ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
৩০ °সে

খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি চান মুমিনুল

ক্রাইস্টচার্চের ভয়াল দুপুর
খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি চান মুমিনুল
মুমিনুলদের ক্রাইস্টচার্চের দুঃসহ স্মৃতি —ফাইল ছবি

এক বছর আগের ঘটনা। এখনো সেই দুপুর মনে পড়তেই গা শিউরে উঠে মুমিনুল হকের। ক্রাইস্টচার্চের ভয়াল দুপুর ভয়ের চোরাস্রোত বইয়ে দেয় বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের মনে। শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ডে রক্তগঙ্গা নামিয়ে আনে ব্রেন্টন টারান্টের নৃশংস হামলা। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ, শুক্রবার দুপুরে হ্যাগলি ওভালের কাছাকাছি আল-নূর মসজিদে জুম্মার নামাজ চলাকালীন সন্ত্রাসী হামলা চালান ঐ খুনি। নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যা করেন ৫০ জনকে।

ঘটনার ভয়াবহতা ছুঁয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে। হ্যাগলি ওভাল থেকে আল-নূর মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে রওনা হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা অল্পের জন্য বেঁচে যান টারান্টের হত্যাযজ্ঞ থেকে। অস্ট্রেলিয়ান খুনি টারান্টকে তখনই গ্রেফতার করা হয়। বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া সেই ঘটনার কান্ডারি এতদিন নিউজিল্যান্ডের জেলেই ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনীত হত্যাযজ্ঞের অপরাধের বিচারকার্য চলছিল।

গতকাল ক্রাইস্টচার্চের হাইকোর্টে সংক্ষিপ্ত শুনানিতে এ হামলার দায় ও নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন টারান্ট। অবশ্য গত বছর জুনে আদালতে অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

করোনা ভাইরাসের কারণে নিউজিল্যান্ডও লকডাউন হয়ে আছে। এর মধ্যেই সীমিত আকারে আদালতের কার্যক্রম চলছে। টারান্টের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নেন। তবে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবারের শুধু এক জন প্রতিনিধি আদালতে থাকার অনুমতি পেয়েছিলেন। বিচারপতি ক্যামেরন মান্ডারের কাছে অপরাধ স্বীকার করেন টারান্ট। আপাতত ১ মে পর্যন্ত কারাগারে থাকবেন এই অপরাধী। পরিবেশ স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্তদের উপস্থিতিতেই টারান্টের শাস্তি ঘোষণা করা হবে।

নির্মম সেই হত্যাযজ্ঞের বিভীষিকা এখনো তাড়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। টারান্ট অপরাধ স্বীকার করেছেন এ খবর গতকাল ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বে। এখন নিউজিল্যান্ডের প্রচলিত আইনে খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি চান মুমিনুল।

সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে গতকাল বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক বলেছেন, ‘অবশ্যই ওদের সরকার যেটা দিবে সেটাই হবে। অবশ্যই সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করব। দেখেন এটা ওদের দেশের ব্যাপার। ওরা শাস্তি দিবে কি দিবে না, আমরা বলতে পারব না। আমরা মনে করি, সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত। কারণ এতগুলো মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। অনেক পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ চলে গেছে। অনেক নির্দোষ মানুষ নিহত হয়েছে। সেজন্যই ওদের দেশের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হোক, এটাই দাবি করব। ওদের দেশে কেমন শাস্তি সেটা তো জানি না।’

তামিম-মুশফিকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও সেদিন আল-নূর মসজিদের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিথর দেহগুলো দেখেছিলেন। অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া টাইগাররা এরপর আর খুব বেশি সময় নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করেনি। ঐ ঘটনার পর পরই সিরিজের তৃতীয় টেস্ট না খেলে দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ দল।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন