করোনাকালে ঢাবি শিক্ষার্থী জহিরুলের অনন্য উদ্যোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আলো ছড়াচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সংশপ্তক

করোনাকালে ঢাবি শিক্ষার্থীর অনন্য উদ্যোগ
দুঃস্থ বিধবা মহিলাকে চৌচালা ঘর বানিয়ে দিয়েছেন ঢাবি শিক্ষার্থী জহিরুল

করোনা ভয়ে যখন পুরো পৃথিবীর সবাই নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখতে ঘরবন্দী হলো, সেসময়ও মানুষের সেবায় থেমে থাকেননি বেশ ক'জন তরুণ। তেমনি একজন নাঙ্গলকোটের জহিরুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত তিনি। দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের।

অদৃশ্য ভাইরাসে আক্রান্ত হবার শঙ্কা যখন সবাইকে কাবু করে দিচ্ছিল, তখন ভয়কে জয় করে অন্যের সেবায় মাঠে নামেন তিনি। শুধু তাই নয়, সঙ্গে শামিল করলেন নিজ উপজেলা নাঙ্গলকোটের ১৩ জন ডাক্তার, ৮০০ এর অধিক সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ৪১ জন মেডিকেল শিক্ষার্থীকে। তাঁরা সকলে মিলে করোনা সংকট মোকাবেলায় ও মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে গড়ে তুললেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সংশপ্তক’। এই সংগঠন এখন নাঙ্গলকোট উপজেলায় আলো ছড়াচ্ছে।

জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলায় করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রথম দিকে নাঙ্গলকোটে একসাথে ১ হাজার ৭০০ অসহায় ও দরিদ্র কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, উপজেলার বাজারে ও গ্রামে জীবাণু নাশক প্রয়োগ, জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, মাস্ক বিতরণ, সকলের মাঝে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমসহ নানা কার্যক্রম চালায় সংগঠনটি।

দ্বিতীয় পর্যায়ে গঠন করা হয় 'হ্যালো সংশপ্তক' নামে মুঠোফোনভিত্তিক সেবা। ফোন দিলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌছে দেয়ার কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবীরা। উপজেলার মধ্যবিত্ত কর্মহীন পরিবার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পড়ুয়া অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে জরুরী উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায় ৭৮ জনের অধিক কর্মহীন মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ৪৪ জনের বেশি অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর মাঝে খাবার, নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার এক বিধবা মহিলা পাঁচ মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন, এমন খবর শুনে সেই বিধবা মহিলার পাশে দাঁড়ান জহিরুল ইসলাম। দুইদিন ধরে অনাহারে থাকা মহিলাটির বাড়িতে পৌঁছে দেন খাদ্যসামগ্রী। পাশাপাশি চৌচালা বিশিষ্ট একটি ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। মহিলার ছোট মেয়ের পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেন। উপজেলা আরেক এতিম শিক্ষার্থীর পড়াশোনারও দায়িত্ব নেন তিনি।

'সংশপ্তক অক্সিজেন সেবা' নামে আরও একটি সেবা চালু করা হয় জহিরুলের উদ্যোগে। করোনায় আক্রান্তদের সেবা দেয়ার কারণে অনেকক্ষেত্রেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের অপ্রতুলতা দেখা দেয়ায় অন্য রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়।

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমি এমন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু আমি ভাবতে পারিনি সংশপ্তক দ্রুত এতটা এগোবে। নাঙ্গলকোটের সাধারণ শিক্ষার্থী, জনগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনসহ সকলেই আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার লামইয়া সাইফুল ‘সংশপ্তক’ সম্পর্কে বলেন, দেশের এমন দুর্যোগকালীন সময়ে সংগঠনটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছে। ঢাবি শিক্ষার্থী জহিরুল ইসলাম অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। তারা যে সহায়তামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন কার্যক্রমে সব তরুণদের এগিয়ে আসা উচিত।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত