শান্তর স্বপ্ন

শান্তর স্বপ্ন
শান্ত চৌধুরী

ছবি বলে জীবনের নানা গল্প। ফ্রেমে বন্দী করে হাজারো স্মৃতি। সেইসব স্মৃতি ধরে রাখার যন্ত্রের পেছনে থাকেন অনেক কারিগর, যাদের নিপুণ হাতে তোলা আলোকচিত্রে, প্রকৃতির মোহনায় হারিয়ে যাওয়া অপার সৌন্দর্যের ক্যানভাসে মুগ্ধ হন অনেকেই।

বলছিলাম কুমিল্লার কৃষ্ণনগরের চৌধূরী বাড়ির এক ছবি পাগল তরুণের গল্প। তার পুরো নাম শান্ত চৌধুরী। শৈশবে ইচ্ছা ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে মানবসেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত করা। তবে মাধ্যমিক পড়ার সময় ছবির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ জন্মায়। শান্তর বাবা শাহীন চৌধুরীর ছিল একটি ডিজিটাল ক্যামেরা। শান্ত হাতে তুলে নিলেন বাবার ক্যামেরাটি। গ্রামের সবুজ শ্যামল প্রকৃতি, সূর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য কিংবা তীব্র শীতে কুয়াশার চাদরে ঢাকা মেঠোপথে স্কুলগামী শিশুদের হেঁটে যাওয়া—এসব জুড়েই বাবার ক্যামেরা হাতে নিয়ে ছুটে বেড়ানোর সময়টা যেন ছিল পরম তৃপ্তির। এক পর্যায়ে শখ থেকে তা পরিণত হয় নেশায়।

স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর খানিকটা পর জমানো টাকায় কিনলেন একটি ডিএসএলআর। তবে ডিএসএলআর-এ কীভাবে ছবি তুলতে হয় তা ঠিকভাবে রপ্ত করতে পারছিলেন না তিনি। ফেসবুকে প্রীত রেজার ফটোওয়ার্কের অনুসরণ করতেন। এক আলোকচিত্রী প্রতিবেশীরও শরণাপন্ন হয়েছিলেন। একপর্যায়ে পরিবারকে না জানিয়ে ভর্তি হন রাজধানী ঢাকায় ওয়েডিং ডায়েরি স্কুল অব ফটোগ্রাফিতে। বাড়ি থেকে লুকিয়ে গিয়ে ওয়ার্কশপে অংশ নিতেন। দীর্ঘযাত্রার ক্লান্তি তাকে দমাতে পারত না।

প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর প্রীত রেজার সাথে কাজের সুযোগ হয়। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! এরপর খুব দ্রুতই পড়াশোনার পাশাপাশি এই ফটোগ্রাফির নেশাকে উপার্জনের পেশায় পরিণত করার পর পরিবারও এতে সম্মতি দেয়। এরপর আর তাকে থেমে থাকতে হয়নি।

শান্ত বলেন, ফটোগ্রাফি নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। ভবিষ্যতে নিজের ক্যামেরায় তোলা ছবি দিয়ে পুরো বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চান এই তরুণ।

ইত্তেফাক/এসটিএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত