ঢাকা মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬
২৮ °সে


ব্রিটেনে পড়ালেখা শেষে আরো দুই বছর থাকার সুযোগ ফিরল

ব্রিটেনে পড়ালেখা শেষে আরো  দুই বছর থাকার সুযোগ ফিরল

ব্রিটিশ হোম অফিসের ঘোষণা করা নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মসংস্থানের জন্য দুই বছর যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

এর ফলে ২০১২ সালে তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মের নেওয়া সিদ্ধান্তকে পালটে দেওয়া হচ্ছে। থেরেসা মে নিয়ম করেছিলেন যে, স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার মাসের বেশি ব্রিটেনে অবস্থান করতে পারবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, নতুন পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের নিজেদের সক্ষমতা বুঝতে এবং যুক্তরাজ্যে নিজেদের পেশা গড়ে নিতে সহায়ক হবে। কিন্তু মাইগ্রেশন ওয়াচ নামে একটি প্রচারণা গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে ‘পশ্চাদ্মুখী’ বলে উল্লেখ করেছে।

যেসব শিক্ষার্থী আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্যে স্নাতক পর্যায়ে কিংবা তার থেকে উঁচু কোনো ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা শুরু করবেন, তারা এই পরিবর্তিত নিয়মের সুযোগ পাবেন। কিন্তু এখানে শর্ত থাকবে, তারা যেনতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন না। শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ পাবেন, যাদের ভর্তির ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ইতিহাস রয়েছে।

‘বিশ্বের উজ্জ্বল ও মেধাবীদের জন্য যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা আর কাজ করার জন্য সুবিধা উন্মুক্ত না হলে এটি অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর এজন্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সক্ষমতা চিহ্নিত করা এবং যুক্তরাজ্যে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ দিতে নতুন রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি পাটেল বলেন, এই সিদ্ধান্ত সরকারের ‘বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি’র প্রকাশ। নতুন প্রস্তাবনার আওতায়, শিক্ষার্থীরা কী ধরনের কাজ বা কতটি কাজ করতে পারবেন তার ওপর কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না। টেরিজা মে ২০১২ সালে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে অভিবাসন-নীতিতে পরিবর্তন আনেন।

‘অভিবাসন নিয়ে সরকারের নতুন কোনো পদক্ষেপের প্রমাণ যদি চান, তাহলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের দুই বছর থাকতে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তই সেই প্রমাণ,’ বলেন বিবিসির মার্ক ইস্টন। ‘যেখানে টেরিজা মে অভিবাসন-নীতি নিয়ে একটি বৈরী পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল মোট অভিবাসনের পরিমাণ কমিয়ে আনা, সেখানে বরিস জনসন সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বুদ্ধিদীপ্ত এবং সেরাদের বৈশ্বিক ব্রিটেনে এসে বাস করতে উত্সাহী করছেন।’ ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী অ্যালেস্টার জারভিস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে লাভবান করবে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের সুনাম ফিরিয়ে আনবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন