ঢাকা মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
২৩ °সে


উন্মুক্ত হোক হজ নিবন্ধন

উন্মুক্ত হোক  হজ নিবন্ধন

এস এম ফরিদুল আলম

এবারের হজ করতে যা কিছু দেখেছি তার মধ্যে কিছু কিছু কাফেলার ভালো কর্মতত্পরতাও পরিলক্ষিত হয়েছে, অন্যদিকে অধিকাংশ কাফেলায় কিন্তু বেশ অনিয়মও দেখা গেছে। হজের প্রাক নিবন্ধন ও হজ নিবন্ধন একই কাফেলা থেকে করাতেই কাফেলা কর্তৃক হজযাত্রীগণ নানাভাবে হয়রানি হয়েছেন। প্রাক নিবন্ধনের পর অপরাপর কাফেলা থেকে হজযাত্রীর প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাগুলো ৩০০ টাকা মানের ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিপিবদ্ধ করে নেওয়া গেলে কাফেলা কর্তৃক ভোগান্তির থেকে পরিত্রাণের সুযোগ থাকত।

অধিকাংশ কাফেলা একতরফাভাবে শর্তগুলো মেনে চলার অঙ্গীকারনামা লিখে হজযাত্রী থেকে টিপসই নিয়ে নেয়। বড় অঙ্কের টাকা নিয়েও কথামতো হেরাম শরিফের কাছে হোটেল দেয়নি, ভালো মানের খাবার দেয়নি, মদিনা, মুজদালিফা, আরাফাতে, গমনাগমনের জন্য ভালো ট্রান্সপোর্ট দেয়নি ইত্যাদি অনিয়ম করার পরও কিছু বলার নেই। অনেকটা আদম ব্যাপারির মতো আচরণ! তাই আমাদের আবেদন—হজের প্রাক নিবন্ধনের পর হজ নিবন্ধন একই কাফেলার মাধ্যমে না করে পছন্দসই হজ কাফেলার মাধ্যমে হজ নিবন্ধন করার বিষয়টি বৃহত্তর জনস্বার্থে উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২০২০ সালের হজযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হোক।

তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বেশিরভাগ কাফেলা কথা দিয়ে কথা রাখে না। যেমন এবারের হজে আমাদেরকে বলা হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি মদিনা ফ্লাইট দেবে। কিন্তু যাত্রার বিশ ঘণ্টা আগে পাসপোর্ট, টিকেট, হেলথ কার্ড ধরিয়ে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা-ফ্লাইট এবং জেদ্দা থেকে বাই রোডে ৯ ঘণ্টা বাস ভ্রমণে মদিনা পৌঁছাই। মদিনায় হোটেল ভালো দিয়েছে খাবারও ভালো দিয়েছে। ৩৯ ওয়াক্ত পড়া হলো, ১ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ে চলে আসতে বাধ্য করা কেন—এ ব্যাপারে এক কাফেলা কর্তৃপক্ষ থেকে জানতে চেষ্টা করলে এক হাজীকে নানান কথবার্তা শুনতে হয়েছে। পুরাতন লক্কড়ঝক্কড় বাসে করে আসার পথে বাস খারাপ হয়েছে—এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেও শুনতে হয়েছে তাদের গালমন্দ। ২৯ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত মক্কায় হোটেলে সকালে যে রুটি দিয়েছে তা স্বাদ ও গন্ধহীন এবং দেখতে অনেকটা গরুর জিহবার মতো। কারণ যে অর্থ কাফেলা নিয়েছে সে অর্থে মদিনার মতো মক্কাতেও মানসম্মত হোটেলের খাবার পরিবেশনে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। শুধু কাফেলা কর্তৃপক্ষ অর্থ সাশ্রয় করতে আমাদের মতো হাজীদের প্রতি অবিচার করেছে। অসুস্থ রোগীকেও কাফেলার অবিচারে অনেক বেলা বাইরে থেকে কিনে খেতে হয়েছে। আরাফাতে মিনা গমনাগমনে লোক হারিয়ে গেছে, কিন্তু কাফেলার কোনো গরজ নেই, অনেক কষ্ট করে হারিয়ে যাওয়া লোক ফিরে এসেছে।

চট্টগ্রাম

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১২ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন