কেশবপুরের উন্নয়নে একঝাঁক তরুণ

কেশবপুরের উন্নয়নে একঝাঁক তরুণ
কেশবপুরের উন্নয়নে একঝাঁক তরুণ। ছবি: সংগৃহীত

গল্পের শুরুটা ২০০৩ সালে। যশোর জেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেশবপুর পাইলট স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন এক ঝাঁক কিশোর। তারাই কর্মজীবনের শুরুতে এসে ছড়িয়ে পড়েন দেশ-বিদেশে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা ব্যস্ত যুবকরা একসময় ভাবতে শুরু করলেন তাদের নিজ এলাকার অনগ্রসর মানুষদের কথা, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম দিলেন ‘কেশবপুর পাইলট স্কুল-০৩ সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি লি.’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের।

কেশবপুরবাসীর বেকারত্ব দূরীকরণ, আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং সমাজকল্যানমূলক কাজ করার উদ্দেশ্য নিয়ে সদস্যরা অর্থ জমানো শুরু করেন। ২০১৮ সালে সদস্যরা সমবায় অধিদপ্তরে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন। সদস্যদের এই উদ্যোগ বিভিন্নভাবে প্রশংসিত হয়। সমবায় অধিদফতর থেকে দেওয়া হয় রেজিস্ট্রেশন।

বর্তমানে ৩২ সদস্য আছেন এই সমিতিতে। এই মুহূর্তে তারা দেশি ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য পাইলটিং শেষ করেছে। একই সঙ্গে দেশি বুনো বা জালালী কবুতরের জাত সংরক্ষণ ও স্কোয়াব হিসেবে মাংসের চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করছে। ২০০ গাছ বিশিষ্ট দেশি কাগজী লেবুর ছোট একটি বাগান করেছেন তারা। চলছে ঘাস চাষ। বিভিন্ন ধরনের উদ্যান ফসল চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া হাঁস ও তিতির পাখি পালনের জন্য আধুনিক শেড নির্মাণ করা হয়েছে। শিগগিরই হাঁস, মুরগী আর তিতির পাখির পাইলটিংও শুরু হবে।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ১০টি ছাগলের মাধ্যমে প্রকল্পের যাত্রা শুরু। বর্তমানে প্রায় ৩০টি ছাগল ও দুইটি পাঁঠা আছে। সেই সঙ্গে আছে ১০০ জোড়া কবুতর। পাশাপাশি ৩০০ হাঁস ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটা আধুনিক শেড ইতোমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। চলতি বছরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১০০ বেইজিং হাঁস পালন শুরু করা হবে। ৪৫০ বর্গফুট জায়গা বিশিষ্ট একটা আধুনিক শেড তৈরি করা হয়েছে তিতির মুরগী পালনের লক্ষ্যে।

২৫০টি লেবুগাছের একটি বাগান তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে স্বল্পমূল্যে দেশি কাগজি, শিডলেস, পাতি লেবু এবং এলাচী লেবুর চারা দরিদ্র মানুষের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে হলুদ, ওল, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি ও ফসল উৎপাদন অব্যাহত আছে। পশুখাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমানে একবিঘা জমিতে উচ্চ-ফলনশীল পাকচং ঘাসের চাষ করা হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে পশুখাদ্য সহজলভ্য করার জন্য প্রাথমিকভাবে ২ একর জায়গা নিয়ে বৃহৎ আকারে ঘাস চাষ প্রকল্প শুরু করা হচ্ছে। তাছাড়া আশেপাশের ক্ষুদ্র ও ভূমিহীন কৃষকদের পাকচং ঘাস চাষে উদ্বুদ্ধকরণ করার লক্ষ্যে মাঠ প্রদর্শনী, প্রশিক্ষণ ও উৎসাহী কৃষকদের বিনামূল্যে ঘাসের কাটিং সরবরাহ করা হচ্ছে।

সমিতির কার্যক্রম মাত্র ১ বছর সম্পন্ন হয়েছে। এই অতি অল্প সময়ে সমিতির সদস্যরা চেষ্টা করেছেন সমিতির উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কাজ করা। এলাকার চারজন অতি-দরিদ্র ও বেকার যুবকের চাকরির সুযোগ, হত-দরিদ্রদের নিয়মিত চাহিদা-ভিত্তিক খামারে কাজ করার সুযোগ প্রদান, খামারে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য এলাকাবাসীদের বিনামূল্যে সরবরাহ করার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার মাধ্যমে এলাকাবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x