জেদের বশে সংগ্রাহক হয়ে ওঠা!

জেদের বশে সংগ্রাহক হয়ে ওঠা!
মো. মাহির ইয়াসির। ছবি: ইত্তেফাক

‘অনেক আগ থেকেই আমাদের বাড়িতে লোহার একটি সিন্দুক ছিল। বাবার কাছে শুনেছি, সিন্দুকটির মালিক ছিলেন আমার দাদু ভাইয়ের মা। পরবর্তীকালে দাদু সিন্দুকটি ব্যবসার কাজে ব্যবহার করতেন। দাদুর পরে দীর্ঘদিন সিন্দুকটি আর ব্যবহূত হয়নি; স্টোররুমে পড়েই ছিল। একসময় আমাদের পুরোনো আমলের বাড়ি ভেঙ্গে নতুন বাড়ি তৈরির সময় সামনে আসে তালাবদ্ধ সিন্দুকটি। কৌতূহলবশত তালা ভাঙ্গার পরে তার মধ্যে পাওয়া যায় ব্রিটিশ আমলের ২৪টি রুপার মুদ্রা এবং ৮০টি তামার মুদ্রা। কৌতূহল আর খানিকটা আগ্রহ নিয়ে বাবার কাছে মুদ্রাগুলো চাইলে একটা ধমক দিয়ে না করে দেন এবং মুদ্রাগুলো সযত্নে নিজের কাছে রেখে দেন।’-এভাবেই শুরু করেন মাহির।

যার পুরো নাম মো. মাহির ইয়াসির। সবে পড়ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর এবি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে। কে জানত-সেদিনের বাবার ওই ধমক থেকে জন্ম নেওয়া জেদই পাল্টে দেবে তাকে; করে তুলবে মুদ্রা সংগ্রাহক! বাবার ধমক খাওয়ার পর, সেই ক্লাস ফোর থেকে জিদের বশেই মুদ্রা খোঁজা শুরু করেন মাহির। খুঁজতে খুঁজতে একদিন মামাবাড়িতে পান বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ‘দশ’ ও ‘পাঁচ’ পয়সা। এখান থেকেই মূলত মাহিরের সংগ্রহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু। জেদ থেকে সংগ্রহ শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে মুদ্রার প্রতি অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি হয় তার। এরপর পেরিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। এরইমধ্যে সংগ্রহ করেছেন পৃথিবীর বর্তমান ও বিলুপ্ত ১২০টি দেশের প্রায় দেড় হাজার মুদ্রা। আরো সংগ্রহ করেছেন গুপ্ত, মৌর্য, পাল, শুঙ্গ, নাগ, মুঘল, দিল্লিসহ ভারতীয় উপমহাদেশের বেশ কিছু বিলুপ্ত সাম্রাজ্যের মুদ্রাও। সেই ঘটনার বছর তিনেক পর মুদ্রার প্রতি আগ্রহ এবং মুদ্রা সংগ্রহের শখ দেখে মাহিরের বাবা সিন্দুক থেকে প্রাপ্ত সবগুলো মুদ্রাই মাহিরকে দিয়ে দেন। ছেলের সংগ্রহের কাজে এখন নিজেও সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন।

মুদ্রা ছাড়াও মাহির সংগ্রহ করেন বিভিন্ন এন্টিক আইটেম। মুদ্রার পাশাপাশি হঠাত্ এন্টিক আইটেম সংগ্রহের চিন্তা মাথায় এলো কীভাবে-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এর পেছনে বড় নিয়ামক হিসাবে কাজ করেছে প্রত্নস্থানসমৃদ্ধ তার নিজের গ্রাম রহনপুর। নিজের এলাকা থেকেই তিনি সংগ্রহ করেছেন পোড়ামাটির ফলক, মাটির বাটখারা, প্রাচীন ইটের টুকরা, কড়ি, পাথরের থালা ইত্যাদি।

তরুণ এ সংগ্রাহক বলেন, ‘যখন সংগ্রহ শুরু করেছি তখন শখ বুঝতাম না। নিছক জেদের বশে শুরু করা কাজটিই এখন রীতিমত আমার নেশায় পরিণত হয়েছে। ইতিহাসের প্রতি আলাদা রকম দুর্বলতা রয়েছে আমার। হয়তো সেখান থেকেই এসব সংগ্রহের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রিয় শখটি লালন করে যেতে চাই’।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x