ঢাকা সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭
১৯ °সে

পুলিশের দাবি কারাগার থেকে জঙ্গিরা তিনটি টুপি এনেছিল

পুলিশের দাবি কারাগার থেকে জঙ্গিরা তিনটি টুপি এনেছিল

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলা মামলার রায়ের দিন আইএস টুপিসহ মোট তিনটি টুপি আনা হয় কারাগার থেকে। এর মধ্যে দুটি সাদা ও একটি কালো টুপি ছিল। তবে কোনো লোগো ফুটেজে ধরা পড়েনি। তদন্তে এমনটাই বেরিয়ে এসেছে বলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম।

মাহবুবুল আলম বলেন, জঙ্গির মাথায় আইএস টুপি বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঐ তদন্ত কমিটির প্রধান তিনিসহ আরো রয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান ও ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহাদত্ হোসেন। ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, হলি আর্টিজান মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যানসহ জঙ্গিরা কারাগার থেকে তিনটি (আইএসআইয়ের প্রতীক) সংবলিত টুপি এনেছিল। এর মধ্যে দুটি টুপি সাদা আর একটি টুপি কালো। আগামী দুয়েকদিনের মধ্যে এই প্রতিবেদন তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুল আলম বলেন, আমরা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় তল্লাশি করা হয়েছে। তবে তাদের কাছে যে টুপি ছিল তা রেখে দেওয়া হয়নি বরং নির্বিঘ্নে তাদের টুপি নিয়ে আসতে দেওয়া হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জঙ্গিদের কাছে এভাবে একাধিক টুপি আসতে পারে। লোগো থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। তবে আমাদের তদন্তে ধরা পড়েনি। এমনও হতে পারে, তারা যে টুপি কারাগার থেকে এনেছিল, আদালতে রায় শোনার পর তারা তা উলটে পরেছে।

রিগ্যানের বিষয়ে মাহবুবুল আলম বলেন, আইএস টুপি বিতর্কের পর তদন্তের স্বার্থে তাকে অনেক সংস্থাই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। রিগ্যান কারাগারে এক ধরনের বক্তব্য দিয়েছে, গোয়েন্দা পুলিশের কাছে আরেক ধরনের বক্তব্য দিয়েছে আবার আদালতে গিয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছে।

এদিকে এর আগে এ ঘটনা তদন্তে কারা অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটি দাবি করে, কারাগার থেকে জঙ্গিরা টুপি নিয়ে যায়নি। তদন্ত কমিটির সদস্য কারা অধিদপ্তরের ডেপুটি আইজি প্রিজন্স মো. টিপু সুলতান বলেন, ‘কারা বিধি অনুযায়ী, কোনো আসামিকে কারাগার থেকে বের করে আদালতে নেওয়ার সময় এবং আদালত থেকে আবার কারাগারে প্রবেশ করানোর সময় খুবই সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করা হয়। হলি আর্টিজান হামলার রায়ের দিনেও আসামিদের তল্লাশি করে আদালতে পাঠানো হয় এবং তল্লাশি করে কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ সময় জঙ্গিদের কাছে কোনো ধরনের টুপির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কারা অধিদপ্তর থেকে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে-জঙ্গি রিগ্যানের মাথায় যে আইএস লোগো সংবলিত টুপি দেখা গেছে, তা কারাগার থেকে যায়নি। আদালত চত্বরে সাদা পোশাকের একজন ঐ টুপি তাকে দিয়েছে।

অন্যদিকে হলি আর্টিজান মামলার সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি উচ্চ আদালতে পৌঁছেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের পেশকার রুহুল আমীন মামলার রায়ের কপি উচ্চ আদালতে পৌঁছে দেন। তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মোট ২ হাজার ৩০৫ পৃষ্ঠার রায়ের কপি আমরা সরাসরি উচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করেছি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ নভেম্বর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ের পর এজলাস থেকে ফেরার সময় জঙ্গি রিগ্যানের মাথায় আইএস সংবলিত টুপি দেখে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই খবর দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমগুলো ব্যাপক প্রচার করে। এরপর কারা ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ উভয়েই আলাদা কমিটি গঠন করে। তবে কারা ও পুলিশের তদন্তে এখনো ‘টুপি রহস্য’ উদঘাটন হয়নি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন