ঢাকা শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৮ °সে

দাপুটে জয়ে ঘুরে দাঁড়াল রংপুর

দাপুটে জয়ে ঘুরে দাঁড়াল রংপুর

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে প্রথম ম্যাচে ৬৮ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল রংপুর রেঞ্জার্স। শুরুতেই মাঠের ক্রিকেটে এমন ভঙ্গুর পারফরম্যান্স অশান্তির বীজ বপন করেছিল ড্রেসিংরুমে। দলের কর্তাদের হস্তক্ষেপ অবস্থার অবনতি ঘটায় আরো। যার প্রভাব পড়ে ২২ গজের লড়াইয়ে। দারুণ সব ক্রিকেটারের ঠাঁসা দল নিয়ে টানা চার ম্যাচ হেরে বসে রংপুর। পঞ্চম ম্যাচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে হারিয়ে হারের বৃত্ত ভেঙেছিল দলটি। পরের ম্যাচেই শেন ওয়াটসনকে নিয়ে আবার খুলনা টাইগার্সের কাছে হারে রংপুর।

অধিনায়কসহ দলে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া দলটা চাপে পড়ে যায়। প্লে-অফ খেলার স্বপ্ন হুমকির মুখে পড়ে যায়। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া রংপুর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দাপুটে জয়ে প্লে-অফ খেলার আশা জিইয়ে রেখেছে ওয়াটসনের দল। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে সিলেট থান্ডারকে ৭ উইকেটে পরাজিত করেছে রংপুর।

সাত ম্যাচে রংপুরের এটি দ্বিতীয় জয়। আট ম্যাচে সিলেট পেল সপ্তম হারের স্বাদ। রংপুরের জয়ে বড়ো অবদান বোলারদের। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানের। বাঁহাতি এই পেসার ১০ রানে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১৩৩ রান তুলেছিল সিলেট। জবাবে ১৭.২ ওভারে ৩ উইকেটে ১৩৪ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় রংপুর।

টসে হেরে ব্যাট করা সিলেট অবশ্য প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি চাপে ছিল। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প ছিল না তাদের সামনে। কিন্তু আবারও দল হিসেবে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ সিলেট। এই হারে কার্যত টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেল সিলেট। ১৬ রানের মাথায় দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনারকে হারায় দলটি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফ্লেচার (০) আরাফাত সানির বলে ক্যাচ দেন। চতুর্থ ওভারে চার্লস (৯) নবীর হাতে ক্যাচ দেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর বলে। মিঠুন ও অধিনায়ক মোসাদ্দেক ৫৭ রানের জুটিতে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালান। কিন্তু ১২তম ওভারে ১৫ রান করে রানআউট হন মোসাদ্দেক। ডাইভ দিয়ে কাঁধেও ব্যথা পান তিনি। ঝড় তোলার চেষ্টা করা রাদারফোর্ডকে থামান গ্রেগরি। তিনি ১৬ রান করেন।

একপ্রান্ত আগলে মিঠুন হাফ সেঞ্চুরি করেন। তাকে থামিয়েছেন মুস্তাফিজ। ৪৭ বলে ৬২ রান (৪ চার, ২ ছয়) করেন তিনি। পরে সোহাগ গাজী ১২ রান করেন। শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করা মুস্তাফিজ ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে নাঈম হাসান ও সোহাগ গাজীকে ফেরান। ৪ ওভারে ১০ রানে ৩ উইকেট নেন ছন্দে ফেরা মুস্তাফিজ। আরাফাত সানি, মুগ্ধ, নবী ও গ্রেগরি একটি করে উইকেট নেন।

টার্গেটটা বড়ো ছিল না। তারপরও স্বস্তিতে ছিল না রংপুর। এবাদতের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোল্ড হয়ে ভয়টা আরো বাড়িয়ে দেন ওয়াটসন (১)। পরে নাঈম শেখ ও ডেলপোর্টের ব্যাটে জয়ের পথে এগিয়ে যায় রংপুর। ডেলপোর্ট ২৮ বলে ৬৩ রান (৬ চার, ৫ ছয়) করেন। দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন নাঈম শেখ ও নবী। নাঈম শেখ অপরাজিত ৩৮, নবী অপরাজিত ১৮ রান করেন।

সিলেটের নাভিন উল হক দুটি, এবাদত একটি উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট থান্ডার: ২০ ওভারে ১৩৩/৯। রংপুর রেঞ্জার্স: ১৭.২ ওভারে ১৩৪/৩। ফলাফল: রংপুর রেঞ্জার্স ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা: মুস্তাফিজুর রহমান (রংপুর)

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
৩০ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন