ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
৩১ °সে


বিদায়বেলায় ‘অচেনা’ রোডস

কাচের বাইরে থেকে কথা বলার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধকে পাত্তা দেননি। এমনকি কারো চোখের দিকেই তাকিয়ে দেখেননি তিনি। তবে তার মুখশ্রীতে স্পষ্ট ছিল ‘বঞ্চিত, ব্যথিত, পীড়িত’ মানুষের ছায়া। রোডসের অবয়বই যেন বলে দিচ্ছিল, কত অপমান, বঞ্চনার শিকার হয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি।
বিদায়বেলায় ‘অচেনা’ রোডস

মাশরাফি-তামিমদের সঙ্গেই ঢাকায় ফিরেছিলেন স্টিভ রোডস। ৮ জুলাই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে মিটিংও করেছেন। আবার ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই রোডস নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। কারণ ততক্ষণে বিসিবির সঙ্গে সম্পর্কটা চুকেবুকে গেছে।

গত দুই দিনে ফোন কল, খুদে বার্তায়ও টলানো যায়নি রোডসকে। সাংবাদিকদের ডাকে সাড়া দেননি সদ্য সাবেক হওয়া বাংলাদেশের হেড কোচ। কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গতকাল ১১টা ৫০ মিনিটে বিসিবি কার্যালয়ে আসেন এই ইংলিশ কোচ। এক ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করেছেন চেনা মিরপুর স্টেডিয়ামে। দুপুর ১টার আগেই পাকাপাকিভাবে ছেড়ে গেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের চৌহদ্দি।

রোডসের জন্য অপেক্ষমাণ ছিলেন সংবাদকর্মীরা। বিসিবি কার্যালয় থেকে নিচে নামার পর সাংবাদিকদের অনুরোধ, ডাকাডাকি—সবই উপেক্ষা করেছেন অবলীলায়। গেটের সামনে দাঁড়ানো জাতীয় দলের ম্যাসেজম্যান সোহেলকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। তারপর ঠিক অচেনা মানবের ন্যায় দ্রুতবেগে গাড়িতে উঠলেন রোডস। গাড়ির কাচটা তোলাই ছিল। তিনি সিটবেল্ট বাঁধতে বাঁধতে চলতে শুরু করে গাড়ি।

কাচের বাইরে থেকে কথা বলার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধকে পাত্তা দেননি। এমনকি কারো চোখের দিকেই তাকিয়ে দেখেননি তিনি। তবে তার মুখশ্রীতে স্পষ্ট ছিল ‘বঞ্চিত, ব্যথিত, পীড়িত’ মানুষের ছায়া। রোডসের অবয়বই যেন বলে দিচ্ছিল, কত অপমান, বঞ্চনার শিকার হয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি।

জাতীয় দলের এক ক্রিকেটার জানালেন, গতকাল দুপুর অব্দি তাদেরও বিদায় বলেননি রোডস। কোচের কাছ থেকে কোনো ফোন কল, খুদে বার্তা পাননি তারা।

গতকালের এই বিষণ্ন রোডস বাংলাদেশের জন্য সত্যিই অচেনা। টাইগারদের হেড কোচ হিসেবে গত এক বছরে হাস্যোজ্জ্বল, বিনয়ী, কাজের প্রতি নিবেদিত প্রাণ, সহযোগিতাপরায়ণ রোডসকেই দেখেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। বিসিবি প্রাঙ্গণ, দেশ ও দেশের বাইরে সর্বত্রই একই রূপ ছিল তার। ক্রিকেটার, সাংবাদিক, সমর্থক তথা বাংলাদেশের যে-ই হোক, সামনে পড়লেই সাদরে গ্রহণ করেছেন তিনি। কুশল বিনিময় করেছেন। নিপাট ভদ্রলোক বলতে যা বোঝায়, তার জ্বলন্ত উদাহরণই ছিলেন রোডস।

টেস্ট খেলুড়ে দেশের হেড কোচ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গত বছর বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি। দুই বছরের চুক্তি হয়েছিল। বাংলাদেশের কোচ হতে পেরে অকপটে নিজের গৌরবের কথা বলেছেন। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই রোডসকে বিদায় করে দিল বিসিবি।

বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জের হিসেবে বলির পাঁঠা হলেন রোডস। বিসিবির লজিস্টিকস বিভাগ থেকে জানা গেছে, গতকাল রাতে অ্যামিরেটসের ফ্লাইটে চড়েই ঢাকা ছাড়ার কথা তার।

বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে এত আগ্রহভরে নিকট অতীতে কোন কোচ কাজ করেছেন বলা কঠিন। জাতীয় দলকে ফোকাস করলেও নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট দেখতেন। এইচপি, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলায়ও তার উপস্থিতি ছিল।

গত এক বছরে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্সে চোখ রাখলে রোডসের এই বিদায় বেমানানই লাগবে। তার অধীনে ৩০ ওয়ানডেতে ১৭ জয়, ৭ টেস্টে তিনটি জয় এবং ৬ টি-২০ তে তিনটি জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। গত বছর এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছিল টাইগাররা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে, টি-২০ সিরিজ জিতেছিল। দেশের মাটিতে উইন্ডিজদের বিপক্ষে টেস্ট, ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্টে ড্র করলেও ওয়ানডেতে সিরিজ জিতেছিল। সর্বশেষ গত মে মাসে আয়ারল্যান্ডে প্রথমবার বহুজাতিক টুর্নামেন্টে ট্রফি জয়ের ইতিহাস গড়েছিল টাইগাররা।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনও গতকাল বলেছেন, রোডসের কোচিংয়ে অনেক ভালো স্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। তিনি বলেছেন, ‘আসলে ফলাফল দিয়েই তো কোচের মূল্যায়ন হয়। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু ভালো ফলাফল তো আমাদের ছিল।’ অথচ এমন কোচকেই রীতিমতো অপমান করে বিদায় করল বিসিবি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ অক্টোবর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন