ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৩ °সে


আবাহনীকে থামাল প্রাইম ব্যাংক

বিজয়ের টানা তিন সেঞ্চুরি
আবাহনীকে থামাল প্রাইম ব্যাংক

নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে এর চেয়ে শক্তিশালী দল আর দেখেননি খালেদ মাহমুদ সুজন। গত বৃহস্পতিবার বিসিবি একাডেমি মাঠে জাতীয় দলের ক্রিকেটারে ভরপুর আবাহনীর দলটা নিয়ে এমন কথা বলেছিলেন সুজন। এমন দল নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া উচিত বলেই মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

একদিনের ব্যবধানেই সুজনের আশায় জল ঢেলে দিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। গতকাল ফতুল্লায় এবার প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে শক্তিধর আবাহনীর জয়রথ থামিয়ে দিয়েছে এনামুল হক বিজয়ের দল। পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে আবাহনীকে ১৬ রানে পরাজিত করেছে প্রাইম ব্যাংক।

ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় কাটছে বিজয়ের। টানা তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। গতকাল টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বিজয়ের সেঞ্চুরিতে পাঁচ উইকেটে ৩০২ রানের বড় স্কোর গড়ে প্রাইম ব্যাংক। জবাবে ৪৮.৫ ওভারে ২৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় আবাহনী। সেঞ্চুরিয়ান বিজয় ম্যাচ সেরা হন। পাঁচ ম্যাচ শেষে আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংকের জয় এখন চারটি করে।

ব্যাটিংয়ে ঈর্ষন্বীয় ফর্মে আছেন বিজয়। শেষ তিন ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছেন এই ওপেনার। বিজয়ের শেষ তিন ইনিংসগুলো এমন অপরাজিত ১০০, ১০১ ও ১০২। লিস্ট-এ ক্রিকেটে ১০ বছরে করেছিলেন ৯টি সেঞ্চুরি। গত আট দিনেই পেয়ে গেলেন তিনটি সেঞ্চুরি। গতকাল ৫০ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর অভিমন্নু ঈশ্বরনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ১৫৪ রানের জুটি গড়েন বিজয়।

যা প্রাইম ব্যাংককে বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বিজয়। তবে সেঞ্চুরি মিস করেছেন অভিমন্নু। ৮৫ রান করেছেন তিনি। বিজয় ১২৮ বলে ১০২ রান (৫ চার, ২ ছয়) করেন। শেষ দিকে আরিফুলের ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রানে ৩০০ পার হয় প্রাইম ব্যাংকের স্কোর। অলক কাপালি অপরাজিত ১৫ রান করেন। আবাহনীর রুবেল, মোসাদ্দেক, নাজমুল অপু, সৌম্য এবং সানজামুল একটি করে উইকেট নেন।

আবাহনীর ব্যাটিং লাইনের জন্য টার্গেটটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ এবার লিগে একবারো ৩০০ রান করতে পারেনি তারা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জহুরুল (০) ফেরার পর সৌম্য-ওয়াসিম জাফর ৬২ রানের জুটি গড়েন। ৩৬ রান করে আউট হন সৌম্য। তারপর ওয়াসিম জাফর-শান্তর ১৩২ রানের জুটিতে জয়ের পথেই ছিল আবাহনী। কিন্তু সেই জুটি ভাঙার পর মিডল অর্ডারে মোসাদ্দেক ছাড়া কেউ দলের হাল ধরতে পারেননি। তাতেই টানা চার জয়ের পর হারের স্বাদ পেল আবাহনী। ওয়াসিম জাফর ৯৪, শান্ত ৭৩, মোসাদ্দেক ৫২, সাব্বির ১০ রান করেন। প্রাইম ব্যাংকের নাহিদুল, রাজ্জাক, আল-আমিন তিনটি করে উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

প্রাইম ব্যাংক: ৫০ ওভারে ৩০২/৫ (বিজয় ১০২, অভিমন্নু ৮৫, আরিফুল হক ৫১*, আল-আমিন জুনিয়র ১৯, জাকির হাসান ১৮, অলক কাপালি ১৫*; মোসাদ্দেক ১/৯, সৌম্য ১/৪১, নাজমুল অপু ১/৫০, রুবেল ১/৫৬, সানজামুল ১/৫৮)

আবাহনী: ৪৮.৫ ওভারে ২৮৬ (ওয়াসিম জাফর ৯৪, শান্ত ৭৩, মোসাদ্দেক ৫২, সৌম্য ৩৬, সাব্বির ১০; আল-আমিন ৩/৪৫, নাহিদুল ৩/৫৬, রাজ্জাক ৩/৫৭, মোহর শেখ ১/২৩)

ফলাফল: প্রাইম ব্যাংক ১৬ রানে জয়ী

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন