ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ কার্তিক ১৪২৬
২৯ °সে


নির্মল পরিবেশ ও সুস্থ প্রকৃতির জন্য শকুন

নির্মল পরিবেশ ও সুস্থ  প্রকৃতির জন্য শকুন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

একসময় বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে গরু, মহিষসহ গবাদি পশুর মৃতদেহ যেখানে ফেলা হতো সেখানে দলে দলে শকুন হাজির হতো। মৃত প্রাণী বা পচাগলা ও বর্জ্য শকুনের খাবার। মৃতদেহ পচে রোগ ছড়ানোর আগেই তা খেয়ে সাবাড় করে দিত। তাই শকুন প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতা-কর্মী হিসাবে পরিচিত। কিন্তু এখন আর আগের মতো শকুন দেখা যায় না। ভালচার ডে ডট ও আরজির মতে, প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম শনিবার পালিত হয় শকুন সচেতনতা দিবস। বিলুপ্তপ্রায় শকুন বাঁচাতে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য। আজকে সেই দিন।

পৃথিবীতে সর্বমোট ২৩ প্রজাতির শকুন রয়েছে। গবেষকদের মতে, সারা বিশ্বে সর্বমোট ১৮ প্রজাতির শকুন দেখা যায়। এর মধ্যে পশ্চিম গোলার্ধে ৭ প্রজাতি এবং পূর্ব গোলার্ধে ১১ প্রজাতির শকুন দেখা যায় (ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়া)। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে ৬ প্রজাতির শকুনের দেখা মিলত। এর মধ্যে ৪ প্রজাতির দেশীয় আর ২ প্রজাতির পরিযায়ী। শকুন বা বাংলা শকুন ছাড়াও ছিল রাজ শকুন, গ্রীফন শকুন বা ইউরেশীয় শকুন, হিমালয়ী শকুন, সরুঠোঁটা শকুন, কালা শকুন ও ধলা শকুন। বাংলা শকুনের গলা লম্বা, লোমহীন মাথা ও গলা, গা ধূসর। পশ্চাদদেশের পালক সাদা, পা কালো, ডানা, পিঠ ও লেজ কালচে বাদামি। সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে পাহাড়ের চূড়া, বট, তাল, নারিকেল, শিমুল প্রভৃতি বিশালাকার গাছে এরা বাসা বাঁধে।

আমাদের দেশে বাংলা শকুন দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সংস্কৃতিতে শকুন কোনো আনন্দদায়ক বা দৃষ্টিনন্দন পাখি নয়। বাড়িতে বা আশেপাশে কেউ শকুনের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন না। আমাদের অজ্ঞতা-অবহেলা এবং শকুনের আবাসস্থল ধ্বংসের ফলে বাংলা শকুন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। শকুন কমছে বলেই পশুর অ্যানথ্রাক্স, যক্ষা, জলাতঙ্ক, খুরা রোগসহ বিভিন্ন রোগ-বালাই বাড়ছে। এ থেকে মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাধীনতার আগে আমাদের দেশে ৫০ হাজার শকুন ছিল। বর্তমানে এর সংখ্যা ৩০০-ও নিচে। তাই এখনই সচেতন হয়ে বাংলা শকুন বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নির্মল প্রকৃতি ও আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য শকুনের অবদান বেশি। পশু-পাখির মৃতদেহ স্বল্প সময়ে খেয়ে প্রকৃতিকে পরিষ্কার ও রোগমুক্ত রাখার জন্য শকুনের চেয়ে অন্য কোনো উপযুক্ত প্রাণী পৃথিবীতে নেই। পচে যাওয়া পশুর মৃতদেহ অনেক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের উত্পত্তি হয়। অথচ শকুনের পরিপাকযন্ত্রে অ্যানথ্রাক্সসহ সকল ধরনের জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। শকুন বিলুপ্তির কারণে পরিবেশগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শকুন না থাকায় গবাদি পশুর মৃতদেহ থেকে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি যেমন অ্যানথ্রাক্স, খুরা রোগ, হগ, বুটুলিয়ান, কলেরা ইত্যাদিতে গবাদি পশু ও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।

শকুন সংরক্ষণে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পার্কে শকুন পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে আহত ও উদ্ধারকৃত শকুনের চিকিত্সা ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। নির্মল পরিবেশ ও সুস্থ প্রকৃতির জন্য মহাবিপন্ন বাংলা শকুন রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

খুলনা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন