ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
৩০ °সে

আমাদের আসল নায়ক ডাক্তাররা —তামিম ইকবাল

আমাদের আসল নায়ক ডাক্তাররা —তামিম ইকবাল

কথা ছিল। ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংকট সব থমকে দিয়েছে। তামিম ইকবাল এই সময়ে দলের খেলোয়াড়দের এক করে একটা তহবিল করে সরকারের কাছে দিয়েছেন।

নিজেদের এই পদক্ষেপের চিন্তা ও মানুষের করণীয় নিয়ে কথা বলেছেন তামিম। একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়

সব খেলোয়াড় মিলে এই যে টাকাটা দান করলেন, এই চিন্তাটা কীভাবে এল?

প্রথমে আমি এটা নিয়ে মাশরাফি ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করেছিলাম। উনি বললেন, এটা খুব ভালো একটা উদ্যোগ। পরে আমি সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বললাম। সবাই, সবাই দারুণভাবে নিল এটা। আমাদের রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাই থেকে শুরু করে একবারে তরুণ লিটন বা বিপ্লবরা পর্যন্ত দারুণ সাড়া দিয়েছে। ওরা মনে হয় এরকম একটা কিছুর জন্য অপেক্ষা করছিল। আমি একটা কথা বলি, এটা আসলে মিডিয়ায় এসেছে বলে বড়ো মনে হচ্ছে। এটা এমন বড়ো কোনো ব্যাপার না। এর বাইরে আমাদের ক্রিকেটাররা প্রায় সবাই কিন্তু নিজেদের মতো নানা কাজ করছে। সেগুলো আমরা সামনে আনতে চাচ্ছি না।

এই কাজগুলো করার ক্ষেত্রে আপনাদের দর্শনটা কী?

দর্শন খুব সোজা, মানুষের পাশে থাকা। আজকের দেখে, আমাদের পুরো পৃথিবী একটা সংকটে পড়েছে। আমার দেশ আজকে বিপদে পড়েছে। এখন আমি তামিম বা যে ক্রিকেটারই হই না কেন, এই দেশের জন্য হয়েছি। আজ এই দেশের মানুষ আমাদের ভালো না বাসলে আমরা এই অবস্থানে কেউ আসতে পারতাম না। আমরা যে টাকার মালিক হয়েছি বা যা অর্জন করেছি, দেশ আমাদের এখানে এনেছে। আমরা এখন বিপদের সময় এক জন মানুষেরও যদি পাশে দাঁড়াতে পারি, সেটা দাঁড়ানো উচিত। দেশের ঋণ তো শোধ করা যাবে না। কিন্তু দেশের বিপদে-আপদে মানুষের পাশে থাকতে হবে।

সবাই বলছেন, ঘরে থাকাটাই এই যুদ্ধে জেতার উপায়। আপনি মানুষকে কী বলবেন?

আমি বলব, দয়া করে ঘরে থাকুন। আপনার কাছ থেকে কেউ সারা জীবন চাচ্ছে না। মাত্র কয়েকটা দিন। হয়তো একটা মাস। একটা মাস কষ্ট করে ঘরে থাকুন। আমি জানি, ভালো লাগবে না, বোরিং লাগবে। তার পরও ঘরে থাকুন। বিকল্প বিনোদন ঘরেই খুঁজে নিন। পরিবারের সঙ্গে থাকুন। আপনার ঘরে থাকাই হয়তো দুই জন মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দেবে। সেটাই আপনার সেরা অবদান এই সময়ে।

আপনার নিজের সময় কাটছে কী করে? এভাবে ঘরে থাকার অভ্যেস তো নেই...

আমি সত্যি বলি, একটুও বোর হচ্ছি না। সকালে উঠে ট্রেডমিলে দৌড়াই। তারপর বাচ্চাদের সময় দেই। এভাবে পরিবারকে তো সময় দেওয়ার সুযোগ হয় না। এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে নিয়েছি। এছাড়া কিছু পড়ি। সবমিলিয়ে ভালো কেটে যাচ্ছে সময়।

সিনেমা-টিভি দেখছেন না?

হ্যাঁ। বেশ দেখছি। টিভি সিরিজ দেখি, সিনেমা দেখি। নেটফ্লিক্সে অনেক সময় কেটে যাচ্ছে।

স্পোর্টস মিস করছেন?

একদম না। স্পোর্টসের কথা চিন্তাও করি না। আগে জীবন, আগে দেশ। আমি যে সকালে ট্রেডমিলে দৌড়াই, সেটাও খেলার কথা ভেবে না; নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য দৌড়াই। আমার মনে হয়, যারা ঘরে আছেন, সবাই কিছু শরীর চর্চা করেন এই সময়ে। ইমিউনিটি বাড়বে।

এখন ভরা মৌসুম থাকার কথা ছিল। আপনি দারুণ ফরমে ফিরেছিলেন। আপনার অধিনায়কত্ব শুরুর কথা ছিল। সব থমকে গেছে। আফসোস হয় না?

মোটেও না। ফরম আসবে, যাবে। খেলাও অনেক হবে। কিন্তু যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটার সমাধান আগে হতে হবে। দেখুন জীবনের চেয়ে খেলা কখনোই বড়ো কিছু না। আমরা খেলোয়াড়রা তো বিনোদন দেই। আসল কাজটা করতে হচ্ছে তো ডাক্তারদের। আমাদের নায়ক হলেন ওনারা। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আর যারা কাজ করছেন। তারপর সেনাবাহিনীর সদস্যরা আছেন, পুলিশ আছেন; আরো যারা যারা এখন রাস্তায় থেকে আমাদের নিরাপদ রাখতে চাইছেন, আমি ওনাদের কথা চিন্তা করি। আজ আমি খেলোয়াড় বলে বাসায় বসে থাকতে পারছি। ওনারা তো সেটা পারছেন না। ওনাদের আমি স্যালুট জানাই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন