মে’র ব্রেক্সিট চুক্তির প্রতি সমর্থন জানালেন অ্যাবে

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বিবিসি ও রয়টার্স

লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে

চুক্তিহীনভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনকে প্রত্যাহার না করার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। এ দিকে, আগামী সপ্তাহে মে পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি পাসে ব্যর্থ হলে, নতুন করে জাতীয় নির্বাচন চাইবেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন।

বৃহস্পতিবার লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুরো বিশ্বই যুক্তরাজ্যের কাছে এটি চাইছে। ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে থেরেসা মে যে প্রত্যাহার চুক্তি দিয়েছেন, তার ব্যাপারে জাপানের পূর্ণ সমর্থন থাকবে বলে অঙ্গীকার  ব্যক্ত করেন অ্যাবে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো চাঙ্গা করার আশা জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের বাজারে প্রবেশে যুক্তরাজ্যই জাপানের প্রবেশ দরজা। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে ব্রিটেনকে সবটুকু সমর্থন দেবে জাপান।

ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে মে যখন বারবার হাউস অব কমন্সে হোঁচট খাচ্ছেন, সেই সময় অ্যাবের এই পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা তার জন্য একটি আশার আলো। ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অ্যাবের ব্রিটেন সফর গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে দেড় লাখ ব্রিটিশ নাগরিকের কর্মসংস্থান করছে জাপান।

এ দিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, আগামী সপ্তাহে মে পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি পাসে ব্যর্থ হলে তিনি নতুন একটি গণভোট করার চেয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনই চাইবেন। ব্রেক্সিট চুক্তিটি নিয়ে ১৫ জানুয়ারিতেই পার্লামেন্টে এমপিদের ভোট হওয়ার কথা আছে। করবিন বলেছেন, তিনি চুক্তির বিপক্ষেই ভোট দেবেন। আর পার্লামেন্টে অন্যান্যদের ভোটে চুক্তিটি পাস না হলে নতুন করে একটি জাতীয় নির্বাচন দেওয়াই উচিত বলে মত তার। তবে মে নির্বাচন না ডাকলে তখন লেবার পার্টি গণভোটের পথে যেতে পারে বলে জানান করবিন।

ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্সে আগামী সপ্তাহের ব্রেক্সিট ভোটে মের চুক্তিটি পাস না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। কারণ, মের নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপিরাসহ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিতে তার মিত্ররাও এ চুক্তির বিরোধী। এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা করবিন বলেন, ‘একটি সরকার তার কাজে হাউজ অব কমন্সের স্বীকৃতি পেতে না পারলে সেটি কোনো সরকারই না।  মে, আপনি চুক্তির ব্যাপারে এতটা আস্থাশীল হয়ে থাকলে, নির্বাচন ডাকুন এবং জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে দিন।’