ঢাকা শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
১৮ °সে

তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাপে ট্রাম্প

তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা  আরোপ করতে চাপে ট্রাম্প
রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা —ফাইল ছবি

রয়টার্স ও আল জাজিরা

রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনায় তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর চাপ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এসব তত্পরতাকে পাত্তা না দিয়ে রাশিয়া থেকে শিগিগরই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বিতীয় চালান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক।

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা নিয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানান দেশটির দুই প্রভাবশালী সিনেটর। এরা হলেন রিপাবলিকান দলীয় সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্রেট দলের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর কাছে লেখা এক চিঠিতে এ দুই সিনেটররা বলেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ব্যর্থ হলে তা অন্য দেশগুলোর কাছে ভয়াবহ বার্তা দেবে। তারা বলেন, ধৈর্যের সময় অনেক আগেই পার হয়ে গেছে। এখন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ঐ চিঠিতে সিনেটররা আরো বলেন, তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা না হলে অন্যরা এ ধারণা করবে যে, কোনো রকমের পরিণতি বরণ করা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করা যায়।

এদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে শিগিগরই এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দ্বিতীয় চালান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ উপেক্ষা করেই এ ঘোষণা দিল আঙ্কারা। সোমবার রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম আরআইএর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এস-৪০০ কেনার পরিকল্পনা স্থগিত না করলে ওয়াশিংটন তুরস্কের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়ার পরও আঙ্কারার পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের একজন শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্মকর্তা বলেছেন, কারিগরি কারণে এস ৪০০-এর দ্বিতীয় দফা চালান আনার বিষয়টি বন্ধ ছিল। আমার মনে হয় অচিরেই ঐ চালান আসা শুরু করবে। গত নভেম্বরে রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সমরাস্ত্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান বলেছিলেন, এর আগে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী তুরস্ককে এস-৪০০ ব্যবস্থার বাকি অংশ সরবরাহের কাজ ২০২০ সালের প্রথমার্ধে সম্পন্ন হবে।

মার্কিন হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার কাছ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে আঙ্কারা। গত জুলাই মাসে এর প্রথম চালান হাতে পায় তুরস্ক। রাশিয়া ৩০টি বিমানে করে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো আঙ্কারার কাছে হস্তান্তর করে। তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২০ সালের এপ্রিল নাগাদ এ ব্যবস্থা মোতায়েন শেষ হতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন