বাবার ‘ঘোড়া রোগ’

প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একসময়ে বড়ো বাড়ি ছিল গ্রামে। লোকে জানত ‘মিঞাবাড়ি’ নামে। আশপাশের লোকে সম্মানও করত। তার ঘোড়ায় চড়া শুরু কৈশোরেই। জমিদারি চলে যাওয়ার পরে লাগোয়া একটি মাটির বাড়ি ও মিঞাবাড়ির অল্প জমি ছাড়া কিছু মেলেনি ভাগে; কিন্তু তাতে রাশ পড়েনি ঘোড়ায় চড়ায়। গায়ে আতর মেখে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবিতে ঘোড়ার পিঠেই আজীবন ঘুরে বেড়িয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের রাজখাঁড়া গ্রামের জামাল শেখ। ভিন জেলা তো বটেই, ঘোড়া ছুটিয়ে পাড়ি দিতেন তিনি ভিন রাজ্যেও। সপ্তাহখানেক আগে ঘোড়ার পিঠ থেকেই পড়ে মৃত্যু হয় বছর পঁচাত্তরের বৃদ্ধের। তার পরেই বিপাকে পড়েছেন জামালের চার ছেলে। আজীবন একাধিক ঘোড়া কেনা, সেগুলির দেখভালে সাধ্যাতীত খরচকে বাবার ‘ঘোড়ারোগ’ বলেই ভেবে এসেছেন ছেলেরা; কিন্তু সেই ঘোড়াই এখন তাদের কাছে বাবার স্মৃতি। জামালের বড়ো ছেলে মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমাদের অবস্থা শাঁখের করাতের মতো। বাবার শখ মেটাতে গিয়ে কিছুই করে উঠতে পারিনি। এখনো ঘোড়া কেনার ঋণ রয়েছে। আবার বাবার স্মৃতি ফেলতেও পারছি না।’ —আনন্দবাজার পত্রিকা