‘ওয়ান্ডারল্যান্ড’-এ আলিস

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কাওসার মুজিব অপূর্ব

ঠিক যেন রূপকথার গল্প। কিংবা তার চেয়েও বেশি।

আগের অভিজ্ঞতা হলো প্রথম বিভাগ ক্রিকেট। ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার ছিলেন। নেটেই প্রথম তার বোলিংটা পছন্দ হয়ে যায় কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের। সুজন অভিজ্ঞ কোচ, প্রথমেই ‘হিরা’ চিনতে ভুল হয়নি।

বাকিটা ইতিহাস। মূল দলের সঙ্গে অনুশীলন করার পর সুযোগ পেয়ে গেলেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মূল ম্যাচেও। সেটাও আবার গেল বারের চ্যাম্পিয়ন ফেভারিট রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। সেখানে শুধু নিজেকে প্রমাণই নয়, রীতিমত হ্যাটট্রিক করে বসেছেন আলিস ইসলাম, ঢাকার ডান হাতি অফস্পিনার।

অভিষেক টি-টোয়েন্টিতেই হ্যাটট্রিকের নজির বিপিএলে তো বটেই, ক্রিকেটের ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই। চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে পেয়েছেন চার উইকেট। তার অনন্য বোলিংয়ে ঢাকা ডায়নামাইটস হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জিতেছে দুই রানের ব্যবধানে। ম্যাচ সেরার পুরস্কারও উঠেছে আলিসের হাতেই।

এ রহস্যটা কী? প্রথমবারের মতো এত দর্শকের সামনে বল করতে গিয়ে একবারও কি নার্ভাসনেস আসেনি? আলিসের জবাব, ‘আসলে এটা আমার বিপিএলে প্রথম ম্যাচ। খোলাসা করে বলতে গেলে স্টেডিয়ামেই এটা আমার প্রথম ম্যাচ। আমি আসলে অনেক নার্ভাস ছিলাম। তবে ক্যাচ দুটি ড্রপ করার পর টিমমেটট অনেক সাপোর্ট করেছে আমাকে, কোচ সাপোর্ট করেছেন। সবাই আসলে অনেক সাহস দিয়েছেন। তাতে আমার মনে হয়েছে যে, ভালো জায়গায় বলটা করতে পারি তাহলে ভালো কিছু হতে পারে। আমি শুধু ভালো জায়গায় বল করতে চেয়েছি।’

আলিসের বাড়ি সাভারের বলিয়ারপুর। প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু করেন কলাবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাবের হয়ে। সেখান থেকে জায়গা হয় প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে। সেখান থেকে প্রথম বিভাগ, ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার, সেখান থেকে সরাসরি বিপিএলের মঞ্চ। জীবন কখনো কখনো এই রূপকথার গল্পের মতো বদলে যায়।

দিন দুয়েক আগেও এই বদলটা টের পাননি আলিস। ম্যাচের একদিন আগেই তাকে জানানো হয়। তিনি বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় জানতে পারি খেলব। স্যার আমাকে ডেকে বলেন শারীরিক ও মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে। আমি প্রস্তুতই ছিলাম। এতো বড় স্টেডিয়ামে, এতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম খেলা নার্ভাসেরই বিষয়। আমি প্রথমে নার্ভাসই ছিলাম, তবে তারপরও ভালো হয়েছে।’

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান জানতেন, আলিসের মধ্যে প্রতিভার কমতি নেই। তবে, এত দারুণ ভাবে তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন সেটা বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডারও ভাবেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম ওর (আলিস ইসলাম) প্রতিভা আছে। সেজন্যই ওকে দলে নেওয়া হয়েছে। ও খুব সৌভাগ্যবান যে প্রথম দিনই নিজের ক্লাসটা চেনাতে পেরেছে। এর জন্য ওকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তবে, এখনো ওকে বহুদূর যেতে হবে।’

‘ক্রিকেট’ নামের সেই ওয়ান্ডারল্যান্ডে বহুদূরে যাওয়ার পথে রসদ হয়ে থাকুক গতকালকের এই ম্যাচ!

বিপিএলের তিন হ্যাটট্রিক

খেলোয়াড়                                     দল                           প্রতিপক্ষ                               মৌসুম

মোহাম্মদ সামি (পাকিস্তান)                  দুরন্ত রাজশাহী              দ‘ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স                   ২০১১-১২

আল আমিন হোসেন (বাংলাদেশ)           বরিশাল বুলস               সিলেট সুপারস্টার্স                     ২০১৫-১৬

অ্যালিস ইসলাম (বাংলাদেশ)        ঢাকা ডায়নামাইটস     রংপুর রাইডার্স                 ২০১৮-১৯