আরেকটি মহাযুদ্ধ কি অত্যাসন্ন?
মুহা. রুহুল আমীন২১ মার্চ, ২০১৭ ইং
আরেকটি মহাযুদ্ধ কি অত্যাসন্ন?
আবারো মহাযুদ্ধের দামামা বাজছে ইউরোপে। ১৬১৮ সালে শুরু হওয়া ত্রিশ বছরের যুদ্ধ, সপ্তদশ শতাব্দীর ভুবন কাঁপানো নেপোলিয়নীয় যুদ্ধ, ১৯১৪ সালের প্রথম মহাযুদ্ধ এবং সর্বোপরি ১৯৩৯ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ বিশ্বসমাজকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বিশ্বশান্তি ও প্রগতি সবসময়ই ব্যাহত হয়েছে ইউরোপের মাটিতে। ইউরোপের দ্বারা এবং ইউরোপের অধিবাসীদের দ্বারা। সভ্যতা নিয়ে বড়াই করার অধিকার হারিয়েছে তারা ঐতিহাসিকভাবে। বর্তমান সময়ে আবারো একটি মহাযুদ্ধের দিকে ধাবিতে হচ্ছে পৃথিবী। ব্রিটেনের ব্রেক্সিট ভোট এবং যুক্তরাষ্ট্রের  উগ্রজাতীয়তাবাদী ও একনায়ক ডোনান্ড ট্রাম্পের নির্বাচনের পর বিশ্ববাসীকে সেই ধ্বংসাত্মক জাতীয়তাবাদের গন্ধ বিকীর্ণ করছে পাশ্চাত্য রাজনীতির রন্ধ্র থেকে। এখনো যদি আন্তর্জাতিক সমাজ সতর্ক না হয়, তা হলে  ইউরোপ ও  আমেরিকা থেকে সৃজিতপ্রায় এ মহা অস্থিরতা অচিরেই আরেকটি মহাযুদ্ধের জন্ম দেবে এবং পৃথিবী চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর পূর্বেকার অবস্থা কি কারো মনে আছে? তদানীন্তন ইউরোপীয় শক্তিগুলোর নোংরা অস্ত্রায়ন প্রতিযোগিতা ও স্বার্থের লড়াই ছিল এ যুদ্ধের অন্যতম কারণ। পূর্বেকার নেপোলিয়নীয় যুদ্ধও ছিল সামরিক সৌর্য ও রাজনৈতিক স্বার্থপ্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা। ১৬১৮ সালের ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধও ছিল ইউরোপের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির লড়াই এবং উন্মত্ত প্রতিযোগিতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও জার্মান ফুরার হিটলার ও ইতালির জাতীয়তাবাদী মুসোলিনির বিপক্ষে বিবদমান ইউরোপীয় স্বার্থগোষ্ঠী এবং তাদের জাতভাই যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত স্বার্থরক্ষার আন্দোলনের ফল।  আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ঘটে যাওয়া গত ৫০০ বছরের এ সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ-দ্বন্দ্বের ইতিহাস থেকে অনুধাবন করা যায়, কীভাবে ইউরোপীয় বর্বরতা মানবজাতির ওপর যুদ্ধ ও ধ্বংসের অভিশাপ চাপিয়ে দিয়েছে এবং এখনো বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় ইউরোপ ও নব্য আমেরিকা বিশ্বসমাজের সুখের নিঃশ্বাস কেড়ে নিচ্ছে।

গত ১৮ মার্চ বিবিসির খবর থেকে জানা যায় যে, ন্যাটো অঞ্চলের সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদার করতে ব্রিটিশ সেনাদের প্রথম দলটি বাল্টিক দেশ এস্তোনিয়ায় পৌঁছেছে। অক্সফোর্ড শায়ারের রয়াল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটি থেকে ১২০ জন সৈন্যের এ বহর এস্তোনিয়ার উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠে।  আগামী এপ্রিল মাসেই এস্তোনিয়ায় ব্রিটিশ সেনাদের সদর দপ্তর স্থাপিত হবে এবং সেখানে আরো ৭০০ সৈন্য গিয়ে মোট ৮০০ সৈন্যের সমভিব্যহারে এ দপ্তর সুসজ্জিত হবে। স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের কোনো দেশে যুক্তরাজ্য এই প্রথম এত বেশি সৈন্য মোতায়েন করেছে বলে খবরে বলা হয়েছে। জার্মানি থেকে ফেরিতে তোলা হয়েছে ব্রিটিশ চ্যালেঞ্জার-২ ট্যাংক, এএস-৯০ স্বচালিত অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান এবং মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে (২০১৭) সেগুলো এস্তোনিয়া পৌঁছাবে।

অত্রাঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোও। ২০১৪ সালে ইউক্রেন সংঘাতের সূত্র ধরে তার কাছ থেকে রাশিয়া নিজের সঙ্গে ক্রিমিয়াকে যুক্ত করে নেওয়ার পর থেকে অত্রাঞ্চলে স্বার্থ ও প্রভুত্ব রক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলো সামরিক প্রতিযোগিতায় প্রমত্ত খেলায় মেতে ওঠে। লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া—এ তিনটি বাল্টিক রাজ্যসহ পোল্যান্ডে তারা সৈন্য প্রেরণ করতে থাকে। পাঠক নিশ্চয়ই ভুলে যাননি যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানির পোল্যান্ড আক্রমণ যুগান্তকারী ঘটনা ছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতি নির্ধারকও ছিল।

যুুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়ে জাতীয়তাবাদী ট্রাম্প ন্যাটো জোটের মনে বেশ অবিশ্বাস ও সংশয়ের জন্ম দিলে অত্রাঞ্চলে ইউরোপীয় স্বার্থবাদী রাষ্ট্রাগুলো চিন্তিত হয়ে পড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঙ্গা হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া, ভারত-পাকিস্তান, আরব-ইসরাইল ও কোরিয়াসহ অন্যান্য বিশ্ব বিবাদসমূহ। আফ্রিকার দুর্ভিক্ষ, মধ্যপ্রাচ্যের শরণার্থী সংকট, এবং বৈশ্বিক জলবায়ু ইস্যুর মতো বতর্মান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকটগুলো অবজ্ঞা করে পাশ্চাত্য শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো কেবল হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে সামরিক প্রতিযোগিতায় নিয়োজিত হয়ে বিশ্বকে আরেকটি মহাযুদ্ধের কিনারায় ঠেলে দিচ্ছে বলে অনুমিত হচ্ছে। যদিও বলা হচ্ছে যে, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন এবং ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের মিত্র রাষ্ট্রদের আশ্বস্ত করতে এ সামরিক প্রস্তুতি চলছে; কিন্তু এর অন্তর্নিহিত তাত্পর্য বৈশ্বিক, যা বিশ্বযুদ্ধের হুমকি তৈরি করছে প্রতিনিয়ত।

হিটলারের পর জার্মানি সামরিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখলেও এখন দেশটি পুনরায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধির উন্মত্ততায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ট্রাম্প ন্যাটো জোটকে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানালে জার্মানি সেই সুযোগ তার সামরিক নিরপেক্ষতায় দেয়াল ভাঙতে শুরু করে। ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ এবং ‘ফরেন পলিসি’ পত্রিকা দুটি দাবি করেছে যে, ট্রাম্পের নির্বাচনের পর বৈশ্বিক স্বার্থসিদ্ধিতে যাতে জার্মানি বঞ্চিত না হয়, সে কারণে দেশটি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে উঠে-পড়ে লেগেছে। রুশ সীমান্তের কাছে এবং লিথুনিয়ায় জার্মানির সৈন্য সমাবেশ লক্ষণীয় মাত্রায় বাড়তে শুরু করেছে। ২০টি সাঁজোয়া যান, ছয়টি ট্যাংক, ১২টি বক্সার সাঁজোয়া যান ইতোপূর্বে পাঠানো হয়েছে। ন্যাটো জোট জার্মানির এ অভিযানকে জার্মানির ‘সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী সামরিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। লিথুনিয়াসহ বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড এবং নরওয়েতেও জার্মান সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপের মতে, ৫৫ শতাংশ জার্মান সামরিক ব্যয় বাড়ানোর বিপক্ষে থাকলেও ৪২ শতংশ পক্ষে ভোট দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ২ শতাংশ সামরিক ব্যয় বাড়ানোয় রাজি হয়েছে জার্মানি এবং ২০১৬ সালেই দেশটি সামরিক বাজেট ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং ২০২৪ সালের মধ্যে জার্মানির সামরিক বাহিনীর সংখ্যা দুই লাখে উন্নীত করা হবে বলে দেশটি পরিকল্পনা করেছে। গত বছরের জুন নাগাদ জার্মানির সামরিক বাহিনীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ এবং গত ২৬ বছর ধরে কমানো সামরিক বাজেট তারা সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং আরটির বিশ্লেষণে জার্মানির ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসনের বিষয়টি উঠে এসেছে।

ইউরোপে প্রভাব বলয় বিস্তারের যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। ন্যাটো জোটের ব্যাপারে ট্রাম্পের পরিবর্তিত নীতির কারণে লিথুয়ানিয়াসহ বাল্টিজ রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তাহীনতার শিকার হলে জার্মানি আক্রমণে প্রভুত্ব বিস্তারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সৈন্য সমাবেশ করছে বলে ধারণা করা যায়। দীর্ঘদিন রুশ বলয়ে থাকা লিথুয়ানিয়া এখন শক্তিশালী জার্মানির দিকে ঝুঁকছে।

বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান প্রচারিত সংবাদের মাধ্যমে জানা যায় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহত্ মানবিক সংকটে পতিত হয়েছে এখনকার পৃথিবী। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়ায় কমপক্ষে ২ কোটির বেশি মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। উন্নত ধনী দেশের শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক জলবায়ু সমস্যার কারণে আফ্রিকাসহ অন্যত্র খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। সিরিয়াসহ আফ্রো-এশীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে গিয়ে নানামুখী ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, শরণার্থী সমস্যাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ অসনাতনী নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে। গত এক বছরে আফ্রিকার চার কোটির চেয়ে বেশি মানুষ খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান স্টিফেন ও ব্রায়ান এ সকলকে ১৯৫৫ সালের পর পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন।

উপযুক্ত বর্ণনা থেকে আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রতি সনাতনী এবং অসনাতনী দু’ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে দেখছি এবং তা আস্তে আস্তে মহাযুদ্ধের করাল থাবায় বিস্তৃতির দিকে পৃথিবীকে নিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপ জাত এ নিরাপত্তা হুমকি বহুমুখী এবং ইউরোপ আমেরিকার শক্তিমান রাষ্ট্রগুলোর বহুমুখী স্বার্থ আদায়ের প্রচেষ্টার ফল হিসেবে সে হুমকিগুলো গ্রন্থিত হচ্ছে।

ইউরোপের ভূমি থেকে অতি দ্রুত যে মহাযুদ্ধের মহড়া শুরু হতে যাচ্ছে তা বোঝা যায় তুরস্ক ও ইউরোপের মধ্যকার সাম্প্রতিক বাকযুদ্ধ ও হটকারী বক্তব্য আদান প্রদানের মধ্যে। তুরস্কের সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের আগে তুরস্ক সরকারের নির্বাচনী প্রচারণায় কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জার্মানি ও নেদারল্যান্ড যুদ্ধংদেহী আচরণ প্রকাশ করেছে। একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি মোটেই কাম্য ছিল না। এর প্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ১৯৯৫ সালে বলকান যুদ্ধের সময় বসনিয়ার সেব্রেনিত্সা গ্রামের আট হাজার মুসলিমকে হত্যার জন্য নেদারল্যান্ডসকে দায়ী করে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। বিবিসির ১৭ মার্চের খবরে ইইউ ও নেদারল্যান্ডস এরদোয়ানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ফুটে উঠেছে।

উল্লেখ্য, সেব্রেনিত্সা হত্যাযজ্ঞের জন্য জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনালে সার্বদের বিচার চললেও ঘটনাটি নেদারল্যান্ডসের জন্য কাঁচা ঘায়ের মতো, যাতে নুনের ছিটা দিলেন এরদোয়ান। ঐ গণহত্যার দায় স্বীকার করে ২০০২ সালে নেদারল্যান্ডসের সরকার পদত্যাগ করে। কারণ ঐ গ্রামে ১১০ জন ডাচ সৈন্য হালকা অস্ত্র নিয়ে পাহারারত ছিলেন এবং তারা সেব্রেনিত্সা হত্যার বিরুদ্ধে কোনো রকম পাহারা না দিয়ে সার্বদের হত্যাযজ্ঞে সহায়তা করেছে বলে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। তুরস্ক সরকার নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকে নািস আচরণ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে সবচেয়ে মারাত্মক যুদ্ধাবস্থার ইমেজ দেখাচ্ছে গত ১৭ তারিখে তুর্কি প্রেসিডেন্টের এক মন্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ইইউ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, ইউরোপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে তুরস্কের অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের প্রচার চালানোয় কূটনৈতিক বাধা দেওয়ার ঘটনাকে এরদোয়ান ক্রস ও অর্ধচন্দ্রের মধ্যকার যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করছেন। বস্তুত ইউরোপের মহাযুদ্ধের অশনিসংকেত দেখাচ্ছে এ সকল ঘটনাগুলো।

ইউরোপ হতে সৃষ্টিত সম্ভাব্য মহাযুদ্ধের আরেকটি প্রাকচিত্র উদ্ভাসিত হচ্ছে ফিলিস্তিন ইসরাইলের দ্বন্দ্ব নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার প্রেক্ষিতে। ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলের অমানবিক অত্যাচারের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের অধীনে তৈরিকৃত একটি রিপোর্টে  ইসরাইলকে গণহত্যাকারী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঐ রিপোর্টটিকে প্রকাশ না করতে মহাসচিব উপযাচক হয়ে কমিশন প্রধানকে চাপ দিয়েছেন। ফলে তিনি পদত্যাগ করে বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের প্রতি জাতিসংঘ তথা ইউরোপ ও আমেরিকায় বৈরী মনোভাবের প্রমাণ তৈরি করেছেন। অপর দিকে, মিয়ানমারে সংঘটিত বৌদ্ধ মৌলবাদী ও সরকারের অমানবিক নির্যাতনের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘে উত্থাপিত একটি সাম্প্রতিক নির্যাতনের প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে চীন ও রাশিয়া বিশ্ব মুসলিমদের হূদয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

সবকিছু মিলে পৃথিবী এখন যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের মোহনায়। বিশ্ব সমাজ দায়িত্ব নিয়ে যদি বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকিগুলোকে মোকাবিলা না করে তাহলে ইউরোপ থেকে সৃজিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা হুমকিগুলো বিস্ফোরিত হয়ে মহাযুদ্ধের রূপ গ্রহণ করতে পারে। সেই মহাযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে আত্মরক্ষার কবজ পরতে হবে এখন এবং এখনই।

n লেখক : প্রফেসর, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ মার্চ, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪৬
যোহর১২:০৬
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৬
সূর্যোদয় - ৬:০২সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পড়ুন