আজকের পত্রিকা
ঢাকা সোমবার, মে ০৩, ২০২১, ২০ বৈশাখ ১৪২৮ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য ঘোষণার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ‘বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার’ (বিএএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধারণকৃত ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে বিশ্বজনীন পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। সর্বজনীন ভ্যাকসিন কভারেজ অর্জনের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উত্পাদনকারী দেশগুলোর উচিত অন্য দেশগুলোকে ভ্যাকসিন উত্পাদনে সহায়তা করা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃত্বে বিশ্বাসী। প্রত্যেকেরই যাতে ভ্যাকসিন এবং চিকিত্সা সরঞ্জামের চাহিদা পূরণ হয় সেই লক্ষ্যে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কার্যকর করতে সব দেশের একত্রে কাজ করা প্রয়োজন।’ ডাব্লুএইচও, জিএভিআই এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলো অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রের অধিকারকে সমর্থন করবে এবং ন্যায্যতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, এই সংকটময় সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চার দিনব্যাপী বার্ষিক বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘এ ওয়ার্ল্ড ইন চেঞ্জ : জয়েন হ্যান্ডস টু স্ট্রেনদেন গ্লোবাল গভর্নেন্স অ্যান্ড অ্যাডভানস বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কোঅপারেশন’। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর তহবিলগুলোতে আরো বেশি প্রবেশাধিকার প্রয়োজন।’ কোভিড-১৯ মহামারি আমাদের মানবসভ্যতার সন্ধিক্ষণে বিশেষত ইতিহাসের চূড়ান্ত বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই মহামারির আর্থসামাজিক প্রভাব ব্যাপক, যা ক্রমশ প্রকাশিত হচ্ছে।
তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারিত্বকে আরো জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এ লক্ষ্যে জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ মহামারির বিরূপ প্রভাব হ্রাস করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনীতিকে উত্সাহিত করার জন্য আমাদের জিডিপির প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, যা টাকার অংকে ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি।’ মহামারির এই সংকট চলাকালেও কেউ পেছনে পড়ে যেন না থাকে তা নিশ্চিতে বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। সার্ক, বিমসটেক, এসএএসইসি, বিবিআইএন এবং বিসিআইএমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এর বাইরেও বহু-মডেল সংযোগের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করেছে এবং বিশ্বাস করে যে, বিআরআই এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই মহাদেশে বিশাল জনসংখ্যার উপাত্ত, বিস্তৃত বাজার এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে। কাজেই, যদি আমরা হাত মিলাই তাহলে উত্পাদনকে ত্বরান্বিত করতে পারি, যা আমাদের প্রতিশ্রুত এসডিজি অর্জনে সহায়ক হবে। একে অপরের হাত বাড়িয়ে আমাদের ফোরআইআর-এর প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা বাড়াতে হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘হাই-টেক পার্ক, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবার বিস্তার এবং স্যাটেলাইট সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ একটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আমরা আমাদের তরুণদের কেবলমাত্র অনুকরণের জন্য নয়, উদ্ভাবনের জন্য প্রস্তুত করে চলেছি। এক সঙ্গে আমাদের একে অপরের সুবিধাগুলো গ্রহণ করার পাশাপাশি সাইবার-অপরাধসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সময়োচিত পদক্ষেপ এই শতাব্দীর সম্ভাবনাগুলোকে বুঝে নিতে সহায়তা করতে পারে আমাদের।’
বাংলাদেশ অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং এখানে সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজস্ব সংস্থান থেকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দূর করতে বিভিন্ন অভিযোজন এবং প্রশমন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।’
বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ)-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অভিযোজনের জন্য গ্লোবাল সেন্টারের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক অফিসের হোস্টিং করছি। এই কেন্দ্র স্থানীয় ভিত্তিক উদ্ভাবনী অভিযোজন কৌশল প্রচারের কাজ করবে।’
সব দেশকে একত্রে চিন্তা করার, এক সঙ্গে কাজ করার এবং এক সঙ্গে বেড়ে উঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি, আইএমএফের সভাপতি, বোয়া ফোরামের মহাসচিবকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

