চালের দাম কমানো প্রয়োজন
মো. নিজামউদ্দিন২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য হচ্ছে ভাত। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালিরা ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ নামে পরিচিত। শিল্প ও সেবাখাতের বিকল্পের পরও এখনো উল্লেখযোগ্য লোক কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। সম্প্রতি চৈত্র মাসে হঠাত্ করেই দেখা দেয় অতিবৃষ্টি। একটানা দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় হাওরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বোরো ধান। বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় হাহাকার। এই সুযোগে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাড়িয়ে দিয়েছে চালের দাম। হঠাত্ করেই সবধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন-আয়ের মানুষরা। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় তাদের পক্ষে এই দামে চাল কিনে জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। খেটে-খাওয়া মানুষ যারা সারাদিন পরিশ্রম করে একেবারেই স্বল্প বেতন পান তাদের পক্ষে দুই হাজার টাকা দিয়ে চালের বস্তা কিনে পরিবারের খাদ্যসহ অন্যান্য ব্যয় বহন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছি।

সরকার অতিশিগগিরই চালের দাম না কমালে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের না খেয়ে থাকতে হবে। সরকারের হস্তক্ষেপে স্থানীয় পর্যায়ে চালের বাজারে মনিটরিং শুরু হলে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চাল বিক্রি করতে পারবে না। ফলে নিম্ন-আয়ের মানুষরা অল্প দামেই চাল পাবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় যেসব অসাধু মিল মালিক ধান মজুত রেখে বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এদের খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিলে অন্যরা সচেতন হবে। চালের দাম বাড়ানোর আগে মোবাইল কোর্টের শাস্তি দেওয়ার কথা মনে করে পরবর্তীতে চালের দাম বাড়াবে না অসাধু ব্যবসায়ীরা। গরিব কৃষকদের মধ্যে যারা ঋণ নিয়ে বোরো চাষ করেছে তাদের এই বছরের ঋণ মওকুফ করে দেওয়া প্রয়োজন। কেননা যে সকল কৃষক ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন অতিবৃষ্টিতে তাদের প্রায় সকলেরই ধান তলিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় ঐসব কৃষকের পক্ষে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছি। আগের ঋণ মওকুফ করে আবারো সরকারি নিয়মে স্বল্প মুনাফায় ঋণ দেওয়া হোক।

অন্যদিকে সরকারি পর্যায়ের চাল বিতরণ দুর্নীতিতে ভরপুর। দেখা যায় যে লোক গরিব একেবারে খেতে পারে না সে অনুদানের চাল পায় না, কিন্তু যে ব্যক্তি নিম্ন মধ্যবিত্ত সে ঐ চাল পাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে গরিবরা সরকারি অনুদানের চাল পায় না। এছাড়া বর্তমানে সরকারিভাবে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু এই চাল কেনার কার্ড অপেক্ষাকৃত গরিবদের না দিয়ে মধ্যবিত্তদের দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারের এই অনুদান জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাতে স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দ্বারা এসব গরিবের তালিকা মনিটরিং করে দেখতে হবে আসলে এরা ঐ চাল পাওয়ার যোগ্য কি না। মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকৃত গরিবদের বিনামূল্যে এবং ১০ টাকা কেজি দরের চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করছি।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ইংরেজি অনার্স (২য় বর্ষ), মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন