ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
২১ °সে


মায়ের আকুতি

মায়ের আকুতি

‘ধনকে নিয়ে বনকে যাব

সেখানে খাব কী?

নিরালে বসিয়া চাঁদের মুখ নিরখি।’

বাঙালি মায়ের চিরন্তন চাওয়া। সন্তানের চাঁদ-মুখ দেখে তিনি সব ভুলে থাকেন। তাঁর জীবনের দুঃখ-বেদনা সব তুচ্ছ হয়ে যায় সন্তান কাছে এলে। সন্তানের চাঁদ-মুখ দেখলে।

হায়! আমরা কী অসভ্যতার নিম্নতম স্তর ছুঁয়েছি যে মায়ের সেই সুখ, সেই প্রশান্তিটুকুও কেড়ে নিচ্ছি অবলীলায়! একদিন, মাত্র একদিন আগে মায়ের হাতের পরশ নিয়ে যে এলো বিদ্যা অর্জনের আশায়—সে কী করে ফিরে গেল পরের দিনই লাশ হয়ে মায়ের কাছে? মাকে চির দুঃখের সাগরে নিমজ্জিত করে? কারা সেই পাষণ্ড? যারা মায়ের বুকের ধন কেড়ে নিতে দ্বিধা করল না?

একবার এক ‘টকশো’তে ড. সা’দাত হোসেন বলেছিলেন, ‘মুড়ি-মুড়কি একদাম/সেই মুলুক জাহান্নাম।’ আজ আমরা সেই কথারই বাস্তব রূপ দেখতে পাচ্ছি। আমি আবরারের কথা বলছি। বলছি আর ভেবে অবাক হচ্ছি। আমার ভাবতে অবাক লাগছে—যদি আবরারকে পেশাদার খুনি হত্যা করত, আমরা কি ব্যথিত হতাম না? অবশ্যই হতাম; কিন্তু যখন জানলাম তারই সহযাত্রী, তারই বিদ্যানিকেতনের ছাত্ররূপী খুনিরা তাকে পিটিয়ে লাশ করেছে, তখন হূদয়ের কোথায় যেন প্রচণ্ড আঘাত হেনে তনু-মন নীল করে দিল!! তখনি মনে পড়ল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তনুশ্রীর কথা—‘সামান্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে মানুষ খুন করে ফেলা হচ্ছে বাংলাদেশে। কিভাবে এমন একটা দেশে মানুষ বাস করে?’

সত্যি তাই—কী করে যে বেঁচে আছি জানি না। আজ আবরার ফাহাদের মায়ের মতো আমি, আমার মতো হাজার কোটি মা দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা, দুঃস্বপ্ন নিয়ে অহরাত্র নয়— অহমুহূর্ত পার করছি। এক ভাবনা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে—কী জানি কী হয়—কী জানি হয়।

ছেলে আছে—মেয়ে আছে—কেউ কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারছে আমি ভালো আছি ওদের নিয়ে? মেয়ে নির্যাতনের চরমসীমা ছুঁয়ে যাচ্ছে র্নিবিচারে—কোনো প্রতিকার নেই। ছেলেকে ঘর থেকে এক পা ফেলতে দিতেও মার সহস্র চিন্তা। কে জানে কোন অপরাধ ধরে কে বা কারা তাকে কৈ-কাটা করে!

হয়তো স্মৃতির ধুলায় চাপা পড়ে যাবে বিশ্বজিত্, তনু, পাপন, রাহী—হয়তো এর চেয়েও কোনো ভয়ংকর এসে কেড়ে নেবে আবরারের লাশ হবার ঘটনাকে—কিন্তু ভুলতে পারবেন কি আবরারকে আবরারের মা-বাবা-ভাই? অসম্ভব, অসম্ভব।

আর কত? অনেক হয়েছে। শুনতে চাই না—পড়তে চাই না দেখতে চাই না আর কোনো বীভত্সতা। আজ আমরা সবাই ক্লান্ত শ্রান্ত। আমাদের উজ্জীবিত করতে পারেন যাঁরা, তাঁদের কাছে একটাই চাওয়া নিশ্চিন্ত করুন আমাদের স্বস্তি—আমাদের শান্তি।

ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ নভেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন