ঢাকা সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ মাঘ ১৪২৭
১৪ °সে

১৯ স্বর্ণেও থাকল আক্ষেপ

১৯ স্বর্ণেও থাকল আক্ষেপ

পর্দা নামল এসএ গেমসের

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

নেপালে দক্ষিণ এশিয়ান গেমস শেষ হয়ে গেছে। সদ্য সমাপ্ত আসরে ইতিহাসের সেরা ১৯টি স্বর্ণপদক জিতলেও ফুটবল, সাঁতার, শুটিং ও অ্যাথলেটিক্সে ব্যর্থতার ফলে কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ।

গতকাল রাতে ১৩তম এসএ গেমসের সমাপনী হয়েছে কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে। কাঠমান্ডু ও পোখরায় হয়েছে গেমস। ১ ডিসেম্বর দশরথের এই মাঠেই জমকালো উদ্বোধন হয়েছিল। পুরো দশ দিনের খেলার যুদ্ধে জয়-পরাজয় থাকলেও সবাই হাসিমুখে ঘরে ফিরছেন। অনেক স্মৃতির এই গেমস ফুটবলে স্বর্ণপদক জয় করেছে নেপাল। আকর্ষণীয় অ্যাথলেটিকসে মালদ্বীপের ক্রীড়াবিদ দ্রুততম মানব হয়েছেন। নেপালের ইতিহাসে সেরা গেমস হয়েছে। আয়োজনে এবং স্বর্ণপদক জয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তারা। ভারত অনেক খেলায় এবার অংশগ্রহণ করেনি। বিশেষ করে ক্রিকেট ফুটবল, আরচারি, কারাতে সহ একাধিক খেলায় তারা আসেনি। তারপরও এই গেমসে ভারত সর্ব্বোচ্চ সোনার পদক জয় করেছে। ভারত এসএ গেমস নিয়ে ভাবে না। তারা আরো ওপরে যাওয়ার পথে হাঁটছে। তবে গেমস ইতিহাসে এটা মুখ্য নয় যে, কে এলো আর কে এলো না। ইতিহাসে লেখা থাকবে পদক জয়ীদের নাম। সোনার হরফে লেখা থাকবে বাংলাদেশে ক্রীড়াবিদদের নাম।

১৯টি সোনার পদক জয় করেছে নেপালের হিমালয়ের কাছে গিয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে গতবার মাত্র ৪টি সোনার পদক জয় করেছিল সেখানে এবার ১৯টি সোনা নিয়ে ফিরছে বাংলাদেশ। তাদের জন্য হিমালয় জয় করার সমান। ১৯টি সোনার পদকে বাংলাদেশের ব্যাগ ভারী করেছে আর্চারি। তারা ১০টি সোনার পদক এনে দিয়েছে। তায়কোয়ান্দোতে দিপু চাকমাকে দিয়ে সোনার পদক জয় শুরু। হোমায়ারা আক্তার অন্তরা, আল আমিন, মারজান আক্তার প্রিয়া সোনা এনে দিলেন কারাতে খেলায়। ভারোত্তোলনে সোনা উপহার দিলেন মাবিয়া আক্তার, পরপর দুই গেমসে এক নারী সোনার পদক জয় করলেন, ভারোত্তোলনে জিয়ারুল ইসলামও আনলেন সোনার পদক। আলোচনায় না থাকা ফেন্সিংয়েও সোনা এসেছে ফাতেমা মুজিবের হাতে। তারপরও আর্চাররা জাল ফেলে সোনার পদক তুলে আনলেন ১০টি। এককে রোমান সানা, সোহেল রানা, সোমা বিশ্বাস, ইতি খাতুন। তামিমুল ইসলাম, হাকিম আহমেদ রুবেল, অসীম কুমার দাস, আশিকুজ্জামান, মেহেনাজ আক্তার মনিরা, বিউটি রায়ও সোনার পদক ছুঁয়েছেন দলের সঙ্গে। এদের সঙ্গে যোগ হলো নারী ও পুরুষ ক্রিকেটে সোনার পদক জয়। সোনার সংখ্যা দাঁড়াল ১৯। ইতিহাস ছাপিয়ে গেলেন বাংলার ক্রীড়াবিদরা। এসএ গেমসর ইতিহাসে ১৯টি সোনা জয় করেনি আগে। এবার নেপালে সোনার হরফে নিজেদের নাম লিখে নিয়েছেন সোনার ছেলেরা, সোনার কন্যারা।

আফসোস থেকে গেল ফুটবল, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, শুটিং, টিটি, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, কাবাডিসহ আরো খেলায় সোনার পদক না পাওয়ায়। বিশেষ করে অ্যাথলেটিকস, শুটিং, সাঁতার এবং ফুটবলে হতাশাটা বেশি। এই খেলাগুলোতে সোনার পদক পেলে তার জৌলুসটা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়। আর যদি ফুটবলে স্বর্ণ পদক জয় করে তাহলে তো কথাই নেই। ফুটবলটা ক্রীড়াপ্রেমীদের একটু বেশি নাড়া দেয়। ফুটবল এ দেশের মানুষের প্রাণের খেলা। ফুটবলে অনেক আশাছিল। কিন্তু সেটা পূরন করতে পারেননি। প্রায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ফুটবল দল ব্রোঞ্জ পেয়েছে। ২০ বছর আগে নেপাল ফুটবলে সোনার পদক জয় করে ফিরেছিল জুয়েল রানা-আলফাজরা। আর এবার ব্যর্থতার কাহিনি লিখে এসেছেন জামাল ভুইয়া, জিকো, জীবনরা। এবার ফাইনালেই উঠতে পারেনি। নেপালের বিপক্ষে ভুটান ফাইনাল খেলল। ভুটান জানিয়ে দিল গুটি গুটি পায়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। এই ভুটান আর সেই ভুটান নেই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন