ভূমি অফিসগুলো দুর্নীতির বিষবৃক্ষ

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মো. জিল্লুর রহমান

 

সমপ্রতি দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ভূমি অফিসের অনিয়ম নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা সকল গণমাধ্যম খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রচার ও প্রকাশ করেছে। ‘ভূমি দলিল নিবন্ধন সেবায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভূমি নিবন্ধন খাতটি দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এবং এখাতে সুশাসনের ব্যাপক ঘাটতি বিদ্যমান।

কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া আমরা দেখতে পাই যে, দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অবৈধ লেনদেন এবং সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষ আদায় করা হচ্ছে। এখাতে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করছে এবং জবাবদিহিতার যে কাঠামো আছে তা কাজ করছে না। এই সেবা খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় অন্যতম উপায় হিসেবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা। আসলে লাগামহীন দুর্নীতি চলছে গোটা ভূমি খাতের সাব-রেজিস্টার অফিস, এসি ল্যান্ড অফিস ও তহসিল অফিসের সর্বক্ষেত্রে। এসব অফিস দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। সবগুলো অফিসের সামনে সিটিজেন চার্টার টানানো আছে কিন্তু এগুলো মানার কেউ নেই। এসব অফিসে কিছু সত্ ও নিষ্ঠাবান অফিসার থাকলেও প্রকান্তরে তাঁরা অসত্ অফিসার বা শক্তিশালী দালাল চক্রের কারণে কোনঠাসা হয়ে থাকেন এবং তারা দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা রাখতে পারেন না। এসব অফিসে কোনো সেবার জন্য গেলে অফিসের শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্রের ভাব দেখলে মনে হয় তারা জমির মালিক বা রাজা আর সেবা প্রত্যাশীরা জমির প্রজা বা হুকুমের গোলাম।

এসব অফিসে খাজনা আদায়, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণে চেক জালিয়াতি, নীতিমালা ভঙ্গ করে জমি বরাদ্দ দেওয়া, জলমহাল ইজারাসহ নানা ক্ষেত্রে অবাধ দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে। কর্তৃপক্ষীয় অবহেলা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উদাসীনতা ও দুর্নীতিপরায়ণ মানসিকতার কারণে জনসমপৃক্ত অতিগুরুত্বপূর্ণ এই খাতের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, দিন দিন সংশ্লি­ষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার লোভ-লালসার কারণে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস পর্যন্ত দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ, সম্পদ ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির মালিক হয়েছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এসব অনিয়ম দূর করার জন্য ভূমির সব কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজড করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। প্রতিটি ভূমি অফিসের কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনা দরকার; সিসি ক্যামেরা স্থাপন, এই খাতে মানুষের হয়রানি ও ভোগান্তি বন্ধ করা এবং সাধারণ মানুষ যাতে সহজে উন্নত সেবা পায় সে ব্যবস্থা করা উচিত। ভূমি খাতের দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

ঢাকা