ঢাকা শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক নারী ফুটবল

ছয় জাতির টুর্নামেন্ট আগামীকাল শুরু

ছয় জাতির টুর্নামেন্ট  আগামীকাল শুরু
সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গমাতা ফুটবলের শিরোপা জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন কোচ গোলাম রব্বানী ও তার শিষ্যরা -বাফুফে

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট অনেক আগেই শুরু হয়েছে। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে আন্তর্জাতিক (অনূর্ধ্ব-১৯) ফুটবল এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। বঙ্গমাতার নামে প্রাথমিক বিদ্যালয় টুর্নামেন্ট হয়। এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আগামীকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ছয় জাতির অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল টুর্নামেন্ট মাঠে গড়াবে।

দেশের তৃণমূলে স্কুল শিক্ষার্থীদের কাছে বঙ্গমাতা আদরণীয় একটি নাম। সেই নামটি এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলেও পরিচিত হতে যাচ্ছে। মহীয়সী এই নারীর কথা এরই মধ্যে ফুটবলে প্রতি ক্ষণেক্ষণে উচ্চারিত হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টের সুবাদে ইথারে ইথারে ছড়িয়ে যাবে বিভিন্ন দেশের ফুটবলে। বাংলাদেশের অধিনায়ক মিশরাত জাহান মৌসুমী কাল বলছিলেন ছেলেদের জন্য বঙ্গবন্ধু কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়। আর মেয়েদের জন্য এ ধরনের টুর্নামেন্ট ছিল না। বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক ফুটবল হওয়াতে আমরাও সেটিতে খেলার সুযোগ পাচ্ছি। মৌসুমী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মায়ের নামে টুর্নামেন্ট। উনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের অনেক আদর করেন। দেশ স্বাধীনতার পেছনে বঙ্গমাতার অনেক অবদানের কথা আমরা শুনেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এই টুর্নামেন্ট জয় করে ট্রফি উপহার দেওয়া। চ্যাম্পিয়ন হলে উনি আমাদেরকে উপহার দিবেন। যা দেখে অন্যান্য পরিবার ফুটবলের প্রতি আগ্রহ দেখাবে।’ মৌসুমী বলেন, ‘টুর্নামেন্টে আমরা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কামনা করি।

বঙ্গমাতা ফুটবল উপলক্ষে এরই মধ্যে নারী এগিয়ে চলা নিয়ে নাটক প্রচার হয়েছে এবং হচ্ছে। যেখানেই বাধা সেখানেই প্রতিবাদ করার কথাগুলো ইতিহাস থেকে উঠে এসেছে। বঙ্গমাতার অবদানের কথা তুলে ধরা হচ্ছে। খেলার আগে এসব বিষয় ফুটবলারদের চাপে ফেলছে কিনা এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক মৌসুমী বললেন, ‘এটা কোনো বাড়তি চাপ নয়। আমাদের ওপর আস্থা আছে বলেই এত প্রচার প্রচারণা করা হয়েছে।’

মৌসুমী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামতে চাইলেও বাংলাদেশের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন চাইছেন একটা করে ম্যাচে এগিয়ে যেতে। কাল বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলছিলেন, ‘আমরা একটা করে ম্যাচ খেলে এগিয়ে যেতে চাই। প্রথমে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন তারপর সেমিফাইনাল জয় করে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখতে চাই।’

বাংলাদেশের গ্রুপে আরব আমিরাত ও কিরজিস্তান। বাংলাদেশ কাউকে খাটো করে দেখছে না। জুনিয়র ফুটবলে আরব আমিরাতকে হারানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও অন্যান্য ফুটবল ম্যাচের চেয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবল দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য থাকছে। বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল দলের সবাই কম বয়সী খেলোয়াড়। শারীরিক গড়নেও পিছিয়ে রয়েছে। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের। এরাই মূলত অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে খেলছে। এরাই আবার সিনিয়র দলে খেলেছে। এখন অনূর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবলেও খেলবে। প্রতিপক্ষ দলগুলোতে এ ধরনের সমস্যা নেই। বয়সের পার্থক্য মেনে নিয়েই লড়াই করতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। এরই মধ্যে মেয়েরা মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাই ফুটবল খেলে এসেছে। নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছে। এখন ঢাকার মাঠে পরীক্ষা। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন জানালেন, মিয়ানমার এবং নেপালে যেসব ভুলগুলো ছিল তা সারিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হয়েছে। টেকনিক্যাল, ট্যাকটিকেল, সেটপিস, এন্ডুরেন্স, ফরমেশন এসব বিষয়ের উপর কাজ করা হয়েছে।’

অংশগ্রহণকারী

৬ দেশ

‘এ’ গ্রুপ

মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান, লাওস।

‘বি’ গ্রুপ

আরব আমিরাত, বাংলাদেশ, কিরগিজস্তান।

খেলোয়াড়রা হলেন

গোলকিপার রূপনা চাকমা, মাহমুদা আক্তার, ইয়ামিন আক্তার। রক্ষণভাগে ঃ মাসুরা পারভিন, নারগিস খাতুন, আঁখি খাতুন, শিউলী আজিম, মৌসুমী (অধিনায়ক), শামসুন নাহার, নিলফার ইয়াসমিন নীলা, নাজমা আক্তার। আক্রমণভাগে ঃ মারিয়া মান্ডা (সহ-অধিনায়ক), মনিকা চাকমা, ইসরাত জাহান রত্না, মারজিয়া, রাজিয়ান খাতুন, সানজিদা আক্তার, সিরাত জাহান স্বপ্না, কৃষ্ণা রানী সরকার, শামসুন নাহার, সাজেদা খাতুন, তহুরা খাতুন, সুলতানা। * বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা

ফিকশ্চার

২২ এপ্রিল বাংলাদেশ ঃ আরব আমিরাত

২৩ এপ্রিল তাজিকিস্তান ঃ মঙ্গোলিয়া

২৪ এপ্রিল আরব আমিরাত ঃ কিরগিজস্তান

২৫ এপ্রিল মঙ্গোলিয়া ঃ লাওস

২৬ এপ্রিল বাংলাদেশ ঃ কিরগিজস্তান

২৭ এপ্রিল লাওস ঃ তাজিকিস্তান

২৯ এপ্রিল প্রথম সেমিফাইনাল

৩০ এপ্রিল দ্বিতীয় সেমিফাইনাল

৩ মে ফাইনাল

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন