গড়ে তুলতে হবে তেমন শিক্ষাব্যবস্থা। শুধু পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করলেই হবে না, পরীক্ষার নামে প্রহসন বন্ধ করে উদার বা কঠোর ভাবে নয় বরং যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, অযৌক্তিকভাবে শুধু পাসের হার বাড়িয়ে দিলেই শিক্ষিতের হার যেমন বাড়ানো যায় না, তেমনি শিক্ষার মানও বাড়ে না বরং পুরো পরীক্ষাপদ্ধতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। অন্যদিকে একশ্রেণির কোচিংবাজ শিক্ষক যাদের বেশিরভাগেরই শিক্ষকতা করার যোগ্যতাই নেই, তাদের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করায় শিক্ষার্থী-অভিভাবক সকলেই এই কোচিং বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সাহায্যের জন্য নিজেদের পছন্দমতো কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ার কোনো স্বাধীনতা শিক্ষার্থীদের নেই। নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কোচিংবাজ শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানোর নামে নানা ধরনের অনৈতিকতা ও দুর্নীতি শিক্ষা দিচ্ছে!

প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় সহজে পাস করা বা বেশি নম্বর পাওয়ার লোভে বাধ্য হয়েই প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থীকেই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে। শিশু-কিশোররাও বুঝতে পারছে, তাদের শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লে বা মাসে মাসে টাকা দিলে পড়াশোনা কম করে বা পরীক্ষায় খাতায় কম লিখেও বেশি নম্বর পাওয়া যায়, আবার ফেল করারও ভয় থাকে না। এভাবেই আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্ম এক প্রকার অপরাধবোধ নিয়েই বড় হচ্ছে। এ কারণেই দিন দিন শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায়ও ভীষণভাবে অমনযোগী হয়ে পড়ছে এবং অনেকেই নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গেও জড়িয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে কোচিং ব্যবসা বন্ধ করে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মতো শিক্ষকদেরও বছরে অন্তত দুইবার মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতনতাবোধ জাগ্রত করতে হবে। একমাত্র মূল্যবোধ সম্পন্ন সুশিক্ষিত যুবসমাজের পক্ষেই দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব।

ফরিদপুর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন